কে বলে গো তুমি আমার নাই

বাণী

কে বলে গো তুমি আমার নাই?
তোমার গানে পরশ তব পাই।।
তোমায়-আমায় এই নীরবে
জানাজানি অনুভবে,
তোমার সুরের গভীর রবে আমারি কথাই।।
হে বিরহী আমায় বারে বারে
স্মারণ করো সুরের সিন্ধু পারে
ওগো গুণী পেয়ে মায়
যদি তোমার গান থেমে যায়,
উঠবে কাঁদন সুরের সভায় চাই না কাছে তাই।।

আয় ঘুম আয় ঘুম আয় মোর গোপাল ঘুমায়

বাণী

আয় ঘুম আয় ঘুম আয় মোর গোপাল ঘুমায়
বহু রাত্রি হল আর জাগাসনে মায়।।
কোলে লয়ে তোরে ধীরে ধীরে দোলাবো
ঘুম-পাড়ানিয়া গান তোরে শোনাবো
গায়ে হাত বুলাবো পাঙ্খা ঢুলাবো
মন ভুলাবো কত রূপকথায়।।
তোরে	কে বলে চঞ্চল একচোখো সে
মোর	শান্ত গোপাল থাকে গোষ্ঠে ব’সে
তোরে	কে বলে ঝড় তোলে থির যমুনায়
সে যেদিন রাত ঘোরে তার মা’র পায় পায়।।

যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি

বাণী

যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি আঘাত করেছ, স্বামী,
সে পাষাণ দিয়ে তোমার পূজায় এ মিনতি রাখি আমি।।
	যে আগুন দিলে দহিতে আমারে
	হে নাথ, নিভিতে দিইনি তাহারে;
আরতি প্রদীপ হয়ে তারি বিভা বুকে জ্বলে দিবা-যামী।।
তুমি যাহা দাও প্রিয়তম মোর তাহা কি ফেলিতে পারি,
তাই নিয়ে তব অভিষেক করি নয়নে দিলে যে বারি।
	ভুলিয়াও মনে কর না যাহারে,
	হে নাথ, বেদনা দাও না তাহারে,
ভুলিতে পারো না মোরে, ব্যথা দেওয়া ছলে, তাই নিচে আসো নামি'।।

বাদলা রাতে চাঁদ উঠেছে

বাণী

বাদলা রাতে চাঁদ উঠেছে কৃষ্ণ মেঘের কোলে রে।
ব্রজ পুরে তমাল-ডালের ঝুলনাতে দোলে রে।।
	নীল চাঁদ আর সোনার চাঁদে
	বাঁধা বন-মালার ফাঁদে রে
এই চাঁদ হেসে আরেক চাঁদের অঙ্গে পড়ে ঢ’লে রে।।
যুগল শশী হেরি গোপী কহে, বাদলা রাতই ভালো রে,
গোকুল এলো ব্রজে নেমে ধরা হল আলো রে।
	দেব-দেবীরা চরণ-তলে
	বৃষ্টি হয়ে পড়ে গ’লে রে,
বেদ-গাথা সব নূপুর হয়ে রুনুঝুনু বোলে রে।।

চির-কিশোর মুরলীধর

বাণী

চির-কিশোর মুরলীধর কুঞ্জবন-চারী।
গোপনারী-মনোহারী বামে রাধা প্যারী।।
শোভে শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম করে,
গোষ্ঠ-বিহারী কভু, কভু দানবারি।।
তমাল-তলে কভু কভু নীপ-বনে,
লুকোচুরী খেল হরি ব্রজ-বধূ সনে।
মধুকৈটভারি কংস-বিনাশন,
কভু কণ্ঠে গীতা, শিখী-পাখা-ধারী।।

লাল নটের ক্ষেতে লাল টুকটুকে বৌ যায়

বাণী

	লাল নটের ক্ষেতে, লাল টুকটুকে বৌ যায় গো।
তার	আলতা পায়ের চিহ্ন এঁকে নালতা শাকের গায় গো।।
	লাল নটের ক্ষেতে মৌমাছি ওঠে মেতে
	তার রূপের আঁচে পায়ের তলার মাটি ওঠে তেতে।
	লাল পুঁইয়ের লতা নুয়ে পড়ে জড়িয়ে ধরে পায় গো।।
	কাঁকাল বাঁকা রাখাল ছোঁড়া আগলে দাঁড়ায় আ’ল —
	রাঙা বৌ-এর চোখে লাগে লাল লঙ্কার ঝাল।
	বৌ-এর ঘেমে ওঠে গা, লাজে সরে না পা
	সে মুখ ফিরিয়ে শাড়ির আঁচল আঙুলে জড়ায় গো।।