এ দেবদাসীর পূজা লহ হে ঠাকুর

বাণী

এ দেবদাসীর পূজা লহ হে ঠাকুর।
দয়া কর, কথা কও, হ’য়ো না নিঠুর।।
লহ মান অভিমান, দেহ প্রাণ মন
মম প্রেম-ধূপ নাও রূপচন্দন,
এই লহ আভরণ, চুড়ি-কঙ্কন –
চোখের দৃষ্টি নাও কণ্ঠের সুর।।
আজ, শেষ ক’রে আপনারে দিব তব পায়,
চাও চাও মোর কাছে যাহা সাধ যায়।
কহিবে না কথা কি গো তুমি কিছুতেই?
আরতির থালা তবে ফেলে দিনু এই,
নাচিব না, বাজুক না মৃদঙ্গ তাল –
খুলিয়া রাখিনু এই পায়ের নূপুর।।

মোর স্বপ্নে যেন বাজিয়েছিলে

বাণী

মোর স্বপ্নে যেন বাজিয়েছিলে করুণ রাগিণী।
হে রূপকুমার! ঘুমিয়েছিলাম, সেদিন জাগিনি।।
	যেন আধোঘুমের ঘোরে
	দেখেছিলাম চুরি ক’রে,
চাইতে গিয়ে চোখের জলে চাইতে পারিনি।।
তন্দ্রা আমার টুট্ল তবু শরম ভরে,
(হে) চির-চাওয়া! পারিনি’ক ডাকতে আদরে।
	চেয়ে চেয়ে আমার পানে
	চ’লে গেলে অভিমানে,
(তোমার) পথের-ধূলি হইনি কেন হতভাগিনী।।

এলো এলো রে ঐ সুদূর বন্ধু এলো

বাণী

এলো এলো রে ঐ সুদূর বন্ধু এলো।
এলো পথ চাওয়া এলো হারিয়ে পাওয়া
মনের আঁধার দূরে গেল, ঐ বন্ধু এলো।।
এলো চঞ্চল বন্যার ঢল মন্থর স্রোত-নীড়ে,
এলো শ্যামল মেঘ-মায়া তৃষিত গগন ঘিরে;
তার পলাতকা মৃগে বন ফিরে পেল।।
এলো পবনে বিহ্‌বল চঞ্চলতা
যেন শান্ত ভবনে এলো সারা ভুবনের কল-কথা।
অলি গুঞ্জরি’ কয় জাগো বনবীথি;
ডাকে দখিনা মলয় — এলো এলো অতিথি;
বাজে তোরণ দ্বারে বাঁশরি গীতি,
দুখ নিশি পোহাল, আঁখি মেল।।

নাটিকা: ‌‘বাসন্তিকা’

ও কে কলসি ভাসায়ে জলে

বাণী

ও কে কলসি ভাসায়ে জলে আনমনে।
তীরে ব’সে কী ভাবে আর ঢেউ গণে।।
নিয়ে শিথিল আঁচল খেলে উতল সমীর
তার আল্‌তা পায়ের মুছে নেয় নদী-নীর,
খুলে কবরী জড়ায় হাতের কাঁকনে।।
সে জল্‌কে আসার ছলে নদী-তীরে
শুধু ওপার পানে চাহে ফিরে ফিরে,
খুলে পায়ের নূপুর ফেলে দেয় সে নীরে —
আসে ঘরে ফিরে নিয়ে জল নয়নে।।

কী অনল জ্বলে লো সই

বাণী

	কী অনল জ্বলে লো সই কী অনল জ্বলে।
	নয়ন ভরল জলে লো সই আমার হিয়ার তলে।।
(আমি)	উদাসী পাগল হ’য়ে না ত্যাজিলাম কায়া
এই	চাঁদের মুখে পড়ল আমার রাহুল প্রেমের ছায়া,
মোর	বুকের মাঝে সাত সিন্ধুর একি ঢেউ উথলে।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (ঘুমপরীর গান)

নাইয়া ধীরে চালাও তরণী

বাণী

	নাইয়া! ধীরে চালাও তরণী
	একে ভরা ভাদর তায় বালা মাতোয়ালা মেঘলা রজনী।।
	হায় পারে নেওয়ার ছলে নিলে মাঝ নদীতে
	যৌবন-নদী টলমল নারি রোধিতে
ঐ	ব্যাকুল বাতাস হরি’ নিল লাজ বাস
তায়	চঞ্চল-চিত যে তুমি চাহ বধিতে
	পায়ে ধরি ছাড়, বঁধু আমি পরের ঘরের ঘরণী।।
	তরঙ্গ ঘোর রঙ্গ করে, অঙ্গে লাগে দোল্
	একি এ নেশার ঘোরে তনু মন আঁখি লোল্।
	দুলিছে নদী দুলে বায়ু দুলিছে তরী
	কেমনে থির রাখি মোর চিত উতরোল ।
	ওঠে ডিঙি পান্‌সি ভরি’ বারি কি করি কিশোরী রমণী।।