বর্ণচোরা ঠাকুর এলো রসের নদীয়ায়

বাণী

	বর্ণচোরা  ঠাকুর এলো রসের নদীয়ায়
	তোরা দেখবি যদি আয়
তারে	কেউ বলে শ্রীমতি রাধা কেউ বলে সে শ্যামরায়।।
	কেউ বলে তার সোনার অঙ্গে রাধা-কৃষ্ণ খেলেন রঙ্গে;
ওগো	কেউ বলে তায় গৌর-হরি কেউ অবতার বলে তায়।।
তার	ভক্ত তারে ষড়ভুজ শ্রী নারায়ণ বলে,
কেউ	দেখেছে শ্রীবাসের ঘরে কেউ বা নীলাচলে।
	দুই হাতে তার ধনুর্বাণ ঠিক যেন শ্রীরাম,
	দুই হাতে তার মোহন বাঁশি যেন রাধা-শ্যাম,
	আর দু'হাতে দণ্ড ঝুলি নবীন সন্ন্যাসীরই প্রায়।।

আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন

বাণী

আমার	আপনার চেয়ে আপন যে জন
			খুঁজি তারে আমি আপনায়॥
আমি		শুনি যেন তার চরণের ধ্বনি
			আমারি তিয়াসী বাসনায়॥
		আমারি মনের তৃষিত আকাশে
		কাঁদে সে চাতক আকুল পিয়াসে,
		কভু সে চকোর সুধা-চোর আসে
			নিশীথে স্বপনে জোছনায়॥
আমার মনের পিয়াল তমালে হেরি তারে স্নেহ-মেঘ-শ্যাম,
অশনি-আলোকে হেরি তারে থির-বিজুলী-উজল অভিরাম।
		আমারি রচিত কাননে বসিয়া
		পরানু পিয়ারে মালিকা রচিয়া
		সে-মালা সহসা দেখিনু জাগিয়া
			আপনারি গলে দোলে হায়॥

উজান বাওয়ার গান গো এবার

বাণী

উজান বাওয়ার গান গো এবার, গাস্‌নে ভাটিয়ালি
		আর গাস্‌নে ভাটিয়ালি।
নূতন আশার চাঁদ উঠেছে কুম্‌ড়ো জালির ফালি
		যেন কুম্‌ড়ো জালির ফালি।।
বান এসেছে, বাঁধ ভেঙেচে, নায়ে দোলা লাগে
আড়-বাঁশিতে তান ছেড়ে তুই দাঁড়্‌ বেয়ে চল্‌ আগে
দেখ্‌ জোয়ার-জলে ডু’বে গেছে চরের চোরাবালি।।
কালো বউ-এর চোখ যেন, দেখ্‌ মৌরলা মাছ ভাসে
গাঙ্‌চিল আর জল-পায়রা উড়ছে মুখের পাশে,
শোন্‌ বউ কথা কও পাখি, মোদের করছে দূতিয়ালি।।
জল নিয়ে বৌ দাঁড়িয়ে আছে, গাছে কচি ডাব
লোক্‌সানেরই হিসাব দেখিস, লাভের কথা ভাব্‌,
সাজ্‌ রে তামুক, নামুক দেয়া, দুক্ষু ত ইজমালি।।

যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি

বাণী

যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি আঘাত করেছ, স্বামী,
সে পাষাণ দিয়ে তোমার পূজায় এ মিনতি রাখি আমি।।
	যে আগুন দিলে দহিতে আমারে
	হে নাথ, নিভিতে দিইনি তাহারে;
আরতি প্রদীপ হয়ে তারি বিভা বুকে জ্বলে দিবা-যামী।।
তুমি যাহা দাও প্রিয়তম মোর তাহা কি ফেলিতে পারি,
তাই নিয়ে তব অভিষেক করি নয়নে দিলে যে বারি।
	ভুলিয়াও মনে কর না যাহারে,
	হে নাথ, বেদনা দাও না তাহারে,
ভুলিতে পারো না মোরে, ব্যথা দেওয়া ছলে, তাই নিচে আসো নামি'।।

একেলা ঢুলিয়া ঢুলিয়া কে যায়

বাণী

একেলা ঢুলিয়া ঢুলিয়া কে যায়।
চলিতে চরণ চরণে জড়ায়।।
এখনো ভাঙেনি মল্লিকার ঘুম
এখনো অমলিন-কবরী কুসুম,
নয়নে নিশির ঝরেনি শিশির
বিহগ পাখায় বিহগী ঘুমায়।।
অভিসার নিশি বৃথাই জাগি কোথা
অভিমানিনী চলে মূর্তিমতী ব্যথা।
ভীরু চকিত চোখে করুণ কাতরতা
রবি না ওঠে যেন মিনতি জানায়।।

হে পার্থসারথি বাজাও বাজাও

বাণী

হে পার্থসারথি! বাজাও বাজাও পাঞ্চজন্য শঙ্খ
চিত্তের অবসাদ দূর কর কর দূর
	ভয়–ভীত জনে কর হে নিঃশঙ্ক।।
ধনুকে টঙ্কার হানো হানো,
গীতার মন্ত্রে জীবন দানো;
	ভোলাও ভোলাও মৃত্যু–আতঙ্ক।।
মৃত্যু জীবনের শেষ নহে নহে —
শোনাও শোনাও — অনন্ত কাল ধরি’
অনন্ত জীবন প্রবাহ বহে।
দুর্মদ দুরন্ত যৌবন–চঞ্চল
ছাড়িয়া আসুক মা’র স্নেহ–অঞ্চল;
বীর সন্তানদল করুক সুশোভিত মাতৃ–অঙ্ক।।