আয় ইরানি মেয়ে জংলা-পথ বেয়ে

বাণী

আয় ইরানি মেয়ে জংলা-পথ বেয়ে আয় লো।
	নদী যেমন চাঁদে
	ঢেউ-এর মালায় বাঁধে,
তেমনি চাঁদে বাঁধব চিরুনির মত এলো খোঁপায় লো।।
দুপুর রাতে ঝিঁ ঝিঁ ঝিল্লি-নূপুর বাজে
বেদের বাঁশি কাঁদে বৌ-এর বুকের মাঝে,
কাঁটা দিয়ে ওঠে গোলাপ-লতার গায়ে বুলবুলি কোথায় লো।।
বেদে গেছে বনে গো হরিণী শিকারে,
হরিণ-আঁখি তার প্রেয়সী তাঁবুতে কাঁদে মনের বিকারে।
আমাদের জল্‌সায় সাকি-শিরাজি নাই
আসমানের তারা-ফুল নিঙ্‌ড়ে তাই মধু খাই,
	বঁধূ যখন আসবে
	চেয়ে চেয়ে হাসবে,
কবরীর যুঁই ছুঁড়ে ফেলে দিব পায় লো।।

১. তারই

উঠেছে কি চাঁদ সাঁঝ গগনে

বাণী

উঠেছে কি চাঁদ সাঁঝ গগনে
আজিকে আমার বিদায় লগনে।।
জানালা পাশে চাঁপার শাখে
‘বউ কথা কও’ পাখি কি ডাকে?
ফুটেছে কি ফুল মালতী বকুল —
আমার সাধের কুসুম বনে সাঁঝ গগনে।।
তুলসী তলায় জ্বলেছে কি দীপ
পরেছে আকাশ তারকার টিপ?
হারিয়ে যাওয়া বঁধূ অবেলায়
এলো কি ফিরে দেখিতে আমায়,
ঝুরিছে বাঁশি পিলু বারোয়াঁয় —
কেন গো আমার যাবার ক্ষণে।।

তোরা বলিস্ লো সখি মাধবে মথুরায়

বাণী

তোরা বলিস্ লো সখি, মাধবে মথুরায়
কেমনে রাধার কাঁদিয়া বরষ যায়॥
খর-বৈশাখে কি দাহন থাকে বিরহিণী একা জানে
ঘৃত-চন্দন পদ্ম পাতায় দারুণ দহন-জ্বালা না জুড়ায়
‘ফটিক জলে’র সাথে আমি কাঁদি চাহিয়া গগন-পানে।
জ্বালা না জুড়ায় গো —
হরি-চন্দন বিনা ঘৃত-চন্দনে জ্বালা না জুড়ায় গো
শ্যাম-শ্রীমুখ-পদ্ম বিনা পদ্ম পাতায় জ্বালা না জুড়ায়॥
বরষায় অবিরল ঝর ঝর ঝরে জল জুড়াইল জগতের নারী
রাধার গলার মালা হইল বিজলি-জ্বালা তৃষ্ণা মিটিল না তা’রি!
সখি রে, তৃষ্ণা মিটিল না তা’রি।
প্রবাসে না যায় পতি সব নারী ভাগ্যবতী বন্ধু রে বাহুডোরে বাঁধে
ললাটে কাঁকন হানি’ একা রাধা অভাগিনী প্রদীপ নিভায়ে ঘরে কাঁদে।
জ্বালা তা’র জুড়ালো না জলে গো
শাওনের জলে তা’র মনের আগুন দ্বিগুণ জ্বলে গো
কৃষ্ণ-মেঘ গেছে চ’লে, অকরুণ অশনি হানিয়া হিয়ায় (সখি)॥
আশ্বিনে পরবাসী প্রিয় এলো ঘরে গো মিটিল বধূর মন-সাধ (সখি রে)
রাধার চোখের জলে মলিন হইয়া যায় কোজাগরী চাঁদ (মলিন হইয়া যায় গো)।
আগুন জ্বালালে শীত যায় নাকি রাধার কি হ’ল হায়
বুক ভরা তার জ্বলিছে আগুন তবু শীত নাহি যায়।
যায় না, যায় না আগুন জ্বলে —
বুকের আগুন জলে, তবু শীত যায় না, যায় না,
শীত যদি বা যায় নিশীথ না, যায় গো
যায় না, যায় না, রাধার যে কি হ’ল হায়॥
কলিয়া কৃষ্ণ-ছূড়া, ছড়ায়ে ফাগের গুঁড়া আসিল বসন্ত
রাধা-অনুরাগে রেঙে কে ফাগ খেলিবে গো, নাই ব্রজ-কিশোর দুরন্ত।
মাধবী-কুঞ্জে কুহু কুহরিছে মুহুমুহু ফুল-দোলনায় সবে দোলে,
এ মধু মাধবী রাতে রাধার মাধব নাই
দুলিবে রাধা কার কোলে সখি রে —  রাধা দোলে কার কোলে গো
শ্যাম-বল্লভ বিনা রাধা দোলে কার কোলে গো, বল্ সখি, দোলে কার কোলে।
ফুল-দোলে দোলে সবে পিয়াল-শাখে
রাধার প্রিয়া নাই, বাহু দু’টি দিয়া বাঁধিবে কাহাকে,
ঝরা-ফুল-সাথে রাধা ধূলাতে লুটায়॥

আমি বাউল হ’লাম ধূলির পথে

বাণী

আমি বাউল হ’লাম ধূলির পথে ল’য়ে তোমার নাম।
আমার একতারাতে বাজে শুধু তোমারই গান, শ্যাম।।
	নিভিয়ে এলাম ঘরের বাতি
	এখন তুমিই সাথের সাথি,
আমি যেখানে যাই সেই সে এখন আমার ব্রজধাম।।
আমি আনন্দ-লহরি বাজাই নূপুর বেঁধে পায়ে,
শ্রান্ত হ’লে জুড়াই তনু বন-বীথি বটের ছায়ে।
	ভাবনা আমার তুমি নিলে
	আমায় ভিক্ষা-পাত্র দিলে
কখন তুমি আমার হবে পূরবে মনস্কাম।।

১. শ্রান্ত হলে জুড়াই তবু বংশী-বটের ছায়ে।

নাইতে এসে ভাটির স্রোতে কলসি গেল ভেসে

বাণী

নাইতে এসে ভাটির স্রোতে কলসি গেল ভেসে
সেই দেশে যাইও রে কলসি, বন্ধু রয় যে দেশে।।
জলকে এসে' কাল সকালে কখন মনের ভুলে
ভাসিয়েছিলাম বন্ধুর লাগি' খোঁপার কুসুম খুলে'
কূলে এসে লাগলো সে ফুল আজকে বেলাশেষে।।
কালকে আমার খোঁপার কুসুম পায়নি খুজেঁ যারে,
কলসি আমার যাও রে ভেসে' খুঁজে আনো তারে।
আমার নয়ন-জল নিয়ে যাও, ঢেলো বন্ধুর পা'য়;
পিদিম জ্বেলে' রইব জেগে তাহারি আশায়
আর কতদিন রইব এমন যোগিনীরই বেশে।।

এসো বঁধু ফিরে এসো

বাণী

এসো বঁধু ফিরে এসো, ভোলো ভোলো অভিমান।
দিব ও-চরণে ডারি’ মোর তনু মন প্রাণ।।
	জানি আমি অপরাধী
	তাই দিবানিশি কাঁদি’,
নিমেষের অপরাধের কবে হবে অবসান।।
	ফিরে গেলে দ্বারে আসি’
	বাসি কিনা ভালোবাসি,
কাঁদে আজ তব দাসী — তুমি তার হৃদে ধ্যান।।
	সে-দিন বালিকা-বধূ
	শরমে মরম-মধু,
পি’য়াতে পারিনি বঁধু — আজ এসে কর পান।।
	ফিরিয়া আসিয়া হেথা
	দিও দুখ দিও ব্যথা,
সহে না এ নীরবতা — হে দেবতা পাষাণ।।