তুমি মলিন বাসে থাক যখন

বাণী

তুমি		মলিন বাসে থাক যখন, সবার চেয়ে মানায়!
তুমি		আমার তরে ভিখারিনী, সেই কথা সে জানায়!
			জানি প্রিয়ে জানি জানি,
			তুমি হ’তে রাজার রানী,
		খাট্ত দাসী বাজ্‌ত বাঁশি তোমার বালাখানায়।
তুমি		সাধ ক’রে আজ ভিখারিনী, সেই কথা সে জানায়।।
দেবী!	তুমি সতী অন্নপূর্ণা, নিখিল তোমার ঋণী,
শুধু		ভিখারিকে ভালোবেসে সাজ্‌লে ভিখারিনী।
			সব ত্যজি’ মোর হ’লে সাথি,
			আমার আশায় জাগ্‌ছ রাতি,
		তোমার পূজা বাজে আমার হিয়ার কানায় কানায়!
তুমি		সাধ ক’রে মোর ভিখারিনী, সেই কথা সে জানায়।।

আজি বাদল বঁধূ এলো শ্রাবণ-সাঁঝে

বাণী

আজি বাদল বঁধূ এলো শ্রাবণ-সাঁঝে —
নীপের দীপ ঢাকি’ আঁচল ভাঁজে।।
	জ্বালি’ হেনার ধুনা
	যাচি’ কার করুণা
বন-তুলসী তলে এলে পূজারিণী সাজে।।
সেদিন এমনি সাঁঝে মোর বেদীর মূলে
প্রিয়া জ্বালিলে এ দীপ, তাহা গেছ কি ভুলে?
	সেই সন্ধ্যা-স্মৃতি
	সে যে করুণ গীতি,
দূরে দাদুরি আনে বহি’ মরম মাঝে।।

চুড়ি কিঙ্কিনী রিনি রিন ঝিনি বীণ বাজায়ে চলে

বাণী

চুড়ি কিঙ্কিনী রিনি রিন ঝিনি বীণ বাজায়ে চলে
শুনি নদীর নীল জলে জোয়ার উথলে।।
বাজে পায়ে পাঁইজোর ঘুঙুর ঝুমুর ঝুমুর
গাহে পাপিয়া পিয়া পিয়া শুনি সে সুর
শত পরান হতে চায় ঐ চরণে নূপুর
হৃদি হতে চায় চাবি তাহার আঁচলে।।
পথিকে বধিতে কি নদীতে সে জলকে যায়
ছল চল বলি তাহার কলসিতে জল ছ’লকে যায়
কাজল-ঘন চোখে বিজলি জ্বালা ঝলকে যায়
মন-পতঙ্গ ধায় ঐ আঁখির অনলে
শুনি নদীর নীল জলে জোয়ার উথলে।।

চল জয়যাত্রায় চল

বাণী

চল জয়যাত্রায় চল বাসন্তী-বাহিনী
চল রচিতে বুকে বুকে নব প্রেম-কাহিনী।।
যথা উদাসীন পুরুষ তপস্যা-মগ্ন
জাগো সেথা সুরত রতি অতি লগ্ন —
যার বাসনা ফুরায় মনে — চলো তার তপোবনে
		চল কামনার কামিনী।।

নাটক : ‘হরপার্বতী’

তোমায় দেখি নিতুই চেয়ে চেয়ে

বাণী

স্ত্রী	:	তোমায় দেখি নিতুই চেয়ে চেয়ে
		ওগো অচেনা বিদেশি নেয়ে॥
পুরুষ	:	যেতে এই পথে তরী বেয়ে
		দেখি নদীর ধারে তোমায় বারে বারে
		সজল কাজল বরণী মেয়ে॥
স্ত্রী	:	তোমার তরণীর আসার আশায়
		বসে থাকি কূলে কলস ভেসে যায়।
পুরুষ	:	তুমি পরো যে শাড়ি ভিন গাঁয়ের নারী
		আমি নাও বেয়ে যাই তারি সারি গান গেয়ে।
স্ত্রী	:	গাগরির গলায় মালা জড়ায়ে
		দিই তোমার তরে বঁধু স্রোতে ভাসায়ে॥
পুরুষ	:	সেই মালা চাহি’, নিতি এই পথে গো
		আমি তরী বাহি।
উভয়ে	:	মোরা এক তরীতে একই নদীর স্রোতে
		যাব অকূলে ধেয়ে॥

চুড়ির তালে নুড়ির মালা

বাণী

চুড়ির তালে নুড়ির মালা রিনিঝিনি বাজে লো –
খোঁপায় দোলে বুনো ফুলের কুঁড়ি।
কালো ছোঁড়ার কাঁকাল ধ’রে নাচে মাতাল ছুঁড়ি লো।।
মহুয়া মদের নেশা পিয়ে বুঁদ হয়েছে বৌয়ে–ঝিয়ে
চাঁদ ছুটছে মনকে নিয়ে
ডুরি ছেঁড়া ঘুড়ি (যেন) লো।।
বাজে নুপূর পাঁইজোড় সারা গায়ে নাচের ঘোর
ওলো লেগেছে, মন হ’ল নেশায় বিভোর;
ওই আকাশে চাঁদ হের মেঘের সাথে যেন করে খুনসুড়ি লো।।