বাঁশি কে বাজায় বনে আমি চিনি

বাণী

বাঁশি কে বাজায় বনে আমি চিনি আমি চিনি,
কলসে কাঁকন চুড়ি তাল দিয়ে কয় গো রিনিঝিনি।
			আমি চিনি আমি চিনি।।
বুঝি গো বন পাপিয়া তারেই দেখে
‘চোখ গেল, চোখ গেল’ বলে উঠে ডেকে।
ও বাঁশি বাজলে ‘জলে যাসনে’, (ও বৌ যাস্‌নে)
বলে ‘ননদিনী’ ‘ননদিনী’।আমি চিনি আমি চিনি।।
মোর সেই বাঁশুরিয়ায় চেনে পাড়ার পড়শিরা
চেনে তায় যায় যমুনায় গো যত প্রেমের গরবীরা।
সে যে মোর ঘর জ্বালানো পর ভুলানো
আমার কালো বরণ গো, তমালের ডাল দুলানো।
মন কয় আমায় নিয়ে গো সেই ত খেলে ছিনিমিনি।।

চল্ রে চপল তরুণ-দল বাঁধন হারা

বাণী

চল্‌ রে চপল তরুণ-দল বাঁধন হারা
চল্‌ অমর সমরে, চল ভাঙি’ কারা
জাগায়ে কাননে নব পথের ইশারা।।
প্রাণ-স্রোতের ত্রিধারা বহায়ে তোরা ওরে চল!
জোয়ার আনি, মরা নদীতে পাহাড় টলায়ে মাতোয়ারা।।
ডাকে তোরে স্নেহভরে ‘ওরে ফিরে আয় ফিরে ঘরে’
তারে ভোল্‌ ওরে ভোল্‌ তোরা যে ঘর-ছাড়া।।
তাজা প্রাণের মঞ্জুরি ফুটায়ে পথে তোরা চল্‌,
রহে কে ভুলে ছেঁড়া পুঁথিতে তাদের পরানে দে রে সাড়া।
রণ-মাদল আকাশে ঘন বাজে গুরু গুরু।
আঁধার ঘরে কে আছে প’ড়ে তাহার দুয়ারে দে রে নাড়া।।

ওরে মাঝি ভাই

বাণী

				ওরে মাঝি ভাই।
ও তুই, কি দুখ পেয়ে কূল হারালি অকূল দরিয়ায়॥
চোখের জল্ তুই ছাপাতে চাস্, নদীর জলে এসে,
শেষে নদীই এলো চক্ষে রে তোর; তুই চলিলি ভেসে।
ও তুই কলস দেখে নামলি জলে রে, এখন ডুবে দেখিস্ কলস নাই॥
	ও তুই কূলে যাহার কূল পেলিনে তরী অগাধ জলে
	মিছে খুঁজে মরিস ওরে পাগল, তরী বাওয়ার ছলে।
ও রে দুই ধারে এর চোরা বালি রে, (ও) তোর হেথায় মনের মানুষ নাই॥

জহরত পান্না হীরার বৃষ্টি

বাণী

পুরুষ	:	জহরত পান্না হীরার বৃষ্টি
		তব হাসি-কান্না চোখের দৃষ্টি
		তারও চেয়ে মিষ্টি মিষ্টি মিষ্টি॥
স্ত্রী	:	কান্না-মেশানো পান্না নেবো না, বঁধু।
		এই পথেরই ধূলায় আমার মনের মধু
		করে হীরা মানিক সৃষ্টি মিষ্টি আরো মিষ্টি॥
পুরুষ	:	সোনার ফুলদানি কাঁদে লয়ে শূন্য হিয়া
		এসো মধু-মঞ্জরি মোর! এসো প্রিয়া, প্রিয়া!
স্ত্রী	:	কেন ডাকে বউ কথা কও, বউ কথা কও,
		আমি পথের ভিখারিনী গো, নহি ঘরের বউ।
		কেন রাজার দুলাল মাগে মাটির মউ।
		বুকে আনে ঝড়, চোখে বৃষ্টি তার সকরুণ দৃষ্টি তবু মিষ্টি॥

সিনেমাঃ চৌরঙ্গী

কেন আসে কেন তা’রা চ’লে যায়

বাণী

কেন আসে, কেন তা’রা চ’লে যায় ক্ষণেক তরে।
কুসুম না ফুটিতে কেন ফুল-মালি
ছিঁড়িয়া সাজি ভরে, কানন ক’রে খালি,
কাঁটার স্মৃতি বেঁধে লতার বুকে, হায়, ব্যথা-ভরে।।
	ছাড়িয়া স্নেহ-নীড় সুদূর বনছায়
	বিহগ-শিশু কেন সহসা উ’ড়ে যায়,
কাঁদে জননী তা’র ঝরা পালকখানি বুকে ঘ’রে।।

বনে যায় আনন্দ-দুলাল

বাণী

বনে যায় আনন্দ-দুলাল
বাজে চরণে নূপুরের রুনুঝুনু তাল
বনে যায় গোঠে যায়।
ও কি নন্দ-দুলাল, ও কি ছন্দ-দুলাল
ও কি নন্দন-পথ, ভোলা নৃত্য-গোপাল।।
বেণু-রবে ধেনুগণ আগে যেতে পিছে চায়
ভক্তের প্রাণ গ'লে উজান বহিয়া যায়
লুকিয়ে দেখিতে এলো দেবতারি দল (তায়)
হয়ে কদম তমাল-
ব্রজ-গোপিকার প্রাণ তার চরণে নূপুর
শ্রীমতী রাধিকা তার বাশরির সুর।
সে যে ত্রিলোকের স্বামী তাই ত্রিভঙ্গ-রূপ
করে বিশ্বের রাখালি সে চির-রাখাল।।