বনকুসুম-তনু তুমি কি মধুমতী

বাণী

বনকুসুম-তনু তুমি কি মধুমতী!
ঢল ঢল নয়নে রস-ঘন মিনতি।।
রুমুঝুমু ঘুমুরে ঘুমুঘুমু বিবশা
নিথর বসুমতী, নিশিমদ-অলসা,
মুরছিত চরণে শত মদন রতি।।
রস-ছলছল গো তব মধু কলসে
ঝরঝর ঝরনা অনুখন বরষে,
অরুণিত নয়না মধুর রসবতী।।

১. বধুরম মধুরম মধুর রসবতী।।

আমার আনন্দিনী উমা আজো এলো না

বাণী

(আমার) 	আনন্দিনী উমা আজো এলো না তার মায়ের কাছে।
		হে গিরিরাজ! দেখে এসো কৈলাসে মা কেমন আছে॥
			মোর মা যে প্রতি আশ্বিন মাসে
			মা মা ব’লে ছুটে আসে,
		‘মা আসেনি’ ব’লে আজও ফুল ফোটেনি লতায় গাছে ॥
		তত্ত্ব-তলাশ নিইনি মায়ের তাই বুঝি মা অভিমানে,
		না এসে তার মায়ের কোলে ফিরিছে শ্মশান মশানে।
			ক্ষীর নবনী ল’য়ে থালায়
			কেদে ডাকি, ‘আয় উমা আয়’।
		যে কন্যারে চায় ত্রিভুবন তাকে ছেড়ে মা কি বাঁচে॥

চম্পা পারুল যূথী টগর চামেলা

বাণী

চম্পা পারুল যূথী টগর চামেলা।
আর সই, সইতে নারি ফুল-ঝামেলা।।
	সাজায়ে বন-ডালি,
	বসে রই বন-মালি
যা'রে দিই এ ফুল সেই হানে হেলাফেলা।।
	কে তুমি মায়া-মৃগ
	রতির সতিনী গো
ফুল নিতে আসিলে এ বনে অবেলা।।
	ফুলের সাথে প্রিয়
	ফুল মালরে নিও
তুমিও এক সই, আমিও একেলা।।

নীলাম্বরী শাড়ি পরি নীল যমুনায়

বাণী

নীলাম্বরী–শাড়ি পরি’ নীল যমুনায় কে যায়?
যেন জলে চলে থল–কমলিনী ভ্রমর নূপুর হয়ে বোলে পায় পায়।।
		কলসে কঙ্কনে রিনিঠিনি ঝনকে,
		চমকায় উন্মন চম্পা বনকে,
দলিত অঞ্জন নয়নে ঝলকে, পলকে খঞ্জন হরিণী লুকায়।।
অঙ্গের ছন্দে পলাশ–মাধবী অশোক ফোটে,
নূপুর শুনি’ বনতুলসীর মঞ্জরী উলসিয়া ওঠে।
		মেঘ–বিজড়িত রাঙা গোধূলি
		নামিয়া এলো বুঝি পথ ভুলি,
তাহার অঙ্গ তরঙ্গ–বিভঙ্গে কুলে কুলে নদী জল উথলায়।।

দোলে প্রাণের কোলে প্রভূর নামের মালা

বাণী

দোলে প্রাণের কোলে প্রভূর নামের মালা।
সকাল সাঁঝে সকল কাজে জপি সে নাম নিরালা।।
সেই নাম বসন-ভূষণ আমারি
সেই নামে ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিবারি,
সেই নাম লয়ে বেড়াই কেঁদে
	সেই নামে আবার জুড়াই জ্বালা।।
সেই নামরেই নামাবলী গ্রহ তারা রবি শশী দোলে গগন কোলে।
	মধুর সেই নাম প্রাণে সদা বাজে,
	মন লাগে না সংসার কাজে
		সে নামে সদা মন মাতোয়ালা।।
আদর-সোহাগ মান -অভিমান আপন মনে তার সাথে;
	কাঁদায়ে কাঁদি, পায়ে ধ'রে সাধি,
	কভু করি পূজা, কভু বুকে বাঁধি,
	আমার স্বামী সে ভুবন-উজালা।।

ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না

বাণী

ওর নিশীথ-সমাধি ভাঙিও না।
মরা ফুলের সাথে ঝরিল যে ধূলি-পথে —
সে আর জাগিবে না, তারে ডাকিও না।।
তাপসিনী-সম তোমারি ধ্যানে
সে চেয়েছিল তব পথের পানে,
জীবনে যাহার মুছিলে না আঁখি ধার আজি তাহার পাশে কাঁদিও না।।
মরণের কোলে সে গভীর শান্তিতে পড়েছে ঘুমায়ে,
তোমারি তরে গাঁথা শুকানো মালিকা বক্ষে জড়ায়ে
যে মরিয়া জুড়ায়েছে, ঘুমাইতে দাও তারে জাগিও না।।