মনে পড়ে আজও সেই নারিকেল-কুঞ্জ

বাণী

মনে পড়ে আজও সেই নারিকেল-কুঞ্জ গুবাক্ তরুর ঘন-কেয়ারি
বালুচর, বেত-বন, দেখা হ’ত দুইজন, মন হ’ত উন্‌মন দোঁহারি।।
	গাছ থেকে টুপ্‌টাপ্‌ ঝরিত কালো জাম
	জাম ফেলে চুপচাপ মেঘ পানে চাহিতাম,
গাব নিয়ে কাড়াকাড়ি, ভাব হ’ত, হ’ত আড়ি দু’জনে —
আমি ছিনু ধনিকের ছেলে গো ছিলে ভুঁইমালিদের তুমি ঝিয়ারি।।
ভূঁইমালিদের ঘরে ভূঁইচম্পার কলি ডুমা-পরা উমা সম খেলিতে,
আমার দালান ঘরে দোতালায় কেন গো উতলা মনে ছায়া ফেলিতে।
সহসা হেরিনু তব বধূরূপ, ভাঙা চালা, হাতে তব চালুনি,
পার্শ্বে দামাল ছেলে কাঁদিছে, হেরিয়া পান্তাভাত আলুনি।
	ঘোম্‌টা টানিয়া দিলে আমারে হেরিয়া
	উদাস চোখে এলো কালো মেঘ ঘেরিয়া,
তা’রে চিনতে কি পেরেছিলে প্রণাম যে করেছিল কল্যাণী রূপ তব নেহারি’।।

বনপথে কে যায়

বাণী

বনপথে কে যায়।
মনে হয় যেন তারে চিনি আমি হায়।।
ছন্দে জাগায়ে সে-নিশীথ নিঝুম
বাজে নূপুর তার রুমা ঝুমা ঝুম্,
জাগে নিশীথিনী এলোচুলে পাষাণ বুকে নির্ঝর জাগায়।।

নামাজ পড় রোজা রাখ কল্‌মা পড় ভাই

বাণী

নামাজ পড়, রোজা রাখ, কল্‌মা পড় ভাই।
তোর আখেরের কাজ করে নে, সময় যে আর নাই।।
	সম্বল যার আছে হাতে
	হজ্বের তরে যা কা'বাতে,
জাকাত দিয়ে বিনিময়ে শাফায়াত যে পাই।।
ফরজ তরক্ ক'রে কর্‌লি করজ ভবের দেনা,
আল্লাহ ও রসুলের সাথে হ'ল না তোর চেনা। 
	পরানে রাখ কোরআন বেঁধে,
	নবীরে ডাক কেঁদে কেঁদে্‌
রাত্রি দিন তুই কর মোনাজাত — আল্লাহ্ তোমায় চাই।।

পাকা ধানের গন্ধ-বিধুর

বাণী

পাকা ধানের গন্ধ-বিধুর হেমন্তের এই দিন-শেষে,
সুরের দুলাল, আসলে ফিরে দিগ্‌বিজয়ীর বর-বেশে।
আজো মালা হয়নি গাঁথা হয়নি আজো গান রচন,
কুহেলিকার পর্দা-ঢাকা আজো ফুলের সিংহাসন।
অলস বেলায় হেলাফেলায় ঝিমায় রূপের রংমহল,
হয়নি ক’ সাজ রূপ-কুমারীর, নিদ্ টুটেছে এই কেবল।
আয়োজনের অনেক বাকি - শুন্‌নু হঠাৎ খোশ্‌খবর,
ওরে অলস, রাখ্ আয়োজন, সুর-শা’জাদা আস্‌ল ঘর।
ওঠ্ রে সাকি থাক্ না বাকি ভরতে রে তোর লাল গেলাস,
শূন্য গেলাস ভরব - দিয়ে চোখের পানি মুখের হাস।
দম্ভ ভরে আস্‌লো না যে ধ্বজায় বেঁধে ঝড়-তুফান,
যাহার আসার খবর শুনে গর্জাল না তোপ-কামান।
কুসুম দলি’ উড়িয়ে ধূলি আস্‌লো না যে রাজপথে,
আয়োজনের আড়াল তারে করব গো আজ কোন্ মতে।
সে এলো গো যে-পথ দিয়ে স্বর্গে বহে সুর্‌ধুনী,
যে পথ দিয়ে ফেরে ধেনু মাঠের বেণুর রব শুনি’।
যেমন সহজ পথ দিয়ে গো ফসল আসে আঙ্গিনায়,
যেমন বিনা সমারোহে সাঁঝের পাখি যায় কুলায়।
সে এলো যে আমন-ধানের নবান্ন উৎসব-দিনে,
হিমেল হাওয়ায় অঘ্রাণের এই সুঘ্রাণেরি পথ চিনে।
আনে নি সে হরণ ক’রে রত্ন-মানিক সাত-রাজার,
সে এনেছে রূপকুমারীর আঁখির প্রসা কণ্ঠহার।
সুরের সেতু বাঁধ্ল সে গো, উর্দ্ধে তাহার শুনি স্তব,
আস্‌ছে ভারত-তীর্থ লাগি’ শ্বেত-দ্বীপের ময়-দানব।
পশ্চিমে আজ ডঙ্কা বাজে পুবের দেশের বন্দীদের,
বীণার গানে আমরা জয়ী, লাজ মুছেছি অদৃষ্টের।
কণ্ঠ তোমার যাদু জানে, বন্ধু ওগো দোসর মোর!
আস্‌লে ভেসে গানের ভেলায় বৃন্দাবনের বংশী-চোর।
তোমার গলার বিজয়-মালা বন্ধু একা নয় তোমার,
ঐ মালাতে রইল গাঁথা মোদের সবার পুরস্কার।
কখন আঁখির আগোচরে বস্‌লে জুড়ে হৃদয়-মন,
সেই হৃদয়ের লহ প্রীতি, সজল আঁখির জল্-লিখন।

‘সুরের দুলাল’

তুমি অনেক দিলে খোদা

বাণী

তুমি অনেক দিলে খোদা, দিলে অশেষ নিয়ামত —
আমি লোভী, তাইতো আমার মেটে না হসরত।।
কেবলই পাপ করি আমি — মাফ করিতে তাই, হে স্বামী,
দয়া করে শ্রেষ্ঠ নবীর করিলে উম্মত।
তুমি নানান ছলে করছ পূরণ ক্ষতির খেসারত।।
মায়ের বুকে স্তন্য দিলে, পিতার বুকে স্মেহ;
মাঠে শস্য ফসল দিলে আরাম লাগি' গেহ।  
ঈদের চাঁদের রং মশালে রঙীন বেহেশ্‌ত পথ দেখালে
আখেরেরই সহায় দিলে আখেরী হজরত।
তুমি আজান দিলে না ভুলিতে মসজিদেরই পথ।।

যেদিন রোজ হাশরে করতে বিচার

বাণী

যেদিন		রোজ হাশরে করতে বিচার তুমি হবে কাজী
		সেদিন তোমার দিদার আমি পাব কি আল্লাজী।।
		সেদিন নাকি তোমার ভীষণ কাহ্‌হার রূপ দেখে
		পীর পয়গম্বর কাঁদবে ভয়ে ‘ইয়া নফসী’ ডেকে;
		সেই সুদিনের আশায় আমি নাচি এখন থেকে।
আমি		তোমায় দেখে হাজারো বার দোজখ যেতে রাজী।
আল্লাহ 		তোমায় দেখে হাজারো বার দোজখ যেতে রাজি।।
		যেরূপে হোক বারেক যদি দেখে তোমায় কেহ
		দোজখ্‌ কি আর ছুঁতে পারে পবিত্র তাঁর দেহ।
সে 		হোক না কেন হাজার পাপী হোক না বে-নামাজী।।
		ইয়া আল্লাহ, তোমার দয়া কত তাই দেখাবে ব’লে
		রোজ-হাশরে দেখা দেবে বিচার করার ছলে, —
		প্রেমিক বিনে কে বুঝিবে তোমার এ কারসাজি।।