মম মায়াময় স্বপনে কার বাঁশি বাজে

বাণী

মম	মায়াময় স্বপনে কার বাঁশি বাজে গোপনে
	বিধূর মধুর স্বরেকে এলো,কে এলো সহসা।।
যেন	স্নিগ্ধ আনন্দিত চন্দ্রালোকে ভরিল আকাশ
	হাসিল তমসা কে এলো,কে এলো সহসা।।
	অচেনা সুরে কেন ডাকে সে মোরে
	এমন ক'রে ঘুমের ঘোরে —
	নব-নীরদ-ঘন-শ্যামল কে এ চঞ্চল
	হেরিয়া তৃষিত-প্রাণ হলোসরসা
		কে এলো,কে এলো সহসা।।
	কভু সে অন্তরে কভু দিগন্তরে
	এই সোনার মৃগ ভুলাতে আসে মোরে,
	দেখেছি ধ্যানে যেন এই সে সুন্দরে
	শুনেছি ইহারি বেণু প্রাণ-বিবশা
		কে এলো,কে এলো সহসা।।

তেমনি চাহিয়া আছে

বাণী

তেমনি চাহিয়া আছে নিশীথের তারাগুলি।
লতা-নিকুঞ্জে কাঁদে আজও বন-বুলবুলি —
	ফিরে এসো, ফিরে এসো প্রিয়তম।।
ঘুমায়ে পড়েছে সবে, মোর ঘুম নাহি আসে
তুমি যে ঘুমায়ে ছিলে সেদিন আমার পাশে,
সাজানো সে-গৃহ তব ঢেকেছে পথের ধূলি —
	ফিরে এসো, ফিরে এসো প্রিয়তম।।
আমার চোখের জলে মুছে যায় পথ-রেখা
রোহিণী গিয়াছে চলি’, চাঁদ কাঁদে একা একা,
কোন্ দূর তারা-লোকে কেমনে রয়েছে ভুলি’ —
	ফিরে এসো, ফিরে এসো প্রিয়তমা।।

বেসুর বীণায় ব্যথার সুরে

বাণী

বেসুর বীণায়	ব্যথার সুরে বাঁধ্‌ব গো
পাষাণ-বুকে	নিঝর হয়ে কাঁদব গো।।
কুলের কাঁটায়	স্বর্ণলতার দুল্‌ব হার,
ফণীর ডেরায়	কেয়ার কানন ফাঁদ্‌ব গো।।
ব্যাধের হাতে	শুনব সাধের বঙশী-সুর,
আস্‌লে মরণ	চরণ ধ’রে সাধব গো।।

ঢের কেঁদেছি ঢের সেধেছি

বাণী

	ঢের কেঁদেছি ঢের সেধেছি, আর পারিনে, যেতে দে তাঁ’য়।
	গ’ল্‌ল না যে চোখের জলে গ’ল্‌বে কি সে মুখের কথায়।।
		যে চ’লে যায় হৃদয় দ’লে
		নাই কিছু তার হৃদয় ব’লে,
	তারে মিছে অভিমানের ছলে — ডাক্‌তে আরো বাজে ব্যথায়।।
		বঁধুর চ’লে যাওয়ার পরে
		কাঁদব লো তার পথে প’ড়ে,
তার	চরণ-রেখা বুকে ধ’রে — শেষ করিব জীবন সেথায়।।

আজি চৈতী হাওয়ার মাতন লাগে

বাণী

আজি	চৈতী হাওয়ার মাতন লাগে হলুদ চাঁপার ডালে ডালে।
	তালী বনে বাজে তারি করতালি ঐ তালে তালে।।
		ভ্রমর মুখে গুনগুনিয়ে
		যায় সে মৃদু সুর শুনিয়ে
	শুকনো পাতার মর্মরে তার নূপুর বাজে রুনুঝুনিয়ে।।
	ফুলে পাতায় রঙ মাখায় সে ফিকে সবুজ নীলে লালে
আজি	ওড়ে তাহার রঙের নিশান প্রজাপতির পাখার পালে পালে।।

রেকর্ড-নাটিকা, ‘বাসন্তিকা’

নিশি-রাতে রিম ঝিম ঝিম বাদল-নূপুর

বাণী

নিশি-রাতে রিম ঝিম ঝিম বাদল-নূপুর
বাজিল ঘুমের মাঝে সজল মধুর।।
দেয়া গরজে বিজলি চমকে
জাগাইল ঘুমন্ত প্রিয়তমকে
আধো ঘুম-ঘোরে চিনিতে নারি ওরে
'কে এলো কে এলো' ব'লে ডাকিছে ময়ূর।।
দ্বার খুলি' পড়শি কৃষ্ণা-মেয়ে আছে চেয়ে'
	মেঘের পানে আছে চেয়ে —
কারে দেখি আমি কারে দেখি
	মেঘলা আকাশ না ঐ মেঘলা-মেয়ে।
ধায় নদী জল মহাসাগর পানে
বাহিরে ঝড় কেন আমায় টানে
জমাট হয়ে আছে বুকের কাছে
নিশীথ-আকাশ যেন মেঘ ভারাতুর।।