যাবার বেলায় মিনতি আমার

বাণী

যাবার বেলায় মিনতি আমার (শুধু) রাখিও মনে
ডাক দিও গো সাঁঝের ছায়ে সাঙ্গোপনে।।
যখন সন্ধ্যাবধূ আঁকবে রঙের আলপনা
আমার হিয়া দুলবে তখন তোমার প্রদীপ সনে
যখন নিরালাতে গাঁথবে মালা আনমনে।।
(আমি) রইব ঘিরে তোমার মালার গন্ধ সনে (প্রিয় আমার)
আমি দুলিয়ে যাব অলক তব মৃদু পবনে
ওগো একটি মালা গলায় নিও আমার স্মরণে।।

বনদেবী জাগো সহকার-করে

বাণী

বনদেবী জাগো সহকার-করে বাঁধো বল্লরি-কঙ্কণ।
আকাশে জাগাও তব নব কিশলয়-কেতন-কম্পন।।
	অশান্ত দক্ষিণা সমীরণ
	গেয়ে যাক বসন্ত আবাহন,
বনে বনে হোক ফুল-আল্‌পনা-অঙ্কন।।
মধূপ গুঞ্জরে ঝিল্লীর মণি-মঞ্জিরে তোলো ঝংকার,
মুহু মুহু কুহু রবে আনো আনন্দিত ছন্দ ধরণীতে অলকানন্দার।
	ঝরা পল্লব মর্‌মরে
	মৃদু ঝরনার ঝর্‌ঝরে,
মুখরিত হোক তব বন-ভূমি-অঙ্গন।।

পুঁথির বিধান যাক পুড়ে

বাণী

পুঁথির বিধান যাক পুড়ে তোর, বিধির বিধান সত্য হোক!
(এই) খোদার উপর খোদকারী তোর মানবে না আর সর্বলোক।।
নানান মুনির নানান মত্‌ যে, মানবি বল্‌ সে কার শাসন?
				কয়জনার বা রাখবি মন?
একজনকে মানলে করবে আর এক সমাজ নির্বাসন, চারদিকে শৃঙ্খল বাঁধন!
সকল পথে লক্ষ্য যিনি চোখ পুরে নে তাঁর আলোক।।
জাতের চেয়ে মানুষ সত্য, অধিক সত্য প্রাণের টান
				প্রাণ-ঘরে সব এক সমান।
বিশ্ব-পিতার সিংহ-আসল প্রাণ বেদীতেই অধিষ্ঠান,
				আত্মার আসন তাইত প্রাণ।
জাত-সমাজের নাই সেথা ঠাই জগন্নাথের সাম্য লোক
				জগন্নাথের তীর্থ লোক।।
চিনেছিলেন খ্রিষ্ট, বুদ্ধ, কৃষ্ণ, মোহাম্মদ ও রাম
				মানুষ কী আর কী তার দাম!
(তাই) মানুষ যাদের করত ঘৃণা, তাদের বুকে দিলেন স্থান,
				গান্ধী আবার গান সে-গান।
(তোরা) মানব-শত্রু, তোদেরই হায় ফুটল না সেই জ্ঞানের চোখ।।

অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে

বাণী

অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে।
প্রদীপ-শিখা সম কাঁপিছে প্রাণ মম
তোমায়, হে সুন্দর, বন্দিতে!
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।
তোমার দেবালয়ে কি সুখে কি জানি
দু’লে দু’লে ওঠে আমার দেহখানি
আরতি –নৃত্যের ভঙ্গীতে।
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।
পুলকে বিকশিল প্রেমের শতদল
গন্ধে রূপে রসে টলিছে টলমল।
তোমার মুখে চাহি আমার বাণী যত
লুটাইয়া পড়ে ঝরা ফুলের মত
তোমার পদতল রঞ্জিতে।
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।

চল সখি জল নিতে চল ত্বরিতে

বাণী

চল সখি জল নিতে চল ত্বরিতে।
শ্রান্ত দিনের রবি ডোবে সরিতে।।
	ঘিরিছে আঁধার
	তটিনী-কিনার,
গোধূলির ছায়া পড়ে বন-হরিতে।।
ধেনু ডাকা বেণু বাজে বংশী-বটে,
পাখি ওড়ে, আঁকা যেন আকাশ-পটে।
	বধূ ঘাটে যায়,
	বঁধু পথে যায়,
চিনি চিনি বাজে চুড়ি গাগরিতে।।

প্রিয় তুমি কোথায় আজি কত সে দূর

বাণী

প্রিয়	তুমি কোথায় আজি কত সে দূর।
প্রাণ	কাঁদে ব্যথায় বিরহ-বিধুর।।
	স্বপন-কুমারী, স্বপনে এসে
	মিশাইলে কোন্ ঘুমের দেশে
	তড়িত-শিখা ক্ষণিক হেসে
	লুকালে মেঘে আঁধারি’ হৃদি-পুর।।
	আপনা নিয়ে ছিনু একেলা
	কোন্ সে কূলে ভিড়ালে ভেলা
	জীবন নিয়ে মরণ-খেলা
	খেলিতে কেন আসিলে নিঠুর।।
	ঊষার গাঙে গাহন করি’
	দাঁড়ালে নভে রঙের পরী
	প্রেমের অরুণ উদিল যবে
	মিশালে নভে, হে লীল-চতুর।।