বিদ্রোহী (প্রথম খন্ড)

বাণী

বল	বীর –
	বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল	বীর –
বল	মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
	চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
	ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
	খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
	উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!
মম	ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল	বীর –
আমি	চির উন্নত শির!
আমি	চিরদূর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
	মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি	মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
আমি	দুর্বার,
আমি	ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি	অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি	দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!
আমি	মানি না কো কোন আইন,
আমি	ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!
আমি	ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর
আমি	বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর!
বল	বীর –
	চির-উন্নত মম শির!
আমি	ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি,
আমি	পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’।
আমি	নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি	আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ।
আমি	হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,
আমি	চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’
	পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’
	ফিং দিয়া দিই তিন দোল;
আমি	চপলা-চপল হিন্দোল।
আমি	তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা,
করি	শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা,
আমি	উন্মাদ, আমি ঝঞ্ঝা!
	ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা
আমি	মহামারী, আমি ভীতি এ ধরিত্রীর;
আমি	শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ঞ চির-অধীর!
বল	বীর –
আমি	চির উন্নত শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল	বীর -
	বল উন্নত মম শির!
আমি	বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,
আমি	আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!
আমি	বজ্র, আমি ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার,
আমি	ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা হুঙ্কার,
আমি	পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল, ধর্মরাজের দন্ড,
আমি	চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড!
আমি	ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি	দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।
আমি	প্রাণ খোলা হাসি উল্লাস, – আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস,
আমি	মহা প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু গ্রাস!
আমি	কভূ প্রশান্ত কভূ অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,
আমি	অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল	বীর -
	বল উন্নত মম শির!
	উন্নত মম শির!
	উন্নত মম শির!

করুণা তোর জানি মাগো আসবে শুভদিন

বাণী

		করুণা তোর জানি মাগো আসবে শুভদিন।
		হোক না আমার চরম ক্ষতি থাক না অভাব ঋণ।।
			আমায় ব্যথা দেওয়ার ছলে
			টানিস্ মা তোর অভয় কোলে,
		সন্তানে মা দুঃখ দিয়ে রয় কি উদাসীন।।
(তোর)	কঠোরতার চেয়ে বেশি দয়া জানি ব’লে,
		ভয় যত মা দেখাস্ তত লুকাই তোরই কোলে।
			সন্তানে ক্লেশ দিস্ যে এমন
			হয়ত মা তার আছে কারণ,
তুই		কাঁদাস্ ব’লে বল্‌ব কি মা হ’লাম মাতৃহীন।।

কেমনে রাখি আঁখি–বারি চাপিয়া

বাণী

কেমনে রাখি আঁখি–বারি চাপিয়া
প্রাতে কোকিল কাঁদে নিশীথে পাপিয়া।।
এ ভরা ভাদরে আমার মরা নদী
উথলি’ উথলি’ উঠিছে নিরবধি
আমার এ ভাঙা ঘটে, আমার এ হৃদিতটে
চাপিতে গেলে ওঠে দু’কূল ছাপিয়া।।
নিষেধ নাহি মানে আমার এ পোড়া আঁখি
জল লুকাবো কত কাজল মাখি’ মাখি’
ছলনা ক’রে হাসি, অমনি জলে ভাসি
ছলিতে গিয়া আসি ভয়েতে কাঁপিয়া।।

দোহাই তোদের এবার তোরা

বাণী

দোহাই তোদের! এবার তোরা সত্যি করে সত্য বল্।
ঢের দেখালি ঢাক ঢাক গুড় গুড় ঢের মিথ্যা ছল।।
পেটে এক আর মুখে আরেক — এই যে তোদের ভন্ডামি,
এতেই তোরা লোক হাসালি, বিশ্বে হলি কম্‌-দামি।
নিজের কাছেও ক্ষুদ্র হলি আপন ফাঁকির আফসোসে,
বাইরে ফাঁকা পাঁয়তারা তাই, নাই তলোয়ার খাপ-কোষে।
তাই হলি সব সেরেফ আজ কাপুরুষ আর ফেরেব-বাজ
সত্য কথা বলতে ডরাস তোরাই আবার করবি কাজ —
				ফোঁপরা ঢেঁকির নেইক লাজ।
ইলশেগুড়ি বৃষ্টি দেখেই ঘর ছুটিস্‌ সব রাম-ছাগল!
যুক্তি তোদের খুব বুঝেছি, দুধকে দুধ আর জলকে জল।।

কেন মরিতে আসিলাম যমুনায়

বাণী

কেন মরিতে আসিলাম যমুনায়, ললিতা কেন বিপরীত হেরিলাম।
কৃষ্ণ-যমুনা-জলে কারে ল’য়ে কুতুহলে জল-খেলা করে ঘনশ্যাম।।
কালো মেঘের যেন খেলে বিজলি
সোনার-প্রতিমার প্রতিবিম্ব কালো জলে
কালো মেঘে যেন খেলে বিজলি।
হিরন্ময়ী জ্যোতির্ময়ী সতিনীর রূপ আমি যত দেখি গো তত মজি সখি গো!
অতি জ্যোতি গর্বিতা যেন পতি সোহাগিনী সতীসম কে এ সতিনী, ললিতে,
মোর শ্যাম অঙ্গে অপরূপ ভঙ্গে আমারই সমুখে করে খেলা, মোরে ছলিতে।
ও কি কায়া না ছায়া!
ও কি কৃষ্ণ রূপের চঞ্চল জল-তরঙ্গ মায়া?
সখি মান ভাঙাতে মোর এসেছিল গোপনে শ্যাম আজি প্রভাতে (সখি),
শ্যাম-তনুমুকুরে হেরিলাম বিরাজে গৌর-বর্ণা নারী অপরূপ শোভাতে।
এলো অভিমান মনে, তাই
মনে হলে যমুনায় ডুবিয়া ললিতা শান্তি যদি পাই।
এখানেও দেখি সেই গৌরী কিশোরী আছে শ্যামে জড়ায়ে।
(ও কি কায়া না মায়া ও কি কৃষ্ণেরই রঙ্গ না আমারই ছায়া কায়া না মায়া।)
কোন্ দেশে যাব সখি কোন্ খানে পাব শ্যামে একাকী।
আন-নারীরে ছেড়ে কেবল রাধার হয়ে দেবে না দেখা কি (সখী গো)।।

গীতিচিত্র : ‘অভিমানিনী’

আমি গো-রাখা রাখাল

বাণী

আমি গো-রাখা রাখাল।
যারা গোপের মতন চির-সরলমন —
তাদেরি সাথে আমি খেলি চিরকাল গো।।
নয়ন বুঁজে ধ্যানী আমারে খুঁজে যে গিরি-গুহায়,
(সেই) গিরি ধরিয়া রহি গিরিধারী ওরা দেখিতে না পায়।
আমি নন্দ-লালার বেশে
কাছে আসি মৃদু হেসে,
ওরা ভাবে হরি শুধু বিপুল বিশাল।।
(ওরা প্রেম যে পায়নি,
ওরা সহজে গোপীর মত ভালোবেসে চায়নি
প্রেম যে পায়নি!)

নাটক : ‘অর্জুন-বিজয়’