বাণী
বনপথে কে যায়। মনে হয় যেন তারে চিনি আমি হায়।। ছন্দে জাগায়ে সে-নিশীথ নিঝুম বাজে নূপুর তার রুমা ঝুমা ঝুম্, জাগে নিশীথিনী এলোচুলে পাষাণ বুকে নির্ঝর জাগায়।।
রাগ ও তাল
রাগঃ চন্দ্রকোষ
তালঃ ত্রিতাল
বনপথে কে যায়। মনে হয় যেন তারে চিনি আমি হায়।। ছন্দে জাগায়ে সে-নিশীথ নিঝুম বাজে নূপুর তার রুমা ঝুমা ঝুম্, জাগে নিশীথিনী এলোচুলে পাষাণ বুকে নির্ঝর জাগায়।।
রাগঃ চন্দ্রকোষ
তালঃ ত্রিতাল
মাদল বাজিয়ে এলো বাদলা মেঘ এলোমেলো মাতলা হাওয়া এলো বনে। ময়ূরী নাচে কালো জামের গাছে পিয়া পিয়া বন-পাপিয়া ডাকে গো আপন মনে।। বেত-বনের আড়ালে ডাহুকী ডাকে, ডাকে না এমন দিনে কেহ আমাকে, বেণীর বিনুনী খুলে পড়ে একলা মন টেকে না ঘরের কোণে।। জঙ্গল পাহাড় কাঁপে বাজের আওয়াজে, বুকের মাঝে তবু নূপুর বাজে।। ঝিঁঝিঁ তার ডাক ভুলে ঝিম্ ঝিম্ ঝিম্ বৃষ্টির বাজ্না শোনে।।
রাগঃ
তালঃ দ্রুত-দাদ্রা

ঝরাফুল-বিছানো পথে এসো বিজন-বাসিনী। জোছনায় ছড়ায়ে হাসি এসো সুচারু-হাসিনী।। এসো জড়ায়ে তব তনুতে গোধূলী রামধনুতে, পাপিয়া-পিক-কূজনে গাহিয়া মধু-ভাষিণী।। ছন্দ-দোদুল্ গতি এসো নোটন্ কপোতী, বহায়ে মনের মরুতে আনন্দ-মন্দাকিনী।।
রাগঃ পিলু
তালঃ লাউনি
তুমি কোন্ পথে এলে হে মায়াবী কবি বাজায়ে বাঁশের বাঁশরি। এলো রাজ-সভা ছাড়ি’ ছুটি, গুণিজন তোমার সে সুরে পাশরি’।। তোমার চলার শ্যাম-বনপথ কদম-কেশর-কীর্ণ, তুমি কেয়ার বনের খেয়াঘাটে হলে গোপনে কি অবতীর্ণ? তুমি অপরাজিতার সুনীল মাধুরী দু’চোখে আনিলে করিয়া কি চুরি? তোমায় নাগ-কেশরের ফণী-ঘেরা মউ পান করাল কে কিশোরী? জনপুরী যবে কল-কোলাহলে মগ্নোৎসব রাজ সভাতলে, তুমি একাকী বসিয়া দূর নদী-তটে ছায়া-বটে বাঁশি বাজালে, তুমি বসি’ নিরজনে ভাঁট ফুল দিয়া বালিকা বাণীরে সাজালে।। যবে রুদ্র আসিল ডম্বরু-করে ত্রিশূল বিঁধিয়া নীল অম্বরে, তুমি ফেলিয়া বাঁশরি আপনা পাশরি, এলে সে-প্রলয় নাটে গো, তুমি প্রাণের রক্তে রাঙালে তোমার জীবন-গোধূলি পাটে গো।। হে চির-কিশোর, হে চির-তরুণ, চির-শিশু চির-কোমল করুণ। দাও অমিয়া আরো অমিয়া, দাও উদয়-ঊষারে লজ্জা গো তুমি গোধূলির রঙে রঙিয়া। প্রখর রবি-প্রদীপ্ত গগনে, তুমি রাঙা মেঘ খেল আন্মনে, উৎসব-শেষে দেউলাঙ্গনে নিরালা বাজাও বাঁশরি, আমি স্বপন-জড়িত ঘুমে সেই সুর শুনিব সকল পাশরি’।।
রাগঃ
তালঃ
(তোমায়) যেমন ক’রে ডেকেছিল আরব মরুভূমি। ওগো আমার নবী প্রিয় আল্ আরবি — তেমনি ক’রে ডাকি যদি আস্বে না কি তুমি।। যেমন কেঁদে’ দজলা ফোরাত নদী ডেকেছিল নিরবধি, হে মোর মরুচারী নবুয়তধারী! তেমনি ক’রে কাঁদি যদি আস্বে না কি তুমি।। (যেমন) মদিনা আর হেরা পাহাড় জেগেছিল আশায় তোমার, হে হজরত মম, হে মোর প্রিয়তম! তেমনি ক’রে জাগি যদি আস্বে না কি তুমি।। মজলুমেরা কাবা ঘরে কেঁদেছিল যেমন ক’রে, হে আমিনা-লালা, হে মোর কম্লিওয়ালা! তেমনি ক’রে চাহি যদি আস্বে না কি তুমি।।
রাগঃ
তালঃ
ডাকতে তোমায় পারি যদি আড়াল থাকতে পারবে না এখন আমি ডাকি তোমায় তখন তুমি ছাড়বে না।। যদি দেখা না পাই কভু — সে দোষ তোমার নহে প্রভু সে সাধনায় আমারি হার জানি তুমি ছাড়বে না।। বহু লোকের চিন্তাতে মোর বহু দিকে মন যে ধায়, জানি জানি, অভিমানী পাইনে আজ তাই তোমায়। বিশ্ব, ভুবন ভুলে যেদিন তোমার ধ্যানে হব বিলীন, সেদিন আমার বক্ষ হতে চরণ তোমার কাড়বে না।।
রাগঃ ছায়ানট
তালঃ দাদ্রা
