তুমি কেন এলে পথে

বাণী

তুমি কেন এলে পথে
ঝরা মল্লিকা ভাসাইতেছিনু
	একাকিনী নদী-স্রোতে।।
কলসি আমার অলস খেলায়
ধীর তরঙ্গে যদি ভেসে' যায়
তীরে সে কলসি তুলে' আনো তুমি
	কেন নদী' জল হ'তে।।
আমার নিরালা বনে
আমি গাঁথি হার, তুমি গান গাহি'
	ধ্যান ভাঙো অকারণে।
আমি মুখ হেরি' আরশিতে একা
তুমি সে মুকুরে কেন দাও দেখা
	বাতায়নে চাহি' তুমি কেন হাসো
	আসিয়া চাঁদের রথে।।

প্রিয় কোথায় তুমি কোন গহনে

বাণী

প্রিয় কোথায় তুমি কোন গহনে
কোন ধ্রুবলোকে কোন দূর গগনে।।
খোঁজে কানন তোমায় মেলি' কুসুম-আঁখি,
'তুমি কোথায়' বলি' ডাকে বনের পাখি।
আছ ঠকুর হয়ে কোন দেবালয়ে
কোন শ্রাবন-মেঘে দখিনা পবনে।।
সিন্ধু-বুকে মুখে লুকায়ে নদী
'তুমি কোথায়' বলি' কাঁদে নিরবধি।
	জ্বালি' তারার বাতি
	খোঁজে আঁধার রাতি,
তোমায় খুঁজিয়া নিভিল জ্যোতি মোর নয়নে।।

দোলে বন-তমালের ঝুলনাতে

বাণী

দোলে	বন-তমালের ঝুলনাতে কিশোরী-কিশোর
চাহে	দুঁহু দোঁহার মুখপানে চন্দ্র ও চকোর,
যেন	চন্দ্র ও চকোর প্রেম-আবেশে বিভোর।।
	মেঘ-মৃদঙ বাজে সেই ঝুলনের ছন্দে
	রিম ঝিম বারিধারা ঝরে আনন্দে
	হেরিতে যুগল শ্রীমুখ চন্দে
	গগনে ঘেরিয়া এলো ঘন-ঘটা ঘোর।।
	নব নীরদ দরশনে চাতকিনী প্রায়
	ব্রজ-গোপিনী শ্যামরূপে তৃষ্ণা মিটায়
গাহে	বন্দনা-গান দেব-দেবী অলকায়
	ঝরে বৃষ্টিতে সৃষ্টির প্রেমাশ্রু-লোর।।

বাঁশি কে বাজায় বনে আমি চিনি

বাণী

বাঁশি কে বাজায় বনে আমি চিনি আমি চিনি,
কলসে কাঁকন চুড়ি তাল দিয়ে কয় গো রিনিঝিনি।
			আমি চিনি আমি চিনি।।
বুঝি গো বন পাপিয়া তারেই দেখে
‘চোখ গেল, চোখ গেল’ বলে উঠে ডেকে।
ও বাঁশি বাজলে ‘জলে যাসনে’, (ও বৌ যাস্‌নে)
বলে ‘ননদিনী’ ‘ননদিনী’।আমি চিনি আমি চিনি।।
মোর সেই বাঁশুরিয়ায় চেনে পাড়ার পড়শিরা
চেনে তায় যায় যমুনায় গো যত প্রেমের গরবীরা।
সে যে মোর ঘর জ্বালানো পর ভুলানো
আমার কালো বরণ গো, তমালের ডাল দুলানো।
মন কয় আমায় নিয়ে গো সেই ত খেলে ছিনিমিনি।।

চল রে কাবার জিয়ারতে

বাণী

চল রে কাবার জিয়ারতে, চল নবীজীর দেশ।
দুনিয়াদারির লেবাস খুলে পর রে হাজীর বেশ।।
আওকাতে তোর থাকে যদি - আরফাতের ময়দান,
	চল আরফাতের ময়দান,
এক জামাত হয় যেখানে ভাই নিখিল মুসলমান। 
মুসলিম গৌরব দেখার যদি থাকে তোর খায়েশ।।
যেথায় হজরত হলেন নাজেল মা আমিনার ঘরে
খেলেছেন যার পথে-ঘাটে মক্কার শহরে, 
	চল মক্কার শহরে।
সেই মাঠের ধূলা মাখবি যথা নবী চরাতেন মেষ।।
ক'রে হিজরত কায়েম হলেন মদিনায় হজরত - যে মদিনায় হজরত,
সেই মদিনা দেখবি রে চল, মিটবে রে তোর প্রানের হসরত;
সেথা নবীজীর ঐ রওজাতে তোর আরজি করবি পেশ।। 

তোমা বিনা মাধব রহিতে পারি না

বাণী

তোমা বিনা মাধব রহিতে পারি না আর।
বায়ু বিনা যেমন বাঁচে না জীবন তেমনি আপন তুমি যে আমার॥
	মেঘ বিনা চাতকিনী মরে যায়,
	জল বিনা যেমন শতদল ঝরে যায়,
তিল্ তিল্ করি মরিতেছি আমি যে তেমনি বিরহে তোমার॥
তুমি ছাড়া প্রীতম্ মনে হয় কেহ মোর নাহি এ নিখিলে;
নিভে গেছে রবি-শশী, ডুবে গেছে পৃথিবী প্রলয়-সলিলে।
আর সকলের, তুমি প্রভু, ধ্রুব-জ্যোতি;
			কৃষ্ণ নয়ন-তারা তুমি যে মীরার॥