অঝোর ধারায় বর্ষা ঝরে সঘন তিমির রাতে

বাণী

অঝোর ধারায় বর্ষা ঝরে সঘন তিমির রাতে।
নিদ্রা নাহি তোমায় চাহি’ আমার নয়ন-পাতে॥
		ভেজা মাটির গন্ধ সনে
		তোমার স্মৃতি আনে মনে,
বাদ্‌লী হাওয়া লুটিয়ে কাঁদে আঁধার আঙিনাতে॥
হঠাৎ বনে আস্‌ল ফুলের বন্যা পল্লবেরই কূলে,
নাগকেশরের সাথে কদম কেয়া ফুট্‌ল দুলে দুলে।
নবীন আমন ধানের ক্ষেতে হতাশ বায়ু ওঠে মেতে,
মন উড়ে যায় তোমার দেশে পূব-হাওয়ারই সাথে॥

বাজিছে দামামা বাঁধ রে আমামা

বাণী

বাজিছে দামামা, বাঁধ রে আমামা শির উঁচু করি মুসলমান।
দাওয়াত এসেছে নয়া জামানার ভাঙা কিল্লায় ওড়ে নিশান।।
	মুখেতে কল্‌মা হাতে তলোয়ার
	বুকে ইসলামী জোশ্ দুর্বার,
	হৃদয়ে লইয়া এশ্‌ক্‌ আল্লার —
	চল্ আগে চল বাজে বিষাণ।
ভয় নাই তোর গলায় তাবিজ বাঁধা যে রে তোর পাক কোরান।।
	নহি মোরা জীব ভোগ বিলাসের
	শাহাদত ছিল কাম্য মোদের,
	ভিখারির সাজে খলিফা যাদের —
				শাসন করিল আধা জাহান।
তা’রা আজ প’ড়ে ঘুমায় বেহোঁশ্ বাহিরে বহিছে ঝড় তুফান।।
	ঘুমাইয়া কাজা করেছি ফজর
	তখনো জাগিনি যখন জোহর,
	হেলা ও খেলায় কেটেছে আসর —
				মাগরিবের আজ শুনি আজান।
জমাত-শামিল হও রে এশাতে এখনো জামাতে আছে স্থান।।
	শুকনো রুটিরে সম্বল ক’রে
	যে ঈমান আর যে প্রাণের জোরে,
	ফিরেছি জগৎ মন্থন ক’রে —
				সে-শক্তি আজ ফিরিয়ে আন।
আল্লাহু আকবর রবে পুন কাঁপুক বিশ্ব দূর বিমান।।

কেন চাঁদিনী রাতে মেঘ আসে ছায়া ক’রে

বাণী

কেন চাঁদিনী রাতে মেঘ আসে ছায়া ক’রে।
সুখের বাসরে কেন, প্রাণ ওঠে বিষাদে ভ’রে।।
কেন মিলন রাতে, সলিল আঁখি পাতে,
কেন ফাগুন প্রাতে, সহসা বারি ঝরে।।
ডাকিয়া ফুলবনে, থাকে সে আনমনে,
কাঁদায় নিরজনে, কাঁদে কে কিসের তরে।।

সাহারাতে ডেকেছে আজ বান দেখে যা

বাণী

সাহারাতে ডেকেছে আজ বান দেখে যা।
মরুভূমি হ’ল গুলিস্তান, দেখে যা।।
সেই বানেরই ছোঁওয়ায় আবার আবাদ হল দুনিয়া,
শুকনো গাছে মুঞ্জরিল প্রাণ, দেখে যা।।
বিরান মুকুল আবার হ’ল গুলে গুলে গুলজার,
মক্কাতে আজ চাঁদের বাগান, দেখে যা।।
সেই দরিয়ায় পারাপারের তরী ভাসে কোরআন,
ওড়ে তাহে কলেমার নিশান, দেখে যা।।
কাণ্ডারী তার বন্ধু খোদার হজরত মোহাম্মদ,
যাত্রী যারা এনেছে ঈমান, দেখে যা।।
সেই বানে কে ভাসবি রে আয়, যাবি রে কে ফিরদৌস্
খেয়াঘাটে ডাকিছে আজান, দেখে যা।।

গহন বনে শ্রীহরি নামের মোহন বাঁশি কে

বাণী

গহন বনে শ্রীহরি নামের মোহন বাঁশি কে বাজায়।
ভুবন ভরি’ সেই সুরেরি সুরধুনি বয়ে যায়।।
সেই নামেরি বাঁশির সুরে, বনে পূজার কুসুম ঝুরে
সেই নামেরি নামাবলি, গ্রহ তারা আকাশ জুড়ে
অন্ত বিহীন সেই নামেরি সুর-স্রোতে কে ভাসবি আয়।।

চলচ্চিত্রঃ ধ্রুব (কাহিনীকার: গিরিশ ঘোষ)

সৃজন-ভোরে প্রভু মোরে সৃজিলে

বাণী

	সৃজন-ভোরে প্রভু মোরে সৃজিলে গো প্রথম যবে,
(তুমি)	জান্‌তে আমার ললাট-লেখা, জীবন আমার কেমন হবে।।
		তোমারি সে নিদেশ প্রভু,
		যদিই গো পাপ করি কভু,
	নরক-ভীতি দেখাও তবু, এমন বিচার কেউ কি স’বে।।
	করুণাময় তুমি যদি দয়া কর দয়ার লাগি’
	ভুলের তবে ‘আদমেরে’ করলে কেন স্বর্গ-ত্যাগী!
		ভক্তে বাঁচাও দয়া দানি’
		সে ত গো তার পাওনা জানি’
	পাপীরে লও বক্ষে টানি’ করুণাময় কইব তবে।।