নয়নে তোমার ভীরু মাধুরীর মায়া

বাণী

নয়নে তোমার ভীরু মাধুরীর মায়া
বন-মৃগী সম উঠিছ চমকি' হেরিয়া আপন ছায়া।।
	প্রাতে ঊষার প্রায়
	রেঙে ওঠো লজ্জায়,
এলায়িত লতিকায় ভঙ্গুর তব কায়া।।
দৃষ্টিতে তব আরতি-দীপের দ্যুতি
তুমি নিবেদিতা সন্ধ্যা-পূজা-আরতি।
	ভূমি অবলুণ্ঠিতা
	বনলতা কুণ্ঠিতা
কোলাহল-শঙ্কিতা যেন গো তাপস-জায়া।।

শ্যামের সাথে চল সখি খেলি সবে হোরি

বাণী

শ্যামের সাথে চল সখি খেলি সবে হোরি।
রঙ নে, রঙ দে, মদির আনন্দে, আয় লো বৃন্দাবনী গোরী।।
আয় চপল যৌবন-মদে মাতি অল্প-বয়সী কিশোরী।।
রঙ্গিলা গালে তাম্বুল-রাঙা ঠোঁটে হিঙ্গুল রঙ লহ ভরি;
ভুরু-ভঙ্গিমা সাথে রঙ্গিম হাসি পড়ুক মুহু মুহু ঝরি’।।
আগুন-রাঙা ফুলে ফাগুন লাগে লাল,
কৃষ্ণচূড়ার পাশে অশোক গালে-গাল।
আকুল করে ডাকি’ বকুল বনের পাখি,
যমুনার জল লাল হ’ল আজ আবির, ফাগের রঙে ভরি।।১

১. শ্যাম অঙ্গ আজি রঙে রঙে রাঙা হয়ে কি শোভা ধরেছে মরি! মরি!

কি নাম ধ'রে ডাকবো তোরে মা

বাণী

	কি নাম ধ'রে ডাকবো তোরে মা তুই দে ব'লে
ওমা	কি নাম ধ'রে কাঁদলে পরে ধ'রে তুলিস কোলে (মাগো)।।
	বনে খুঁজি মনে খুঁজি পটে দেখি ঘটে পূজি
	মন্দিরে যাই কেঁদে লুটাই মাগো —
	পাষাণ প্রতিমা মা তোর একটুও না টলে।।
	কোল যদি না দিবি মাগো, আনলি কেন ভবে,
আমি	জনম নিয়ে এসেছি যে তোর কোলেরই লোভে।
আমি	রইতে নারি মা না পেয়ে, মরণ দে মা তাহার চেয়ে
	এ-ছার জীবনে কোন প্রয়োজন মাগো
	আমি কোটি বার মা মরতে পারি মা যদি পাই ম'লে।।

আয় বনফুল ডাকিছে মলয়

বাণী

আয় বনফুল ডাকিছে মলয়
এলোমেলো হাওয়ায় নূপুর বাজায় , কচি কিশলয়।।
তোমরা এলে না ব'লে - ভোমরা কাদেঁ
অভিমানে মেঘ ঢাকিল চাদেঁ
'ভুল বঁধু ভুল' টুলটুলে মৌটুসি বুলবুলে কয়।।
কুহু যামিনীর তিমির টুটে
মুহু মুহু কুহু কুহরি ওঠে।
হে বন-কলি, গুণ্ঠন খোলো
হে মৃদুলজি্জিতা, লজ্জা ভোলো,
কোথা তার দুল দোলে নটিনী তটিনী খুজেঁ বনময়।।

এসো চির-জনমের সাথি

বাণী

এসো চির-জনমের সাথি।
তোমারে খুঁজেছি দূর আকাশে জ্বালায়ে চাঁদের বাতি।।
	খুঁজেছি প্রভাতে গোধূলি-লগনে
	মেঘ হয়ে আমি খুঁজেছি গগনে,
ঢেকেছে ধরণী আমার কাঁদনে অসীম তিমির রাতি।।
ফুল হয়ে আছে লতায় জড়ায়ে মোর অশ্রুর স্মৃতি,
বেণু বনে বাজে বাদল-নিশীথে আমারি করুণ-গীতি।
	শত জনমের মুকুল ঝরায়ে
	ধরা দিতে এলে আজি মধু-বায়ে,
ব’সে আছি আশা-বকুলের ছায়ে বরণের মালা গাঁথি’।।

দাঁড়ালে দুয়ারে মোর

বাণী

	দাঁড়ালে দুয়ারে মোর		কে তুমি ভিখারিনী।
	গাহিয়া সজল চোখে		বেলা-শেষের রাগিণী॥
	মিনতি-ভরা আঁখি			ওগো কে তুমি ঝড়ের পাখি
(ওগো)	কি দিয়ে জুড়াই ব্যথা		কেমনে কোথায় রাখি
	কোন্ প্রিয় নামে ডাকি’		মান ভাঙাব মানিনী॥
	বুকে তোমায় রাখতে প্রিয়	        চোখে আমার বারি ঝরে,
(ওগো)	চোখে যদি রাখিতে চাই		বুকে উঠে ব্যথা ভ’রে।
	যত দেখি তত হায়,		ওগো পিপাসা বাড়িয়া যায়
	কে তুমি যাদুকরী			স্বপন-মরু-চারিণী॥