আবির-রাঙা আভীরা নারী সনে

বাণী

আবির-রাঙা আভীরা নারী সনে কৃষ্ণ কানাই খেলে হোলি।
হোরির মাতনে চুড়ি ও কাঁকনে উঠিছে কল-কাকলি।।
শ্যামল তনু হ’ল রাঙা আবিরে রেঙে,
ইন্দ্রধনু-ছটা যেন কাজল মেঘে,
				রাঙিল রঙে নীল চোলি।।
লহু লহু হাসে মুহু মুহু ভাসে রাঙা কুঙ্কুম ফাগের রাগে,
দোঁহে দুহু ধরি’ মারে পিচকারি চাঁদ-মুখে কলঙ্ক জাগে।
অঙ্গে অপাঙ্গে অনঙ্গ-রঙ্গিমা ইঙ্গিতে উঠিছে উছলি’।।

সন্ধ্যার গোধূলি রঙে নাহিয়া

বাণী

সন্ধ্যার গোধূলি রঙে নাহিয়া।
কে এলে কাহারে চাহিয়া।।
মধুর লগনে অপরূপ বেশে
কেন দাঁড়ালে মম দ্বারে এসে,
দিনের শেষে ঝরা ফুলের দেশে —
	আসিলে চাঁদের তরণী বাহিয়া।।
অস্ত রবির রঙ ল’য়ে কোন্‌ যাদুকর
নিরমিল তোমার মূরতি মনোহর,
মনের পদ্ম-বনে বাণীর মধুকর —
	‘সুন্দর! সুন্দর!’ — ওঠে গাহিয়া।।

হার মানি ননদিনী

বাণী

হার মানি ননদিনী
মুখর মুখের বাণী শুনি তোর লজ্জাও লাজ সখি ভোলে
			পুলকে প্রাণ মন দোলে দোলে।।
পলকের চাহনিতে কে জানে কেমনে
প্রাণে এলো এত মধু এত লাজ নয়নে
বাহিরে নীরব কথার কুহু অন্তরে মুহুমুহু বোলে বোলে
			মুহু মুহু কুহু কুহু বোলে।।
তোরি মত ছিনু সই বনের কুরঙ্গী
মানি নাই কোনদিন লাজের ভ্রুভঙ্গি।
মধুরা মুখরা ওলো! মিষ্টি মুখের তোর
সব মধু খেয়েছে কি ঠাকুর জামাই চোর?
তব অভিনব বাণী হিল্লোলে
গুন্ঠন আপনি খোলে পুলকে প্রাণ মন দোলে।।

নাটিকাঃ ‘প্রীতি উপহার’

ঐ নন্দন নন্দিনী দয়িতা চির-আনন্দিতা

বাণী

ঐ নন্দন নন্দিনী দয়িতা, চির-আনন্দিতা।
যেন প্রথম কবির প্রথম লেখা কবিতা ॥
	তব চরণের নূপুরধ্বনি
	মধুকর গুঞ্জর তোলে যে রণি,
মন মোর ভোলে হেরি তোমারে যে গো ঐ যে যৌবন-গর্বিতা ॥
	দোলায় দোদুল দুল তব নৃত্য
	আবেশে আকুল হয় মোর চিত্ত,
	নৃত্যশেষে তব পায়ের নূপুর
	গ্রহ তারকায় রয় আকাশের সুদূর,
সুরলোক উর্বশী তুমি যে আমার রও চির-অনিন্দিতা ॥

তব ঐ দু’টি চঞ্চল আঁখি

বাণী

তব ঐ দু’টি চঞ্চল আঁখি।
আদর সোহাগ প্রেম-অনুরাগ —
	মান অভিমান মাখামাখি।।
বুঝিতে পারি না তারই ভাষা
তবু মনে বুঝিবার আশা,
তাই বুঝি হায় নিল বাসা —
	ওরই মাঝে মোরই আঁখি।।
মুদিত কমলে ভ্রমর যেন
বন্দি হইয়া রহি হেন,
আঁখি ফিরাতে পারি না কেন —
	ওরই মাঝে ডুবে থাকি।।

ফিরে এসো ফিরে এসো প্রিয়তম

বাণী

ফিরে এসো ফিরে এসো প্রিয়তম
তেমনি চাহিয়া আছে নিশীথের তারাগুলি।
লতা-নিকুঞ্জে কাঁদে আজো বন-বুলবুলি।।
ঘুমায়ে পড়েছে সবে, মোর ঘুম নাহি আসে
তুমি যে ঘুমায়েছিলে সেদিন আমার পাশে
সাজানো সে গৃহ তব, ঢেকেছে পথের ধূলি।।
আমার চোখের জলে মুছে যায় পথ-রেখা
রোহিনী গিয়াছে চলি' চাঁদ কাঁদে একা-একা
কোন দূর তারালোকে কেমনে রয়েছ ভুলি'।।