ভোলো অতীত-স্মৃতি ভোলো কালা

বাণী

ভোলো অতীত-স্মৃতি ভোলো কালা।
কি হবে কুড়ায়ে এ ছিন্ন মালা।।
	মিছে রোধি’ পথ
	মিনতি করিছ কত,
জাগায়ে পুরানো ক্ষত — দিও না জ্বালা।।

তুমি আমার সকাল বেলার সুর

বাণী

তুমি আমার সকাল বেলার সুর
হৃদয় অলস–উদাস–করা অশ্রু ভারাতুর।।
ভোরের তারার মত তোমার সজল চাওয়ায়,
ভালোবাসার চেয়ে সে যে কান্না পাওয়ায়
রাত্রি–শেষের চাঁদ তুমি গো বিদায়–বিধুর।।
তুমি আমার ভোরের ঝরা ফুল
শিশির–নাওয়া শুভ্র–শুচি পূজারিণীর তুল।
অরুণ তুমি, তরুণ তুমি, করুণ তারো চেয়ে
হাসির দেশে তুমি যেন বিষাদ–লোকের মেয়ে
তুমিইন্দ্র–সভার মৌন–বীণা নীরব নূপুর।।

বল দেখি মা নন্দরানী

বাণী

	বল দেখি মা নন্দরানী ওগো গোকুলবালা
(ওমা)	কেমন করে তোদের ঘরে (মা) এলো নন্দলালা।
	(মা তুই) কোন সাধনায় দধি মথন করে
	তুললি ননী হৃদয় পাত্র ভরে;
	তুই সেই নবনি দিয়ে যতন করে
	(মা তুই) গড়লি কি এই ননীর পুতুল আঁধার চিকনকালা।।
	অমন রসবিগ্রহ মা গড়তে পারে কে?
	গোপঝিয়ারি গড়তে পারে কে?
	গোকুল মেয়ে নস্ তুই মা তুই কুমারের ঝি।
	(মাগো) তুই নস্ যোগিনী তবু স্বগুণ বলে
	(মা তুই) শ্রীকৃষ্ণে বাঁধলি উদূখলে
	(আমায়) সেই যোগ তুই শিখিয়ে দে মা বসেই জপমালা।।

রূপের দীপালি-উৎসব আমি দেখেছি

বাণী

	রূপের দীপালি-উৎসব আমি দেখেছি তোমার নয়ন অঙ্গে।
	শথ ফুলশর মুরছায় প্রিয়া, তোমার নয়ন-ভঙ্গে।।
		যে আঁখি পরম সুন্দরে দেখিয়াছে
		সেই আঁখি কাঁদে তোমার পায়ের কাছে,
	দেখেছে সে-আঁখি, বিশ্ব দুলিছে তোমার রূপ-তরঙ্গে।।
	তোমারে দেখিতে আমার আকাশ আনত হইয়া কাঁদে,
(তব)	মণিহার হ’তে বিবাদ করে গো কোটি গ্রহ তারা চাঁদে।
	তুমি দেখিতে যদি গো আপন রূপের আলো
	আমারে ভুলিয়া নিজেরে বাসিতে ভালো,
	তোমারে আড়াল করিয়া গো তাই ছায়া-সম ফিরি সঙ্গে।।

চাঁদ হেরিছে চাঁদমুখ তার সরসীর আরশিতে

বাণী

চাঁদ হেরিছে চাঁদ–মুখ তার সরসীর আরশিতে।
ছুটে তরঙ্গ বাসনা–ভঙ্গ সে অঙ্গ পরশিতে।।
হেরিছে রজনী – রজনী জাগিয়া
চকোর উতলা চাঁদের লাগিয়া,
কাঁহা পিউ কাঁহা ডাকিছে পাপিয়া
		কুমুদীরে কাঁদাইতে।।
না জানি সজনী কত সে রজনী কেঁদেছে চকোরী পাপিয়া,
হেরেছে শশীরে সরসী–মুকুরে ভীরু ছায়া–তরু কাঁপিয়া।
কেঁদেছে আকাশে চাঁদের ঘরণী
চির–বিরহিণী রোহিণী ভরণী
অবশ আকাশ বিবশা ধরণী
		কাঁদানীয়া চাঁদিনীতে।।

আঁচলে হংস-মিথুন আঁকা

বাণী

আঁচলে হংস-মিথুন আঁকা
		বলাকা-পে’ড়ে শাড়ি দুলায়ে।
চলিছে কিশোরী শ্যামা একা
		রুমুঝুমু বাজে নূপুর মৃদু পায়ে।।
ভয়ে ভয়ে চলে আধো-আঁধারে
বিরহী বন্ধুর দূর অভিসারে,
পথ কাঁদে যেয়ো না যেয়ো না যেয়ো না ওগো
		থামো ক্ষণেক এ ঠাঁয়ে।।