আমার আছে অসীম আকাশ

বাণী

আমার আছে অসীম আকাশ, তোমার আছে ঘর।
তোমার আছে পারের তরী, আমার বালুচর।।
	তোমার আছে কূলের আশা
	আমার অকূল স্রোতে ভাসা,
আমায় ডাকে (গো) দূর আলেয়া, তোমার প্রদীপ-কর।।
থাকুক তোমার দখিন হাওয়া, আমার থাকুক ঝড়,
তোমার তরে তরুর ছায়া, আমার তেপান্তর।
	তুমি ঘুমাও সুখের কোলে
	আমি ভুলে’ যাওয়ার দলে,
হারিয়ে তোমায় মোর ধরণী হলো বিপুলতর।।

যাও যাও তুমি ফিরে

বাণী

	যাও যাও তুমি ফিরে এই মুছিনু আঁখি
	কে বাঁধিবে তোমারে হায় গানের পাখি॥
মোর	আজ এত প্রেম আশা এত ভালোবাসা
	সকলি দুরাশা আজ কি দিয়া রাখি॥
	তোমার বেঁধেছিল নয়ন শুধু এ রূপের জালে
	তাই দুদিন কাঁদিয়া হায় এ বাঁধন ছাড়ালে।
	আমার বাঁধিয়াছে হিয়া আমি ছাড়াব কি দিয়া
	আমার হিয়া তো নয়ন নহে ও সে ছাড়ে না কাঁদিয়া,
	ওগো দুদিন কাঁদিয়া।
	এই অভিমান জ্বালা মোর একেলারি কালা
	ম্লান মিলনেরি মালা দাও ধূলাতে ঢাকি॥

নয়ন যে মোর বারণ মানে না

বাণী

নয়ন যে মোর বারণ মানে না।
বারণ মানে না মন কাঁদন মানে না।।
	নিশিদিন তব আশে
	আছি চেয়ে পথ পাশে
দুকূল বেয়ে সলিল আসে কাজল মানে না।।
	সবার মাঝে থেকেও একা
আমি	তাই তো তোমার চাই গো দেখা,
মরম যে গো, তোমায় ছাড়া কারেও জানে না।।

ওমা নির্গুণেরে প্রসাদ দিতে

বাণী

ওমা	নির্গুণেরে প্রসাদ দিতে তোর মত কেউ নাই।
তোর	পায়ে মা তাই রক্তজবা গায়ে শ্মশান-ছাই।।
		দৈত্য-অসুর হনন ছলে
		ঠাঁই দিস্ তুই চরণ তলে,
আমি	তামসিকের দলে মা গো তাই নিয়েছি ঠাঁই।।
	কালো ব’লে গৌরী তোরে কে দিয়েছে গালি,
(ওমা)	ত্রিভুবনের পাপ নিয়ে তোর অঙ্গ হ’ল কালি।
		অপরাধ না করলে শ্যামা
		ক্ষমা যে তোর পেতাম না মা,
(আমি)	পাপী ব’লে আশা রাখি চরণ যদি পাই।।

মেঘ-মেদুর গগন কাঁদে হুতাশ পবন

বাণী

মেঘ-মেদুর গগন কাঁদে হুতাশ পবন
কে বিরহী রহি’রহি’দ্বারে আঘাত হানো।
শাওন ঘন ঘোর ঝরিছে বারি অঝোর
কাঁপিছে কুটির মোর দীপ নেভানো।।
বজ্রে বাজিয়া ওঠে তব সঙ্গীত,
বিদ্যুতে ঝলকিছে আঁখি-ইঙ্গিত,
চাঁচর চিকুরে তব ঝড় দুলানো, ওগো মন ভুলানো।।
এক হাতে, সুন্দর, কুসুম ফোটাও!
আর হাতে নিষ্ঠুর মুকুল ঝরাও।
হে পথিক, তব সুর অশান্ত ব‍ায়
জন্মান্তর হতে যেন ভেসে আসে হায়!
বিজড়িত তব স্মৃতি চেনা অচেনায় প্রাণ কাঁদানো।।

প্রভু সংসারেরি সোনার শিকল

বাণী

প্রভু সংসারেরি সোনার শিকল বেঁধো না আর পায়
তোমার প্রেম ডোরে ত্রিভুবন স্বামী বাঁধ হে আমায়॥
সারা জীবন বোঝা বয়ে, এসেছি আজ ক্লান্ত হয়ে
জুড়াতে হে শান্তি দাতা তোমার শীতল ছায়॥
হে নাথ যতদিন শক্তি ছিল বোঝা বহিবার
হাসি মুখে বয়েছি নাথ তোমার দেওয়া ভার।
শেষ হল আজ ভবের খেলা, কি দান দেব যাবার বেলা
তোমার নামের ভেলায় যেন এ দীন তরে যায়॥