তোর রাঙা পায়ে নে মা শ্যামা

বাণী

তোর রাঙা পায়ে নে মা শ্যামা আমার প্রথম পূজার ফুল।
ভজন, পূজন জানি না মা হয়ত হবে কতই ভুল।।
	দাঁড়িয়ে দ্বারে ‘মা মা’ বলে
	ভাসি আমি নয়ন জলে।
ভয় হয় মা ছুঁই কেমনে মা তোর পূজার বেদী-মূল।।
আশ্রয় মোর নাই জননী ত্রিভুবনে কোথাও হায়!
দাঁড়াই মাগো কাহার কাছে তুইও যদি ঠেলিস পায়।
	হানে হেলা সবাই যা’রে
	তুই নাকি কোল দিস্‌ মা তা’রে	
আমি সেই আশাতে এসেছি মা অকূলে তুই দে মা কূল।।

শ্যামের সাথে চল সখি খেলি সবে হোরি

বাণী

শ্যামের সাথে চল সখি খেলি সবে হোরি।
রঙ নে, রঙ দে, মদির আনন্দে, আয় লো বৃন্দাবনী গোরী।।
আয় চপল যৌবন-মদে মাতি অল্প-বয়সী কিশোরী।।
রঙ্গিলা গালে তাম্বুল-রাঙা ঠোঁটে হিঙ্গুল রঙ লহ ভরি;
ভুরু-ভঙ্গিমা সাথে রঙ্গিম হাসি পড়ুক মুহু মুহু ঝরি’।।
আগুন-রাঙা ফুলে ফাগুন লাগে লাল,
কৃষ্ণচূড়ার পাশে অশোক গালে-গাল।
আকুল করে ডাকি’ বকুল বনের পাখি,
যমুনার জল লাল হ’ল আজ আবির, ফাগের রঙে ভরি।।

১. শ্যাম অঙ্গ আজি রঙে রঙে রাঙা হয়ে কি শোভা ধরেছে মরি! মরি!

চোখের বাঁধন খুলে দে মা

বাণী

		চোখের বাঁধন খুলে দে মা খেলব না আর কানামাছি।
আমি		মার খেতে আর পারি না মা এবার বুড়ি ছুঁয়ে বাঁচি।।
			তুই পাবি অনেক মেয়ে ছেলে
			যাদের সাধ মেটেনি খেলে খেলে,
তুই		তাদের নিয়েই খেল না মা গো শ্রান্ত আমি রেহাই যাচি।
		দুঃখ-শোক-ঋণ-অভাব ব্যাধি মায়ার খেলুড়িরা মিলে,
		শত দিকে শত হাতে আঘাত হানে তিলে তিলে।
			চোর হয়ে মা আর কত দিন 
			ঘুরব ভবে শান্তিবিহীন,
তোর		অভয় চরণ পাই না কেন মা তোর এত কাছে আছি।।

বিদ্রোহী (দ্বিতীয় খন্ড)

বাণী

আমি	বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বী-নয়নে বহ্ণি,
আমি	ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি!
আমি	উন্মন মন উদাসীর,
আমি	বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি	বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত পথিকের,
আমি	অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয়-লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের!
আমি	অভিমানী চির-ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়,
	চিত-চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম পরশ কুমারীর!
আমি	গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল-ক’রে দেখা অনুখন,
আমি	চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা’র কাঁকন-চুড়ির কন-কন!
আমি	চির-শিশু, চির-কিশোর,
আমি	যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচড় কাঁচলি নিচোর!
আমি	উত্তর-বায়ু, মলয়-অনিল, উদাস পূরবী হাওয়া,
আমি	পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গাওয়া।
আমি	আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি,
আমি	মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি!
আমি	তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, এ কি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!
আমি	সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!
আমি	অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
	মহা-সিন্ধু উতলা ঘুমঘুম
	ঘুম্‌ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্‌ঝুম
	মম বাঁশরীর তানে পাশরি’।
আমি	শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি	পরশুরামের কঠোর কুঠার,
	নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
	মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি	সেই দিন হব শান্ত,
যবে	উত্‍পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না —
	অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না —
	বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি	সেই দিন হব শান্ত।
আমি	বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি	স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি	বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি	খেয়ালী-বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি	চির-বিদ্রোহী বীর —
	বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!
	শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল	বীর -
	বল উন্নত মম শির!
বল	বীর, বল বীর।

কেন চঞ্চল অঞ্চল দুলিয়া ওঠে

বাণী

কেন চঞ্চল অঞ্চল দুলিয়া ওঠে রহি’ রহি’।
মুহু মুহু কুহু কুহু কুহু যে কহে এলে কে বিরহী।।
কেন নূপুর বেজে ওঠে ছন্দে
দোলা লাগে অঙ্গে আনন্দে,
দখিন হাওয়া কেন অধীর হল হেন —
কুসুমের কানে যায় কি কথা কহি’।।

আমায় যারা দেয় মা ব্যথা

বাণী

আমায় যারা দেয় মা ব্যথা আমায় যারা আঘাত করে,
	তোরই ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী!
আমায় যারা ভালবাসে বন্ধু ব’লে বক্ষে ধরে, -
	তোরই ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী!!
	আমার আপমান করে যে
	মাগো তোরই ইচ্ছা সে যে
আমায় যারা যায় মা ত্যেজে যারা আমার আসে ঘরে,
	তোরই ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী॥
আমার ক্ষতি করতে পারে অন্য লোকের সাধ্য কি মা;
দুঃখ যা পাই তোরই সে দান, মাগো সবই তোর মহিমা!
	তাই পায়ে কেহ দলে যবে
	হেসে সয়ে যাই নীরবে,
কে কারে দুখ্ দেয় মা কবে তোর আদেশ না পেলে পরে
তোরই ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী!!