উচাটন মন ঘরে রয় না

বাণী

(পিয়া মোর) উচাটন মন ঘরে রয় না।
(পিয়া মোর) ডাকে পথে বাঁকা তব নয়না।।
	ত্যজিয়া লোক-লাজ
	সুখ-সাধ গৃহ-কাজ,
(প্রিয়া মোর) নিজ গৃহে বনবাস সয়না।।
	লইয়া স্মৃতির লেখা
	কত আর কাঁদি একা,
(পিয়া মোর) ফুল গেলে কাঁটা কেন যায় না।।

ফুটিল মানস মাধবী কুঞ্জে

বাণী

ফুটিল মানস-মাধবী-কুঞ্জে প্রেম কুসুম পুঞ্জে পুঞ্জে
মাধব, তুমি এসো হে।
হে মধু-পিয়াসী চপল মধুপ, হৃদে এসো হৃদয়েশ হে।
(নীল) মাধব, তুমি এসো হে।।
তুমি আসিলে না বলি’ শ্যামরায়
অভিমানে ফুল লুটায় ধূলায়
মাধব, তুমি এসো হে।।
বনমালী! বনে বন-ফুল হায়
হায়! শুকাইয়া যায়, আঁখিজলে তায়
জিয়াইয়া রাখি কত আর?
এসো গোপন পায়ে! চিতচোর এসো গোপন পায়ে!
যেমন নবনী চুরি করে খেতে, এসো শ্যাম সেই গোপন পায়ে।
যেমন নবনী চুরি করে খেতে এসো হে তেমনি গোপন পায়ে।
না হয় নূপুর খুলিও,
শ্যাম, যমুনায় থির নীরে বাঁশরির তানে না হয় লহরি না তুলিও!
যেমন নীরবে ফোটে ফুল,
যেমন নীরবে রেঙে ওঠে সন্ধ্যা-গগন-কুল —
এসো তেমনি গোপন পায়ে
অনুরাগ-ঘসা হরি-চন্দন শুকায়ে যায় —
আর রহিতে নারি, এসো হৃষিকেশ শ্যামরায়।।

১. পাঠান্তর :
মম মানস মাধবী লতার কুঞ্জে, এই তো প্রথম মধুপ গুঞ্জে।
(নীল) মাধব তুমি এসো হে, হে মধু পিয়াসী চপল মধুপ
হৃদে এসো হে হৃদয়েশ হে।
তোমার আমার পথ চেয়ে হায় অভিমানে ফুল লুটায় ধূলায়
(নীল) মাধব তুমি এসো হে।।
বনমালী বিনে বন ফুল হার
(হায়) শুকাইয়া যায় আঁখি জলে তায় জিয়াইয়া রাখি কত আর।
চিতচোর এসো গোপন পায়ে
যেমন নবনী চুরি করে খেতে, এসো শ্যাম সেই গোপন পায়ে।।
না হয় নূপুর খুলিও
(শ্যাম) যমুনার থির নীরে বাঁশরির তানে না হয় লহরি না তুলিও।
(যেমন) নীরবে ফোটে ফুল,
যেমন নীরবে রেঙে ওঠে সন্ধ্যা গগন কুল।
এসো তেমনি গোপন পায়ে
অনুরাগ-ঘষা হয়ে চন্দন শুকায়ে যায়।

নাটিকা : ‘ধ্রুব’

কে দুরন্ত বাজাও ঝড়ের ব্যাকুল বাঁশি

বাণী

কে দুরন্ত বাজাও ঝড়ের ব্যাকুল বাঁশি
আকাশ কাঁপে সে সুর শুনে সর্বনাশী।।
	বন ঢেলে দেয় উজাড় ক'রে
	ফুলের ডালা চরণ' পরে,
নীল গগনে ছুটে আসে মেঘের রাশি।।
বিপুল ঢেউয়ের নাগর-দোলায় সাগর দুলে
বান ডেকে যায় শীর্ণা নদীর কুলে কূলে
	তোমার প্রলয় মহোৎসবে
	বন্ধু ওগো, ডাকবে কবে?
ভাঙবে আমার ঘরের বাঁধন কাঁদন হাসি।।

হাওয়াতে নেচে’ নেচে' যায় ঐ তটিনী

বাণী

হাওয়াতে নেচে’ নেচে’ যায় ঐ তটিনী।
পাহাড়ের পথ-ভোলা কিশোরী নটিনী।।
		তরঙ্গ আঁচল দুলায়ে
		বনভূমির মন ভুলায়ে,
চলেছে চপল পায়ে একাকিনী উদাসিনী।।
এঁকে বেঁকে থম্‌কে গিয়ে,
হরিণীরে চম্‌কে দিয়ে।
ছুটিয়া যায় সুদূরে
আয় আয় বলি, ডাকে কে কুলের বধূরে,
নেচে চলে পথ বেভুল ঘর-ছাড়া বিবাগিনী।।

তোমার হাতের সোনার রাখি

বাণী

তোমার হাতের সোনার রাখি আমার হাতে পরালে।
আমার বিফল বনের কুসুম তোমার পায়ে ঝরালে।।
		খুঁজেছি তোমায় তারার চোখে
		কত সে-গ্রহে কত সে-লোকে,
আজ কি তৃষিত মরুর আকাশ বাদল-মেঘে ভরালে।।
দূর অভিমানের স্মৃতি কাঁদায় কেন আজি গো!
মিলন-বাঁশি সহসা ওঠে ভৈরবীতে বাজি’ গো!
		হেনেছ হেলা, দিয়েছ ব্যথা
		মনে পড়ে আজ কেন সে-কথা,
মরণ-বেলায় কেন এ গলায় মালার মতন জড়ালে।।

ফিরে যা সখি ফিরে যা ঘরে

বাণী

ফিরে যা সখি ফিরে যা ঘরে
থাকিতে দে লো এ পথে পড়ে
যে পথ ধরে গিয়াছে হরি চলি’
আমি যাব না আর গোকুলে,
সখি শিশিরে আর ভয় কি করি ভেসেছি যবে অকূলে
সখি দিসনে লো দিসনে লো রাখ গোপী-চন্দন,
চন্দনে জুড়ায় না প্রাণের ক্রন্দন।
দ্বিগুণ বাজায় জ্বালা নব মালতী-মালা,
ও যে মালা নয়, মনে হয় সাপিনীর বন্ধন।।
সখি যাহার লাগিয়া বসন ভূষণ, সেই গেল যদি চলে
কি হবে এ ছার ভূষণের ভার ফেলে দে যমুনা-জলে।
সকলের মায়া কাটায়েছি সখি, টুটিয়াছে সব বন্ধন,
যেতে দে আমায়, যথা মথুরায় বিহরে নন্দ-নন্দন।।
দেখব তারে, রাজার সাজে দেখব তারে
রাজার সাজে কেমন মানায় গো-রাখা রাখাল-রাজে।