রাধা-তুলসী প্রেম-পিয়াসি গোলকবাসী শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ

বাণী

রাধা-তুলসী, প্রেম-পিয়াসি, গোলকবাসী শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ।
নাম জপ মুখে, মূরতি রাখ বুকে ধ্যান দেখ তারি রপ মোহন।।
	অমৃত রসঘন কিশোর-সুন্দর,
	নব নীরদ শ্যাম মদন মনোহর —
সৃষ্টি প্রলয় যুগল নূপুর শোভিত যাহার রাঙা চরণ।।
	মগ্ন সদা যিনি লীলারসে,
	যে লীলা-রস ভরা গোপী-কলসে,
কান্না-হাসির আলো-ছায়ার মায়ায় যাহার মোহিত ভূবন।।

নীল সরসীর জলে চতুর্দশীর চাঁদ

বাণী

নীল সরসীর জলে চতুর্দশীর চাঁদ ডোবে আর উঠে গো।
এলোকেশে ঢেউয়ে জড়াজড়ি ক’রে পড়ে লুটে গো।।
	নীল-শাড়ি-বিজড়িত কিশোরী
	কলসী ল’য়ে ফেরে সাঁতরি’
চাঁদ ভেবে মুদিত কুঁড়ি হেসে ওঠে ফুটে গো।।
	সরসির পড়শি পলাশ, পারুল
	সুরভিত সমীরণ হাসিয়া আকুল,
	কলষে কঙ্কণে রিনিঝিনি সুর
	বাজে-তরঙ্গে সজল বিধুর,
কমলিনী হরষে ঢ’লে পড়ে পরশে অধর-পুটে গো।।

ব্রজবাসী মোরা এসেছি মথুরা

বাণী

ব্রজবাসী মোরা এসেছি মথুরা, দ্বার ছেড়ে দাও দ্বারী।
মথুরার রাজা হ’য়েছে মোদের কানাই গোঠ বিহারী।।
[মথুরার রাজা হয়েছে হায় তোমাদের রাজা হয়েছে ভাই —
কানাই গোঠ বিহারী, দ্বার ছেড়ে দাও দ্বারী।]*
রাজ-দণ্ড কেমন মানায় শোভিত যে হাতে বাঁশি
[শোভিত যে হাতে বাঁশি]*
মুকুট মাথায় কেমন দেখায় শিরে শিখী-পাখা ধারী।।
[সে শিরে শিখী-পাখা ধারী
দ্বার ছেড়ে দাও দ্বারী।]*
শ্যামলী ধেনুর দুগ্ধের ক্ষীর এনেছি কানুর লাগিয়া
পাঠায়েছে তারে মথিয়া নবনী, যশোদা-নিশীথ জাগিয়া,
বনমালী লাগি নব-নীপ-মালা আনিয়াছি হের [মোরা] গাঁথিয়া,
কুড়ায়ে এনেছি ফেলে এসেছিল যে বাঁশরি বনচারী।।
ব্রজের দুলাল রাখাল ব’সেছে রাজার আসন ’পরে,
সারা গোকুলের এনেছি আশিস তাই রে তাহার তরে।
পাঠায়েছে গোপী-চন্দন তাই রাই অনুরাগ ভরে
(পাঠায়েছে রাই অনুরাগ ভরা গোপী চন্দন,
পাঠায়েছে রাই [তাই] হরির লাগিয়া হরি চন্দন।)
নয়ন-যমুনা ছানিয়া এনেছি আকুল অশ্রুবারি।।
[দ্বার ছেড়ে দাও দ্বারী।।]*

* রেকর্ডে গীত

আমার হরিনামে রুচি কারণ পরিণামে লুচি

বাণী

আমার হরিনামে রুচি, কারণ, পরিণামে লুচি
			আমি ভোজনের লাগি করি ভজন।
আমি মালপোর লোভে এ কল্পলোকে তল্পী বাঁধিয়া এসেছি মন।।
‘রাধা-বল্লভী’ লোভে পূজি রাধা-বল্লভে,
আসি রসগোল্লার তরে রাস মোচ্ছবে।
আমার গোল্লায় গেছে মন, দাদা গো, রসগোল্লায় গেছে মন।
ও তো রসগোল্লা কভু নয়
যেন ন্যাড়া-মাথা বাবাজী থালাতে হয়েন উদয়!
(আর) গজা দেখে প্রেম যে গজায় হৃদিতলে রে,
পানতোয়া দেখে প্রাণ নাচে হরি ব’লে রে!
ঐ গোলগাল মোয়া এই মায়াময় সংসার দেয় গো ভুলিয়ে,
আর ক্ষীরের খোয়াতে খোয়াইতে কুল মন ওঠে চুলবুলিয়ে।
(আমার) মন বলে হরি হরি হাত বলে হর হে,
যত অরসিকে তেড়ে আসে বলে ব্যাটায় ধর হে!
আর এই সংসারে রসিক শুধু রাঁধুনী ও ময়রাই —
সেই দুই ভাই আজি এসেছে রে!
যারা ময়দা খেয়ে মালপো ঢালে
সেই দুই ভাই আজি এসেছে রে!
আমি চিনি মেখে গায় যোগী হব দাদা যাব ময়রার দেশে,
আর রসকরার কড়াই-এ ডুবিয়া মরিব গলে সন্দেশ ঠেসে।
ভোজন ভজহরি-র শোনো এই তথ্য
গো-ময় সংসারে ভজনই সত্য।।

শঙ্কাশূন্য লক্ষ কন্ঠে বাজিছে শঙ্খ ঐ

বাণী

শঙ্কাশূন্য লক্ষ কন্ঠে বাজিছে শঙ্খ ঐ
পুণ্য-চিত্ত মৃত্যু তীর্থ-পথের যাত্রী কই।।
আগে জাগে বাধা ও ভয়
ও ভয়ে ভীত নয় হৃদয়
জানি মোরা হবই হব জয়ী।।
জাগায়ে প্রাণে প্রানে নব আশা, ভাষাহীন মুখে ভাষা
হে নবীন আন নব পথের দিশা নিশি শেষের ঊষা
কেহ না দেশে মানুষ তোমরা বৈ।।
স্বর্গ রচিয়া মৃত্যুহীন চল ওরে কাঁচা চল নবীন
দৃপ্ত চরণে নৃত্য দোল জাগায়ে মরুতে রে বেদুইন!
'নাই নিশি নাই' জাগে শুভ্র দীপ্ত দিন।
নাই ওরে ভয় নাই জাগে ঊর্দ্ধে দেবী জননী শক্তিময়ী।।

আজকে শাদী বাদ্‌শাজাদীর পান করো

বাণী

আজকে শাদী বাদ্‌শাজাদীর পান করো শিরাজি।।
নেশার ঝোঁকে চোখে চোখে খেলুক আতস বাজি
	(সবে) পান করো শিরাজি।।
	সামনে মোরা যাকে পাব
	রঙিন পানি পান করাব
প্রাণে খুশির রঙ করাব নেচে খেয়ে আজি
	সবে পান করো শিরাজি।।

রেকর্ড-নাটিকাঃ ‘লায়লী মজনু’