ওরে রাখাল ছেলে বল্ কি রতন পেলে

বাণী

ওরে রাখাল ছেলে বল্ কি রতন পেলে
দিবি হাতের বাঁশি, তোর ঐ হাতের বাঁশি।
বাঁধা দিয়ে খাড়ু আনব ক্ষীরের নাড়ু
অম্‌নি হেলেদুলে এক্‌বার নাচ্ রে আসি॥
দেখ মাখাতে তোর গায়ে ফাগের গুড়া,
আমার আঙ্গিনাতে ঝরা কৃষ্ণচূড়া।
আমার গলার হার খুলে পরাব আয় কিশোর
		তোর পায়ে ফাঁসি॥
যেন কালিদহের জলে সাপের মানিক জ্বলে,
চোখের হাসি, তোর ঐ চোখের হাসি,
ও তুই কি চাস্ চপল মোরে বল্
আমি মরেছি যে তোরে ভালোবাসি॥
আসিস্ আমার বাড়ি রাখাল দিন ফুরালে
আমার চুড়ির তালে দুলবি কদম ডালে।
ছেড়ে গৃহ-সংসার ওর বাঁশুরিয়া,
		হব চরণ দাসী।

আসিছেন হাবিব-এ খোদা

বাণী

আসিছেন হাবিব-এ খোদা আরশ্‌পাকে তাই উঠেছে শোর,
চাঁদ পিয়াসে ছুটে আসে আকাশ পানে যেমন চকোর।
কোকিল যেমন গেয়ে ওঠে ফাগুন আসার আভাস পেয়ে,
তেমনি ক’রে হরষিত ফেরেশ্‌তা সব উঠলো গেয়ে:
দেখ আজ আরশে আসেন মোদের নবী কম্‌লিওয়ালা।
হের সেই খুশিতে চাঁদ-সুরুজ আজ হ’ল দ্বিগুণ আলা।।
ফকির দরবেশ্‌আউলিয়া যাঁরে, ধ্যানে জ্ঞানে ধ’রতে নারে,
যাঁর মহিমা বুঝিতে পারে এক সে আল্লাহ তালা।।
বারেক মুখে নিলে যাঁহার নাম, চিরতরে হয় দোজখ্‌হারাম,
পাপীর তরে দস্তে যাঁহার কওসরের পিয়ালা।।
‘মিম্‌’ হরফ না থাকলে সে আহাদ, নামে মাখা তার শিরিন শাহাদ্,
নিখিল প্রেমাষ্পদ আমার মোহাম্মদ ত্রিভুবন উজালা।।

কলঙ্কে মোর সকল দেহ হলো কৃষ্ণময়

বাণী

	কলঙ্কে মোর সকল দেহ হলো কৃষ্ণময়
	শ্যামের নামে হউক এবার আমার পরিচয়।।
		কলঙ্কিনীর তিলক এঁকে
		কলঙ্ক-চন্দন মেখে'
আমি	শোনাব গো ডেকে ডেকে কলঙ্কেরি জয়, কৃষ্ণ-কলঙ্কেরি জয়।।
	ভুবনে মোর ঠাঁই পেয়েছি ভবন হতে নেমে'
হয়ে	বৈরাগিনী আমার কৃষ্ণ-প্রিয়তমের প্রেমে।
	যারে কৃষ্ণ টানে বিপুল টানে
	সে কি কুলের বাধা মানে
এই	বিশ্ববৃজে ভাগ্যবতী সেই শ্রীমতী হয়।।

ধীরে ধীরে আসি'

বাণী

(সে) ধীরে ধীরে আসি'
আধো ঘুমে বাজাল বাঁশি।
	ফুল-রাখি দিল বাঁধি হাসি।।
জাগিয়া নিশি-ভোরে
না হেরি বাঁশির কিশোরে,
	চাঁদ-তরী বেয়ে গেল ভাসি।।

সেদিন নিশীথে মোর কানে কানে

বাণী

সেদিন নিশীথে মোর কানে কানে যে কথাটি গেছ বলে
প্রথম মুকুল হয়ে সেই বাণী মালতী লতায় দোলে।।
	সে-কথাটি আবার শুনিবে বলিয়া
	আড়ি পাতে চাঁদ মেঘে লুকাইয়া
চাহে চুপি চুপি পিয়াসি পাপিয়া ঘন পল্লব তলে।।
বসে আছি সেই মালতী বিতানে আজ তুমি নাই কাছে —
ম্লান মুখে পথ চাহে ফুলগুলি আঁধার বকুল গাছে।
	দখিনা বাতাস করে হায় হায়
	ঝরিছে কুসুম শুকনো পাতায়
নিবু নিবু হল তোমার আশায় চাঁদের প্রদীপ জ্বলে।।

নিয়ে কাদা মাটির তাল খেলে হোরি

বাণী

[ছ্যারা রারা রারা রারা হোলি হ্যায়]
নিয়ে কাদা মাটির তাল খেলে হোরি ভূতের পাল।
নর্দমা হতে ছিটায় কর্দম হর্দম ‘কাহার’ চাঁড়াল।।
দুই পাশের পথিকের গায়, কাদা ছিটিয়ে মোটর যায়,
নল দিয়ে ঐ জল ছিটায় ফুটপাথে উড়িয়া-দুলাল।।
হুরর গুয়ে গ্যাঁদাল ঘেঁটুর চারা, যা চলে যা ছাপরা আরা,
নিয়ে আয় বৃন্দাবনের হোলির কাদা, মূলতানী বলদের নাদা।
ছ্যারা রারা রারা রারা ছ্যারা রারা রারা রারা,
ডাল রুটি রুটি ডাল ডাল রুটি রুটি ডাল
রুটি ডাল রুটি ডাল ডাল, রুটি ডাল রুটি ডাল ডাল
মেখে চুকে মেখে চুকে গো-চোনারই গোলাপ জল
ছিটায় ভাগলপুরী গাই।
ঝি ঢেলে দেয় ছাত থেকে গোবর-গোলা আকার ছাই।
দেয় ফেলে পিকদানীর পিচ কাপড় চোপড় লালে লাল।।
[হোলি হ্যায় হোলি]
ভুঁড়িতে ফুঁড়িছে ডাক্তার পিচকারিতে হোলি হ্যায়!
টক্কর খেয়ে উল্টে পড়ে ময়লা গাড়ি হোলি হ্যায়!
ষাঁড়ের গুঁতোয় পড়ে খানায় খেলে হোরি পাঁড় মাতাল।।
[কি ব্যাপার রাই মাছের চপ হয়ে গেছি বাবা!]

‘হোরির হর্‌রা’