গত রজনীর কথা পড়ে মনে

বাণী

গত রজনীর কথা পড়ে মনে রজনীগন্ধার মদির গন্ধে।
এই সে ফুলেরই মোহন-মালিকা জড়ায়ে ছিল সে কবরী-বন্ধে।।
বাহুর বল্লরী জড়ায়ে তার গলে
আধেক আঁচলে বসেছি তরুতলে,
		দুলেছে হৃদয় ব্যাকুল ছন্দে।।
মুখরা ‘বউ কথা কও’ ডেকেছে বকুল-ডালে,
লাজে ফুটেছে লালী গোলাপ-কুঁড়ির গালে।
কপোলের কলঙ্ক মোর মেটেনি আজো যে সই
জাগিছে তা’রি স্মৃতি চাঁদের কপোলে ঐ,
		কাঁদিছে নন্দন আজি নিরানন্দে।।

১. হাসিছে নন্দন আমি পরমানন্দে।।

অন্ধকারে দেখাও আলো কৃষ্ণ

বাণী

অন্ধকারে দেখাও আলো কৃষ্ণ নয়ন-তারা।
কালো মেঘে অন্ধ-আকাশ পথিক পথ-হারা।।
	ভক্ত কাঁদে অকূল ভবে,
	গোকূলে তায় ডাকবে কবে।
অশান্ত এ চিত্তে হরি বহাও শান্তি-ধারা।।

সন্ধ্যা-গোধূলি লগনে কে

বাণী

সন্ধ্যা–গোধূলি লগনে কে
রাঙিয়া উঠিলে কারে দেখে।।
হাতের আলতা পড়ে গেল পায়ে
অস্ত–দিগন্ত বনান্ত রাঙায়ে,
আঁখিতে লজ্জা, অধরে হাসি —
কেন অঞ্চলে মালা ফেলিলে ঢেকে।।
চিরুনি বিনোদ বিনুনীতে বাঁধে
দেখিলে সে কোন সুন্দর চাঁদে,
হৃদয়ে ভীরু প্রদীপ শিখা
কাঁপে আনন্দে থেকে থেকে।।

প্রেমের হাওয়া বইল যখন

বাণী

প্রেমের হাওয়া বইল যখন মুকুল গেল ঝ’রে।
প্রদীপ নিভে রইল, যখন তুমি এলে ঘরে।।
	তোমার আসার লগ্ন এলো
	যে-দিন আশা ফুরিয়ে গেল,
মন গিয়াছে ম’রে যখন পেলাম মনোহরে।।
আঘাত দিয়ে দিয়ে যে-দিন করলে পাষাণ মোরে,
সেদিন নিয়ে বসালে হায়! তোমার ঠাকুর ঘরে।
	তোমার শুভ দৃষ্টি লাগি’
	বহু সে-যুগ ছিলাম জাগি’
আজি কি বেলা-শেষে তুমি এলে স্বয়ম্বরে।।

ঝিল্লি-নূপুর বাজে

বাণী

ঝিল্লি-নূপুর বাজে।
বিভাবরী নাচে বন-শবরী সাজে।।
তিমির কুন্তলে তারার ফুল দোলে
চাঁদের চন্দন-ফোঁটা ললাট-মাঝে।।
দোলে নদী-জল অঞ্চল ধীরে
বন-বেণী দোলে চঞ্চল-সমীরে।
জাগে দুরন্ত নিশীথ-বসন্ত
ঘুমন্ত নববধূ রেঙে ওঠে লাজে।।

কাঁদিতে এসেছি আপনার ল’য়ে

বাণী

কাঁদিতে এসেছি আপনার ল’য়ে কাঁদাতে আসিনি হে প্রিয়, তোমারে।
এ মম আঁখি-জল আমরি নয়নের, ঝরিবে না এ জল তোমার দুয়ারে।।
	ভালো যদি বাসি একাকী বাসিব
	বিরহ-পাথারে একাকী ভাসিব,
কভু যদি ভুলে আসি তব কূলে, চমকি’ চলিয়া যাব দূর পারে।।
	কাঁটার বনে মোর ক্ষণেকের তরে
	ফুটেছে রাঙা ফুল শুধু লীলা-ভরে,
	মালা হয়ে কবে দুলিবে গলে কা’র।
	জাগিব একাকী ল’য়ে স্মৃতি কাঁটার
	কেহ জানিবে না, শুকাল কে কোথা
	কা’র ফুলে কা’রে সাজালে দেবতা,
নিশীথ-অশ্রু মোর ঝরিবে বিরলে তব সুখ-দিনে হসির মাঝারে।।

১. মম আঁখি-বারি, ২. থাকুক আমারি, ৩. গলে