বাগিচায় বুলবুলি তুই

বাণী

বাগিচায়		বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে দিসনে আজি দোল
আজো তার		ফুল কলিদের ঘুম টুটেনি তন্দ্রাতে বিলোল।।
আজো হায়		রিক্ত শাখায় উত্তরী বায় ঝুরছে নিশি-দিন
আসেনি		দখনে হাওয়া গজল গাওয়া মোমাছি বিভোল।।
কবে সে		ফুল কুমারী ঘোমটা চিরি', আসবে বাহিরে (রে)
শিশিরের		স্পর্শ-সুখে ভাঙবে রে ঘুম রাঙবে রে কপোল।
ফাগুনের		মুকুল-জাগা দু'কূল ভাঙা আসবে ফুলেল বান
কুঁড়িদের		ওষ্ঠ পুটে লুটবে হাসি ফুটবে গালে টোল।।
কবি তুই		গন্ধে ভুলে ' ডুবলি জলে কূল পেলিনে আর
ফুলে তোর		বুক ভ'রেছিস আজকে জলে ভররে আঁখির কোল।।

নিশিদিন তব ডাক শুনিয়াছি মনে মনে

বাণী

নিশিদিন তব ডাক শুনিয়াছি মনে মনে
শ্রবণে শুনিনি আহ্বান তব পবনে শুনেছি বনে বনে।।
	হে বিরহী তব আতাস
	পাণ্ডু করেছে তোমার আকাশ
বিজনে তোমারে করিয়াছি ধ্যান শুধা যে ফিরিনি জনে জনে।।
সকলে যখন ঘুমায়ে পড়েছে আধ রাতে
স্মৃতি মঞ্জুষা খুলিয়া দেখেছি নিরালাতে।
	যদি তব ছবি ম্লান হয়ে যায়
	অশ্রু সলিলে ধুয়ে রাখি তায়
দেবতা তোমারে মৌন পূজায় নীরবে ধেয়াই নিরজনে।।

আয় মুক্তকেশী আয়

বাণী

(মা)		আয় মুক্তকেশী আয়
(মা)		বিনোদ-বেণী বোঁধ দোব এলোচুলে।
		প্রভাত রবির রাঙা জবা (মা) দুলিয়ে দোব বেণী মূলে॥
		মেখে শ্মশান ভস্ম কালি,
		ঢাকিস্ কেন রূপের ডালি
		তোর অঙ্গ ধুতে গঙ্গাবারি আনব শিবের জটা খুলে॥
		দেব না আর শ্মশান যেতে, সহস্রারে রাখব ধ’রে।
		খেলে সেথায় বেড়াবি মা রামধনু রং শাড়ি প’রে।
		ক্ষয় হলো চাঁদ কেঁদে কেঁদে
(তারে)	দেব মা তোর খোঁপায় বেঁধে
		মোর জীবন মরণ বিল্ব জবা দিব মা তোর পায়ে তুলে॥

অবুঝ মোর আঁখি বারি

বাণী

অবুঝ মোর আঁখি বারি, আমি রোধিতে নারি।।
গ'লেছে যে-নদী জল, কে তারে রোধিবে বল,
পাষাণের সে নারায়ণ তবু সে আমারি।।

এত দিনে ধরা দিলে বনের পাখি

বাণী

এত দিনে ধরা দিলে বনের পাখি।
কেথায় রাখি, কোন্ প্রিয় নামে ডাকি।।
সদাই জাগে ভয়, দুরু দুরু হিয়া
কখন উড়ে যাবে বনের পাপিয়া
জেগে থাকি তাই সদা ঘুমহারা আঁখি।।
নয়নে রাখিলে, হিয়া কাঁদে অভিমানে
হিয়ায় রাখিলে, বারি ঝরে নয়নে,
তুমি ব’লে দাও প্রিয় কোথায় রাখি।।

নাটক : ‘অর্জুন-বিজয়’

ভারত শ্মশান হ’ল মা তুই শ্মশানবাসিনী ব’লে

বাণী

ভারত শ্মশান হ’ল মা, তুই শ্মশানবাসিনী ব’লে।
জীবন্ত-শব নিত্য মোরা, চিতাগ্নিতে মরি জ্ব’লে।।
আজ হিমালয় হিমে ভরা,
দারিদ্র্য-শোক-ব্যাধি-জরা,
নাই যৌবন, যেদিন হতে শক্তিময়ী গেছিস্ চ’লে।।
(মা) ছিন্নমস্তা হয়েছিস্ তাই হানাহানি হয় ভারতে,
নিত্য-আনন্দিনী, কেন টানিস্ নিরানন্দ পথে?
শিব-সীমন্তিনী বেশে
খেল্ মা আবার হেসে হেসে,
ভারত মহাভারত হবে, আয় মা ফিরে মায়ের কোলে।।