আমি নিজেরে আড়াল রাখি

বাণী

আমি নিজেরে আড়াল রাখি, বঁধু সারাদিন গৃহ-কাজে।
হাসে গুরুজন আশেপাশে তাই চাহিতে পারি না লাজে।।
	ওগো প্রিয় তুমি অহরহ
	কেন বাহির ভবনে রহ?
তব মৌন এ অভিমান বুকে কাঁটার মতন বাজে।।
আমি তোমারি ঘরের বধূ, বঁধু এ-লাজ তোমারি লাগি’,
আমি দিনের কুমুদ কলি, ওগো চাঁদ আমি রাতে জাগি।
	মোর দেহ গৃহ-কাজ করে
	তব পায়ে থাকে মন প’ড়ে,
মোর লাজ-গুণ্ঠন টানি’ লাজ দিও না সভার মাঝে।।

কত সে-জনম কত সে-লোক

বাণী

কত সে-জনম কত সে-লোক পার হয়ে এলে, হে প্রিয় মোর।
নিভে গেছে কত তপন-চাঁদ তোমারে খুঁজিয়া, হে মন চোর।।
	কত গ্রহে, প্রিয়, কত তারায়
	তোমারে খুঁজিয়া ফিরেছি, হায়!
চাহ এ নয়নে হেরিবে তায়, সে-দূর স্মৃতির স্বপন-ঘোর।।
	আজো অপূর্ণ কত সে-সাধ
	অভিমানী তাহে সেধো না বাদ!
না মিটিতে সাধ, স্বপন-চাঁদ, মিলনের নিশি ক’রো না ভোর।।

কে দিল খোঁপাতে ধুঁতুরা ফুল লো

বাণী

কে দিল খোঁপাতে ধুঁতুরা ফুল লো
খোঁপা খুলে কেশ হলো বাউল লো।।
পথে সে বাজালো মোহন–বাঁশি
তোর ঘরে ফিরে যেতে হলো এ ভুল লো।।
কে নিল কেড়ে তোর পৈঁচী চুড়ি
বৈঁচি মালায় ছি ছি খোয়ালি কুল লো।।
ও সে বুনা পাগল পথে বাজায় মাদল
পায়ে ঝড়ের নাচন শিরে চাঁচর চুল লো।।
দিল নাকেতে নাকছাবি বাবলা ফুলি
কুঁচের চুড়ি আর ঝুঁমকো ফুল দুল লো।।
সে নিয়ে লাজ দু’কূল দিল ঘাঘরি
সে আমার গাগরি ভাসালো জলে বাতুল লো।।

নাটকঃ মহুয়া

এলো শোকের সেই মোহর্‌রম কারবালার

বাণী

এলো শোকের সেই মোহর্‌রম কারবালার স্মৃতি ল’য়ে।
কাঁদিছে বিশ্বের মুসলিম সেই ব্যথায় বেতাব হয়ে।।
মনে পড়ে আসগরে আজি পিয়াসা দুধের বাচ্চায়
পানি চাহিয়া পেল শাহাদৎ হোসেনের বুকে র’য়ে।।
একহাতে বিবাহের কাঙন একহাতে কাশেমের লাশ,
বেহোঁশ্ খিমাতে সকিনা অসহ বেদনা স’য়ে।।
পাশে শহীদ কাঁদে বীর জব্বার পানির মশক মুখে
হল শহীদ কাঁদে জয়নব কুলসুম আকুল হয়ে।।
শূন্য পিঠে কাঁদে দুলদুল্ হজরত হোসেন শহীদ্,
ঝরিতেছে শোকের বারিষ্ আসমান জমিন ছেয়ে।।

মাকে আদর করে কালী বলি

বাণী

মাকে আদর করে কালী বলি সে সত্যি কালো নয় রে।
তার ঈষৎ হাসির এক ঝলকে জগৎ আলো হয় রে,
			ত্রি-জগৎ আলো হয় রে।।
(কালো নয় কালো নয়, চরণে যার মহাকাল
পায়ের নখে চাঁদের মালা, কালো নয় কালো নয়)
			সত্যি কালো নয় রে।।
(আমরা) আপনভোলা পাগলী গিরিবালা
মুন্ডামালায় মনে করে কুন্দফুলের মালা;
(রয়) মরা-ছেলে বুকের ধ’রে শ্মশানে তন্ময় রে,
রয় শ্মশানে তন্ময় রে।
শ্মশানে সে থাকে ব’লে ভয়ঙ্করী নয় রে!
(ভবের) খেলা-শেষে সকলেরে দেয় সে বরাভয় রে।।
(সে) মারে যাকে, মালা করে তারেও পরে রয় রে!
(সেই) তামসিকও যায়রে তরে (মাকে) তামসী যে কয় রে।।

প্রভু তোমারে খুঁজিয়া মরি ঘুরে ঘুরে

বাণী

প্রভু তোমারে খুঁজিয়া মরি ঘুরে ঘুরে বৃথা দূরে চেয়ে থাকি
তুমি অন্তরতম আছ অন্তরে নয়নেরে দিয়ে ফাঁকি॥
	তুমি কাছে থাকি খেল লুকোচুরি
	তাই বাহিরে চাহিয়া দেখিতে না পাই
যেমন আঁখির পল্লব নাথ দেখিতে পায় না আঁখি॥
মোরা ভাবি তুমি কত দূরে বুঝি গ্রহ তারকার পারে
বুকে যে ঘুমায় তারে খুঁজি বনে প্রান্তরে দ্বারে দ্বারে।
	বাহিরে না পেয়ে ফিরি যবে ঘরে
	দেখি জেগে আছ তুমি মোর তরে
যত ডাকি তত লুকাও হে চোর মোর বুকে মুখ রাখি॥