শুকনো পাতার নূপুর পায়ে

বাণী

শুকনো পাতার নূপুর পায়ে
		নাচিছে ঘুর্ণিবায়
জল তরঙ্গে ঝিল্‌মিল্‌ ঝিল্‌মিল্‌
		ঢেউ তুলে সে যায়।।
দীঘির বুকে শতদল দলি’
ঝরায়ে বকুল–চাঁপার কলি
চঞ্চল ঝরনার জল ছল ছলি
		মাঠের পথে সে ধায়।।
বন–ফুল আভরণ খুলিয়া ফেলিয়া
আলুথালু এলোকেশ গগনে মেলিয়া
পাগলিনী নেচে যায় হেলিয়া দুলিয়া
		ধূলি–ধূসর কায়।।
ইরানি বালিকা যেন মরু–চারিণী
পল্লীর–প্রান্তর–বনমনোহারিণী
আসে ধেয়ে সহসা গৈরিক বরণী
		বালুকার উড়্‌নি গায়।।

আজি নতুন এ চাঁদের তিথিতে

বাণী

আজি নতুন এ চাঁদের তিথিতে
কোন্ অতিথি এলো ফুল-বীথিতে॥
যদি বেদনা পায় বঁধু পথ চলিতে
তাই চেয়েছি বনপথ ফুল কলিতে
জানি ভাল জান হে বঁধু ফুল দলিতে
এসো বঁধু সুমধুর প্রীতিতে॥
এসো মনের মন্দিরে দেবতা আমার
লহ প্রেমের চন্দন আঁখি জলহার
আজি সফল করো সাধ আমার পূজার
চির জনম রহ মোর স্মৃতিতে॥

রুম্ ঝুম্ বাদল আজি বরষে

বাণী

রুম্ ঝুম্ বাদল আজি বরষে
আকুল শিখি নাচে ঘন দরশে॥
বারির দরশনে আজি ক্ষণে ক্ষণে
নব নীরদ শ্যাম রূপে পড়ে মনে
না-জানি কোন্ দেশে কোন্ প্রিয়া সনে
রয়েছে ভুলিয়া নটবর সে॥

তোমার কালো রূপে যাক না ডুবে

বাণী

তোমার	কালো রূপে যাক না ডুবে সকল কালো মম, 
					হে কৃষ্ণ প্রিয়তম!
নীল		সাগর-জলে হারিয়ে যাওয়া নদীর জলের সম।
		কৃষ্ণ নয়ন-তারায় যেমন আলোকিত হেরি ভুবন,
		তেমনি কালো রূপের জ্যোতি দেখাও নিরুপম।।
যাক		মিশে আমার পাপ-গোধূলি তোমার নীলাকাশে,
মোর		কামনা যাক ধুয়ে তোমার রূপের শ্রাবন মাসে।
		তোমায় আমায় মিলন থাকুক (যেমন) নীল সলিলে সুনীল শালুক
তুমি		জড়িয়ে থাকো (গো) আমার হিয়ায় গানের সুরের সম।।

প্রথম প্রদীপ জ্বালো মম ভবনে হে আয়ুষ্মতী

বাণী

প্রথম প্রদীপ জ্বালো মম ভবনে হে আয়ুষ্মতী
আঁধার ঘিরে' আশার আলো আনুক তোমার গৃহের জ্যোতি।।
	হেরিয়া তোমার আঁখির আলোক
	বিষদিত সাঁঝ পুলকিত হোক,
যেন দূরে যায় সব দুখ শোক, তব শঙ্খরব শুনি', হে সতী।।
	কাঁকন পরা তব শুভ কর
	মুখর করুক এ নীরব ঘর
এ গৃহে আনুক বিধাতার বর তোমার মধুর প্রেম-আরতি।।

সন্ধ্যামালতী যবে ফুলবনে ঝুরে

বাণী

সন্ধ্যামালতী যবে ফুলবনে ঝুরে
কে আসি’ বাজালে বাঁশি ভৈরবী সুরে।।
সাঁঝের পূর্ণ চাঁদে অরুণ ভাবিয়া
পাপিয়া প্রভাতী সুরে উঠিল গাহিয়া
ভোরের কমল ভেবে সাঁঝের শাপলা ফুলে
	গুঞ্জরে ভ্রমর ঘুরে’ ঘুরে’।।
বিকালের বিষাদে ঢাকা ছিল বনভূমি
সকালের মল্লিকা ফুটাইলে তুমি,
রাঙিয়া ঊষার রঙে গোধূলি-লগন
	শোনালে আশার বাণী বিরহ-বিধুরে।।