এলো এলো রে ঐ সুদূর বন্ধু এলো

বাণী

এলো এলো রে ঐ সুদূর বন্ধু এলো।
এলো পথ চাওয়া এলো হারিয়ে পাওয়া
মনের আঁধার দূরে গেল, ঐ বন্ধু এলো।।
এলো চঞ্চল বন্যার ঢল মন্থর স্রোত-নীড়ে,
এলো শ্যামল মেঘ-মায়া তৃষিত গগন ঘিরে;
তার পলাতকা মৃগে বন ফিরে পেল।।
এলো পবনে বিহ্‌বল চঞ্চলতা
যেন শান্ত ভবনে এলো সারা ভুবনের কল-কথা।
অলি গুঞ্জরি’ কয় জাগো বনবীথি;
ডাকে দখিনা মলয় — এলো এলো অতিথি;
বাজে তোরণ দ্বারে বাঁশরি গীতি,
দুখ নিশি পোহাল, আঁখি মেল।।

নাটিকা: ‌‘বাসন্তিকা’

যে-হার দিলে ভালোবেসে

বাণী

(তুমি)	যে-হার দিলে ভালোবেসে সে-হার আমার হ’ল ফাঁসি।
(প্রিয়)		সেই হার আজ বক্ষে চেপে আকুল নয়ন-জলে ভাসি।।
			তুমি জান অন্তর্যামী
			দান তো তোমার চাইনি আমি,
		তোমায় শুধু চেয়েছিলাম সাধ ছিল মোর হ’তে দাসী।।
		দুখের মালা কেড়ে নিয়ে কেন দিলে মতির মালা,
		মালায় শীতল হবে কি নাথ! শূন্য আমার বুকের জ্বালা?
		(মোরে) রেখো না আর সোনার রথে
			ডাকো তোমার তীর্থ-পথে,
(আমার)	সুখের ঘরে আগুন জ্বালো শোনাও বাঁশি সর্বনাশী।।

১. চেয়েছিলাম তোমায় স্বামী

নিপীড়িতা পৃথিবী ডাকে

বাণী

নিপীড়িতা পৃথিবী ডাকে জাগো চন্ডিকা মহাকালি।
মৃতের শ্মশানে নাচো মৃত্যুঞ্জয়ী মহাশক্তি দনুজ-দলনী করালি॥
		প্রাণহীন শবে শিব-শক্তি জাগাও
		নারায়ণের যোগ-নিদ্রা ভাঙাও
অগ্নিশিখায় দশদিক রাঙাও বরাভয়দায়িনী নৃমুন্ডমালি॥
শ্রী চন্ডিতে তোরই শ্রীমুখের বাণী
কলিতে আবির্ভাব হবে তোর ভবানী।
		এসেছে কলি, কালিকা এলি কই
		শুম্ভ-নিশুম্ভ জন্মেছে পুন ঐ
অভয়বাণী তব মাভৈঃ মাভৈঃ শুনিব কবে মাগো খর করতালি॥

কালো পাহাড় আলো করে কে

বাণী

কালো পাহাড় আলো করে কে ও কে কালো শশী,
নিতুই এসে লো বাজায় বাঁশি কদম তলায় বসি।।
	সই লো মানা কর্‌ না ওকে,
	ও চায় না যেন অমন চোখে,
ওর চাউনি দেখে অলপ বয়সে হলাম দোষী।।
গুরুজনের সে ভয় করে না,
বাঁকিয়ে ভুরু ডাকে — সে ডাকে, আমারে সে ডাকে।
রাতের বেলায় চোরের মত চাহে বেড়ার ফাঁকে।
	আমি না চাহিলে নূপুর ছুঁড়ে
	কলসি ভেঙে পালায় দূরে,
আমি মরেছি সই প'রে তাহার বনমালার রশি।।

খোদার প্রেমের শরাব পিয়ে

বাণী

খোদার প্রেমের শরাব পিয়ে বেহুঁশ হয়ে রই প’ড়ে
ছেড়ে’ মস্‌জিদ আমার মুর্শিদ এল যে এই পথ ধ’রে।।
দুনিয়াদারির শেষে আমার নামাজ রোজার বদ্‌লাতে
চাইনে বেহেশ্‌ত্‌ খোদার কাছে নিত্য মোনাজাত ক’রে।।
কায়েস যেমন লাইলী লাগি’ লভিল মজনু খেতাব
যেমন ফরহাদ শিঁরির প্রেমে হ’ল দিওয়ানা বেতাব।
বে–খুদীতে মশ্‌গুল্‌ আমি তেমনি মোর খোদার তরে।।

বিজলি খেলে আকাশে কেন

বাণী

বিজলি খেলে আকাশে কেন — কে জানে গো কে জানে।
কোন্ চপলের চকিত চাওয়া চমকে বেড়ায় দূর বিমানে।।
	মেঘের ডাকে সিন্ধু-কূলে
	অশান্ত স্রোত উঠ্‌লে দুলে,
সজল ভাষায় শ্যামল যেন কইল কথা কানে কানে।।
	বারি-ধারায় কাঁদে বুঝি
	মোর ঘনশ্যাম মোরে খুঁজি’,
আজ বরষার দুখের রাতে বন্ধুরে মোর পেলাম প্রাণে।।