চৈতালি চাঁদনী রাতে

বাণী

চৈতালি চাঁদনী রাতে —
নব মালতীর কলি মুকুল-নয়ন তুলি’
নিশি জাগে আমারি সাথে।।
পিয়াসি চকোরীর দিন-গোনা ফুরালো
শূন্য-গগনের বক্ষ জুড়ালো
দক্ষিণ-সমীরণ মাধবী-কঙ্কণ
	পরায়ে দিল বনভূমির হাতে।।
চাঁদিনী তিথি এলো, আমারি চাঁদ কেন এলো না;
বনের বুকের আঁধার গেল গো — মনের আঁধার গেল না।
এ মধু-নিশি মিলন-মালায়
কাঁটার মত আমি বিঁধিয়া আছি, হায়!
সবারই আঁখিতে আলোর দেয়ালি
	অশ্রু আমারি নয়ন-পাতে।।

জোছনা-হসিত মাধবী নিশি

বাণী

জোছনা-হসিত মাধবী নিশি আজ।
পর পর প্রিয়া বাসন্তি-রাঙা সাজ।।
রাঙা কমল-কলি দিও কর্ণ-মূলে
পর সোনালি চেলি নব সোনাল্ ফুলে,
স্বর্ণলতার প’র সাতনরী-হার আজি উৎসব-রাত,
		রাখ রাখ গৃহ-কাজ।।
পর কবরী-মূলে নব আমের মুকুল
হাতে কাঁকন পর গেঁথে অতসীর ফুল,
দূরে গাহুক ডাহুক পাখি সখি, মুখর নিলাজ।।

মহাকালের কোলে এসে

বাণী

	মহাকালের কোলে এসে গৌরী হ’ল মহাকালী,
	শ্মশান–চিতার ভস্ম মেখে ম্লান হ’ল মার রূপের ডালি।।
		তবু মায়ের রূপ কি হারায়
	সে যেছড়িয়ে আছে চন্দ্র তারায়,
	মায়ের রূপের আরতি হয় নিত্য সূর্য–প্রদীপ জ্বালি’ ।।
	উমা হ’ল ভৈরবী হায় বরণ ক’রে ভৈরবেরে,
হেরি’	শিবের শিরে জাহ্নবী রে শ্মশানে মশানে ফেরে।
		অন্ন দিয়ে ত্রি–জগতে
		অন্নদা মোর বেড়ায় পথে,
	ভিক্ষু শিবের অনুরাগে ভিক্ষা মাগে রাজদুলালী।।

আমি রবি-ফুলের ভ্রমর

বাণী

আমি	রবি-ফুলের ভ্রমর।
তা’র	আলোক-মধু প্রিয়ে আমি আলোর মধুপ অমর।।
ঐ	শ্বেত-শতদল ফুটলো যেদিন গভীর গগন নীল সায়রে
তা’র	আলোর শিখা আকাশ ছেপে ছড়িয়ে গেল বিশ্ব ‘পরে — স্তরে স্তরে,
সেই	বহ্নি-নলের পরাগ-রেণু
	আমিই যেন প্রথম পেনু, প্রথম পেনু গো
তাই	বাহির পানে ধেয়ে এনু গেয়ে আকুল স্বরে।
আজ	জাগো জগৎ! ঘুম টুটেছে বিশ্বে নিবিড় তমোর।।
তাঁ’র	জাগরণীর অরুণ কিরণ — গন্ধ যেদিন নিশি-শেষে
এই	অন্ধ জগৎ জাগিয়ে গেল আকাশ-পথের হাওয়ায় ভেসে — হঠাৎ এসে;
আমি	ঘুম-চোখে মোর পেনু আভাস,
	ঘরের বাহির করা সে-বাস ভাঙলে আবাস মোর।।
তাই	কূজন-বেণু বাজায়ে চলি আলোর দেশের শেষে
যথা	সহস্রদল কমল, আনন জাগ্‌ছে প্রিয়তমর।।
যেন	এ শ্বেত-সরোজ-সরোদ বাঁধা সপ্ত সুরের রঙিন তারে
	রচ্‌ছে সুরের ইন্দ্রধনু গগন-সীমায় তোরণ-দ্বারে তমোর ‘পারে,
তার	সে-সুর বাজি’ আমার পাখায় গহন-গহন শাখায় শাখায়
	তারায় কাঁপায় গো।
জাগে	ঐ কমলে পরশ প্রিয়ার চরণ নিরুপমর।।

বিদায় বেলায় করুণ সুরে গাইছ কেন গান

বাণী

বিদায় বেলায় করুণ সুরে গাইছ কেন গান।
সুরের সাথে হল আকুল পাষাণ পরান।।
	আজকে ব্যথায় উঠল ভ’রে
	মালার কুসুম পড়ল ঝ’রে,
পরান আমার কেমন করে নেবে তব দান।।
	বৃথায় ফুলে সাজাও মোরে
	ভাসাও যত নয়ন লোরে,
প্রাণের ঠাকুর ডাকেন মোরে কাঁদে মম প্রাণ।।

আমার পায়ের বেড়ি

বাণী

আমার পায়ের বেড়ি এই সোনার পুরী ভেঙে।
যাও গো নিয়ে তোমার দেশে (তোমায়) পাব সেথায় জেগে।।
এই যে সাগর এই যে কুমার এই যে তোমার আমি
এই যে তুমি স্বপ্নে-পাওয়া মধুমালার স্বামী,
(এবার) তোমার হাসির রঙে, আঁধার পুরী উঠুক রেঙে।।

নাটক : 'মধুমালা'