তোমায় আমায় মিল খেয়েছে

বাণী

		তোমায় আমায় মিল খেয়েছে ও প্রেয়সী রাজ-যোটক।
		আমি যেন গোদা চরণ তুমি তাহে বিষ্ফোটক।।
		আমি কুম্‌ড়ো তুমি দা, আমি কাঁচকলা তুমি আদা,
		তুমি তেজী, (আর) আমি ম্যাদা,
আমি		সাপ, তুমি বেজি যেন, বাপ! তুমি হস্তিনী আমি ঘোটক।।
		তুমি বঁটী আমি চিচিঙ্গে, আমি চিল, পিছে তুমি ফিঙে
		আমি টিঙ্ টিঙে, (আর) তুমি ডিঙ্ ডিঙে
প্রিয়ে		আমি ভেতো বাঙালিটি, তুমি যেন বর্গী-ঠগ্‌।।
		আমি দাড়ি তুমি ক্ষুর, তুমি সাপ আমি ল্যাজুড়,
		তুমি মাফ, আমি কসুর
		আমি ভাঙা ভোঙা কলার ভেলা তুমি খিদিরপুরের ডক্।।
		তুমি বঁড়্ শি আমি মাছ; আমি মোম্ তুমি আগুন-আঁচ,
		তুমি আমার হাতের পাঁচ
		তুমি আ জনমে স্বামী হয়ো আমায় দিও পদোদক।।

পিয়া গেছে কবে পরদেশ

বাণী

পিয়া গেছে কবে পরদেশ পিউ কাঁহা ডাকে পাপিয়া,
দোয়েল শ্যামার শিসে তারি হুতাশ উঠিছে ছাপিয়া।।
	পাতারি আড়ালে মুখ ঢাকি'
	মুহুমুহু কুহু ওঠে ডাকি,
বাজে ধ্বনি তারি উহু উহু বিরহী পরাণ ব্যাপিয়া।।
	'বউ কথা কও' পাখি ডাকে —
	কেন মনে প'ড়ে যায় তাকে,
কথা কও বউ — ডাকিত সে মোরে, নিশীথ উঠিত কাঁপিয়া।।

আমায় যারা ঘিরে আছে

বাণী

আমায় যারা ঘিরে আছে আমার মুখে চেয়ে।
তারা আমার নহে হে নাথ, (তারা) তোমার ছেলে মেয়ে।।
	ওদের তুমি রেখো সুখে
	ধ’রে তোমার আপন বুকে
বাঁচুক ওরা তোমার আশির্বাদের প্রসাদ পেয়ে।।
	আমায় দিও দুর্ভাবনার বোঝা যত আছে
(নাথ)	থাকুক পরম নির্ভরতায় ওরা আমার কাছে।
	শুধু তোমার ভরসাতে নাথ
	আমি ওদের ধরেছি হাত,
তোমার স্নেহ মায়ের মত থাকুক ওদের ছেয়ে।।

বসন্ত এলো এলো এলো রে

বাণী

বসন্ত এলো এলো এলো রে
পঞ্চম স্বরে কোকিল কুহরে
মুহু মুহু কুহু কুহু তানে।
মাধবী নিকুঞ্জে পুঞ্জে পুঞ্জে
ভ্রমর গুঞ্জে গুনগুন গানে।।
পিয়া পিয়া ডেকে ওঠে পাপিয়া
মহুল, পলাশ বন-ব্যাপিয়া
সুরভিত সমীরণ চঞ্চল উন্মন
আনে নব-যৌবন প্রাণে।।
বেণুকার বনে বাঁশি বাজে
বনমালী এলো বন-মাঝে
নাচে তরু-লতিকা যেন গোপ-গোপিকা
রাঙা হয়ে রঙের বানে।।

ওমা তুই আমারে ছেড়ে আছিস

বাণী

(মা)	ওমা তুই আমারে ছেড়ে আছিস আমি তাই হয়েছি লক্ষ্মীছাড়া
	ও তোর কৃপা বিনা শক্তিময়ী শুকিয়ে গেল ভক্তিচারা॥
	ওমা তুই আশ্রয় দিলি না তাই, আমি যা পাই তা পথে হারাই
	তোর রসময় ভুবন আমার শ্মশান হল ওমা তারা।
	আজ আনন্দ যমুনা ফেলে এসেছি তাই যমের দ্বারে
	ওমা জীবনে যা পেলাম না তা মরণ যদি দিতে পারে।
মাগো	ওমা তত বাড়ে বুকের জ্বালা, পাই যত যশ খ্যাতির মালা
	রাজপ্রসাদে শুয়ে মাগো শান্তি কি পায় মাতৃহারা॥

কপোত কপোতী উড়িয়া বেড়াই

বাণী

উভয়ে : 	কপোত কপোতী উড়িয়া বেড়াই সুদূর বিমানে আমরা দু’জনে।
		কানন-কান্তর শিহরি’ ওঠে মোদের প্রণয়-মদির কূজনে।।
স্ত্রী 	:	ভ্রমর গুঞ্জে মঞ্জুল গীতি, হেরিয়া আমার বঁধূর প্রীতি,
পুরুষ :	আমার প্রিয়ার নয়নে চাহি’ কুসুম ফুটে ওঠে বিপিনে বিজনে।।
স্ত্রী 	:	তোমা ছাড়া স্বর্গ চাহি না, প্রিয়!
		মোদের প্রেমে চাঁদ আসে নেমে মাটির পাত্রে পান করি অমিয়।।
পুরুষ :	বিশ্ব ভুলায়ে ও-রাঙা পায়ে আমারে বেঁধেছে জীবনে মরণে।।