তুমি সুখে থাক প্রিয়া

বাণী

তুমি সুখে থাক প্রিয়া আমি আজ চ’লে যাই।
তোমারে চাহিয়া জনমে জনমে এই ব্যথা যেন পাই।।
	দুদিনের সাথী দু’দিনের লাগি’
	এসেছিনু আমি তব অনুরাগী,
হৃদয় বাণীতে চেয়েছিনু শুধু আর কিছু চাহি নাই।।
আকাশে তব দিয়ে গেনু ফুল কণ্ঠে গানের মালা,
হয়তো একদা অন্তরে তব জাগিবে স্মৃতির জ্বালা।
	হয়তো বা তব নয়নের কোণে
	নতুনের ছায়া জাগিবে গোপনে,
স্মৃতিটি আমার মুছে যাবে জানি তবু কিছু ক্ষতি নাই —
			এই ব্যথা যেন পাই।।

ও ভাই হাজি! কোন্ কাবা ঘর

বাণী

ও ভাই হাজি! কোন্ কাবা ঘর হজ করিয়া এলে।
গিয়ে কি ভাই খোদায় পাওয়ার পথের দিশা পেলে।।
খোদার ঘরের দিদার পেয়ে বল কেমন ক’রে
ফিরে এলে দুনিয়াদারীর এই না-পাক ঘরে,
কেউ বলেছে কি কোন্ কাবাতে গেলে খোদায় মেলে।।
খেলেছিলেন নবীজী যে-মক্কা মদিনায়
বেহোঁশ হয়ে পড়নি কি পৌঁছিয়া সেথায়,
কেমন ক’রে ফিরে এলে সেই মদিনা ফেলে
এই দুনিয়ার কারবালাতে অধিক তৃষা আরো
এনেছ কি আব্হায়াতের পানি? দিতে পারো?
মোর আঁধার ঘরে দিতে পারো নূরের চেরাগ জ্বেলে?

সোনার হিন্দোলে কিশোর–কিশোরী

বাণী

সোনার হিন্দোলে কিশোর–কিশোরী দোলে ঝুলনের উৎসব রঙ্গে
বিন্দু বিন্দু বারি অবিরত পড়ে ঝরি’ বাজে তাল জলদ মৃদঙ্গে।।
	জড়াইয়া শ্যামে দোলে ভীরু রাধা
	থির বিজুরি ডোরে মেঘ যেন বাঁধা
পল্লব কোলে ফুলদলে দোলে (যেন) গোপীদল গোপীবল্লভ সঙ্গে।।
	উল্লাসে থরথর খরতর বহে বায়
	পুলকে ডালে ডালে কদম্ব শিহরায়।
	দৃষ্টিতে গোপীদের বৃষ্টির লাবনি
	আনন্দ উতরোল গাহে বৃন্দাবনী
নূপুর মধুর বাজে যমুনা তরঙ্গে ঝুলনের উৎসব রঙ্গে।।

পথিক ওগো চল্‌তে পথে

বাণী

পথিক ওগো চল্‌তে পথে
	তোমায় আমায় পথের দেখা।
ঐ দেখাতে দুইটি হিয়ায়
	জাগ্‌ল প্রেমের গভীর রেখা।।
এই যে দেখা শরৎ-শেষে
পথের মাঝে অচিন্‌ দেশে,
কে জানে ভাই কখন কে সে
	চল্‌ব আবার পথটি একা।।
এই যে মোদের একটু চেনার
	আবছায়াতেই বেদন জাগে
ফাগুন হাওয়ার মদির ছোঁওয়া
	পূবের হাওয়ার কাঁপন লাগে।
হয়ত মোদের শেষ দেখা এই
এম্‌নি ক’রে পথের বাঁকেই
রইল স্মৃতি চারটি আঁখেই
	চেনার বেদন নিবি লেখা।।

আমার কালো মেয়ে পালিয়ে বেড়ায়

বাণী

আমার কালো মেয়ে পালিয়ে বেড়ায় কে দেবে তায় ধ'রে
তারে	যেই ধরেছি মনে করি অমনি সে যায় স'রে।।
		বনে ফাকেঁ দেখা দিয়ে
		চঞ্চলা মোর যায় পালিয়ে,
দেখি	ফুল হয়ে মা'র নূপুরগুলি পথে আছে ঝ'রে।।
তার	কণ্ঠহারের মুক্তাগুলি আকাশ-আঙিনাতে
	তারা হয়ে ছড়িয়ে আছে দেখি আধেক রাতে।
		কোন মায়াতে মহামায়ায়
		রাখবো বেঁধে আমার হিয়ায়
	কাঁদলে যদি হয় দয়া তার তাই কাদিঁ প্রাণ ভ'রে।।

মরণ ডাকে আয় রে চ’লে

বাণী

মরণ ডাকে — ‘আয় রে চ’লে!’ জীবন বলে — ‘যাই গো যাই।’
জীবনে হায় পায়নি ব’লে (আমার) মরণে তাই চাই গো চাই।।
	জীবন শুধু কাঁটায় ভরা
	তাই বুঝি সে দেয়নি ধরা,
ফুল-বিছানো কবরে তার মধুর পরশ পাই গো পাই।
মরণ-বঁধূর ডাক শুনে আর জীবনে সাধ নাই গো নাই।।

নাটকঃ ‘কাফন চোরা’