নিশি-ভোরে অশান্ত ধারায় ঝরঝর বারি ঝরে

বাণী

নিশি-ভোরে অশান্ত ধারায় ঝরঝর বারি ঝরে।
আকাশ-পারের বিরহীর বীণা যেন সুর ঝুরে আকুল স্বরে।।
কাহার মদির নিঃশ্বাস আসে
বকুলের বনে ঝরা ফুল বাসে
কর হানি দ্বারে যেন বারে বারে
খোল দুয়ার বলি ডাকে ঘুমঘোরে।।
ডাকে কেয়া বনে ডাহুক কেকা
বিরহের ভার বহি কত আর একা
ম্লান হয়ে এলো চোখে কাজলের লেখা অশ্রু-লোরে।।

মোরা কুসুম হয়ে কাঁদি কুঞ্জবনে

বাণী

মোরা	কুসুম হয়ে কাঁদি কুঞ্জবনে
		সুন্দর শ্যাম হে
আমি	মরিতে চাহি ঝরি' তব চরণে
		সুন্দর শ্যাম হে।
	ওগো সুন্দর শ্যাম হে।।
মোর	ক্ষণিক এ জীবন নিশি শেষে
প্রিয়	ঝ'রে যাব গো স্রোতে ভেসে
বঁধু	কাছে এসে ছুয়ো ভালবেসে
	জাগায়ো প্রেম-মধু গোপন মনে
		সুন্দর শ্যাম হে।।
তব	সরস পরশ দিয়ে মনোহর
মোর	এ তনু রঙে রসে পূর্ণ করো
আমি	তোমার বুকে রবো পরম সুখে
	ঝরিব প্রিয়, চাহি' তব নয়নে
		সুন্দর শ্যাম হে।।
মোর	বিদায় বেলা ঘনায়ে আসে
মোর	প্রাণ কাদেঁ মিলন-পিয়াসে
এই	বিরহ মম ওগো প্রিয়তম,
	মিটিবে সে কোন শুভ লগনে,
		সুন্দর শ্যাম হে।।

আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন

বাণী

আমার	আপনার চেয়ে আপন যে জন
			খুঁজি তারে আমি আপনায়॥
আমি		শুনি যেন তার চরণের ধ্বনি
			আমারি তিয়াসী বাসনায়॥
		আমারি মনের তৃষিত আকাশে
		কাঁদে সে চাতক আকুল পিয়াসে,
		কভু সে চকোর সুধা-চোর আসে
			নিশীথে স্বপনে জোছনায়॥
আমার মনের পিয়াল তমালে হেরি তারে স্নেহ-মেঘ-শ্যাম,
অশনি-আলোকে হেরি তারে থির-বিজুলী-উজল অভিরাম।
		আমারি রচিত কাননে বসিয়া
		পরানু পিয়ারে মালিকা রচিয়া
		সে-মালা সহসা দেখিনু জাগিয়া
			আপনারি গলে দোলে হায়॥

সখি কই গোপীবল্লভ শ্যামল পল্লব কান্তি

বাণী

সখি কই গোপীবল্লভ শ্যামল পল্লব কান্তি
সখি আমার হরি বিনে হরি চন্দনে নাহি শান্তি।
ঐ দেখ্ দেখ্ শ্যাম দাঁড়িয়ে
ও নহে কদম তমাল পিয়াল পিয়া মোর ঐ দাঁড়িয়ে।
ও নহে তরুণ শাখা ও যে মোর বঁধু আসে বাহু বাড়িয়ে।
পুষ্প পাগল তরু কি কখনো দুলে গো অমন করিয়া
(ও যে) বনমালা গলে বনমালী মোর নাচিছে হেলিয়া দুলিয়া।
তোরা দেখে আয় তোরা দেখে আয়
অভিমানে শ্যাম আসিছে না কাছে ডেকে আয় তারে ডেকে আয়
তারি বিগলিত নীল লাবনি কি ঐ যমুনার কালো জলে
বিজলির আঁখি ইঙ্গিতে সে কি ডাকে মোরে মেঘ দলে।
সখি গো! তোরা যেতে দে মোরে যেতে দে আর দিস্‌নে বাধা
(ঐ) গহন কালোতে গাহন করিয়া জুড়াক আলোক রাধা।।

গাহে আকাশ পবন নিখিল ভুবন

বাণী

গাহে আকাশ পবন নিখিল ভুবন (গাহে) তোমারই নাম।
সাগর নদী বন উপবন (গাহে) তোমারই নাম।।
	মধুর তোমার গানের নেশায়
	ঘোর লাগে ঐ গ্রহ-তারায়,
অনন্ত কাল ঘুরিয়া বেড়ায় — ঘিরি’ অসীম গগন।।
	তোমার প্রিয় নামে, হে বঁধূ,
	ফুলের বুকে পুরে মধু।
	তোমার নামের মাধুরি মাখি’
	গান গেয়ে যায় বনের পাখি,
নিখিল পাগল ও নাম ডাকি’ — কোটি চন্দ্র তপন।।

আঁচলে হংস-মিথুন আঁকা

বাণী

আঁচলে হংস-মিথুন আঁকা
		বলাকা-পে’ড়ে শাড়ি দুলায়ে।
চলিছে কিশোরী শ্যামা একা
		রুমুঝুমু বাজে নূপুর মৃদু পায়ে।।
ভয়ে ভয়ে চলে আধো-আঁধারে
বিরহী বন্ধুর দূর অভিসারে,
পথ কাঁদে যেয়ো না যেয়ো না যেয়ো না ওগো
		থামো ক্ষণেক এ ঠাঁয়ে।।