মেঘের হিন্দোলা দেয় পূব-হাওয়াতে দোলা

বাণী

	মেঘের হিন্দোলা দেয় পূব-হাওয়াতে দোলা।
কে	দুলিবি এ-দোলায় আয় আয় ওরে কাজ-ভোলা॥
		মেঘ-নটীর নূপুর
		ঐ বাজে ঝুমুর ঝুমুর,
	শীর্ণা-তনু ঝর্না তরঙ্গ-উতরোলা॥
	ফুল-পসারিণী ঐ দুলিছে বনানী
	বিনিমূলে বিলায় সে সুরভি, ফুল ছানি।
আজ	ঘরে ঘরে ফুল-দোল্ সব বন্ধ দুয়ার খোলা॥
		জলদ-মৃদঙ বাজে
		গভীর ঘন আওয়াজে,
	বাদলা-নিশীথ দুলে ঐ তিমির-কুন্তলা॥

ধর্মের পথে শহীদ যাহারা আমরা সেই সে জাতি

বাণী

ধর্মের পথে শহীদ যাহারা আমরা সেই সে জাতি
সাম্য-মৈত্রী এনেছি আমরা বিশ্বে করেছি জ্ঞাতি।।
পাপ-বিদগ্ধ তৃষিত ধরার লাগিয়া আনিল যাঁরা
মরুর তপ্ত বক্ষ নিঙাড়ি শীতল শান্তি-ধারা
উচ্চ-নীচের ভেদ ভাঙি দিল সবারো বক্ষ পাতি’।।
কেবল মুসলমানের লাগিয়া আসেনি’ক ইসলাম
সত্যে যে চায় আল্লায় মানে মুসলিম তারি নাম
আমির ফকিরে ভেদ নাই — সবে ভাই, সব এক সাথি।।
নারীরে প্রথম দিয়াছি মুক্তি, নর্‌ সম অধিকার
মানুষের গড়া প্রাচীর ভাঙিয়া করিয়াছি একাকার।
আধার রাতির বোরখা উতারি এনেছি আশার-ভাতি।।

আল্লার নাম মুখে যাহার বুকে আল্লার নাম

বাণী

আল্লার নাম মুখে যাহার বুকে আল্লার নাম।
এই দুনিয়াতেই পেয়েছে সে বেহেশ্‌তের আরাম।।
সে সংসারকে ভয় করে না নাই মৃত্যুর ডর
দুনিয়াকে শোনায় শুধু আনন্দেরি খবর
দিবানিশি পান করে সে কওসরেরি জাম —
		পান করে কওসরেরি জাম।।

ইসলামী নক্সা : ‘আল্লার রহম’

গোঠের রাখাল বলে দে রে

বাণী

		গোঠের রাখাল, বলে দে রে কোথায় বৃন্দাবন।
(যথা)		রাখাল–রাজা গোপাল আমার খেলে অনুক্ষণ।।
(যথা)		দিনে রাতে মিলন–রাসে
		চাঁদ হাসে রে চাঁদের পাশে,
(যা’র)		পথের ধূলায় ছড়িয়ে আছে শ্রীহরি–চন্দন।।
(যথা)		কৃষ্ণ–নামের ঢেউ ওঠে রে সুনীল যমুনায়,
(যা’র)		তমাল–বনে আজো মধুর কানুর নূপুর শোনা যায়।
		আজো যাহার কদম ডালে
		বেণু বাজে সাঁঝ–সকালে,
		নিত্য লীলা করে যথা মদন–মোহন।।

বেলা প’ড়ে এলো জল্‌কে সই চল্ চল্

বাণী

বেলা প’ড়ে এলো জল্‌কে সই চল্ চল্
ডাকিছে ওই তটিনী ছল্‌ ছল্‌।।
বকের সারিকার মালিকা দুলিয়ে
আসিছে সাঁঝ ঐ চিকুর এলিয়ে
আকাশের কোলে শিশু শশীরে ঐ
দেখিতে আসিছে তারকা দলে দল।।
কমলিনীর মলিন মুখ
হাসে জলে শাপলা শালুক
বনের পথে হলো আঁধার
জোনাকী ঐ চমকে ঝলমল্‌।।

ঘুম পাড়ানি মাসিপিসি

বাণী

ঘুম পাড়ানি মাসিপিসি ঘুম দিয়ে যেয়ো,
বাটা ভ’রে পান দেবো গাল ভ’রে খেয়ো।
		ঘুম আয় রে, ঘুম আয় ঘুম।।
ঘুম আয় রে, দুষ্টু খোকায় ছুঁয়ে যা
চোখের পাতা লজ্জাবতী লতার মত নুয়ে যা,
		ঘুম আয় রে, ঘুম আয় ঘুম।।
মেঘের মশারিতে রাতের চাঁদ পড়ল ঘুমিয়ে,
খোকার চোখের পাপড়ি পড়ুক ঘুমে ঝিমিয়ে।
শুশুনি শাক খাওয়াব, ঘুম পাড়ানি আয়
ঝিঁঝিঁ পোকার নূপুর খোল, খোকা ঘুম যায়,
		ঘুম আয় রে, ঘুম আয় ঘুম।।

চলচ্চিত্র : ‘চৌরঙ্গী’