গানের সাথি আছে আমার সুরের সেতু-পারে

বাণী

গানের সাথি আছে আমার সুরের সেতু-পারে।
তা’রি আশায় গানের ভেলা ভাসাই পারাবারে।।
	জানি জানি আমার এ সুর
	পাবেই পাবে চরণ বঁধুর
ঐ ভেলাতে আসবে বঁধু গভীর অন্ধকারে।।
ঘুমে যখন মগ্ন সবাই বন্ধু আমার আসে
ফুলের মতন সুরগুলি তার মুখ চেয়ে’হাসে।
	উদ্দেশে তার গানগুলি মোর
	যায় ভেসে যায় নেশায় বিভোর
যেমন ক’রে ছায় গো তপন চাঁদের অধিকারে।।

নদীর নাম সই অঞ্জনা

বাণী

নদীর নাম সই অঞ্জনা নাচে তীরে খঞ্জনা,
		পাখি সে নয় নাচে কালো আঁখি।
আমি যাব না আর অঞ্জনাতে জল নিতে সখি লো,
		ঐ আঁখি কিছু রাখিবে না বাকি॥
সেদিন তুলতে গেলাম দুপুর বেলা
কলমি শাক ঢোলা ঢোলা (সই)
হ’ল না আর সখি লো শাক তোলা,
আমার মনে পড়িল সখি, ঢল ঢল তা’র চটুল আঁখি
ব্যথায় ভ’রে উঠলো বুকের তলা।
ঘরে ফেরার পথে দেখি,
নীল শালুক সুঁদি ও কি
ফু’টে আছে ঝিলের গহীন জলে।
আমার অমনি পড়িল মনে
সেই ডাগর আঁখি লো
ঝিলের জলে চোখের জলে হ’ল মাখামাখি॥

কাছে আমার নাইবা এলে হে বিরহী

বাণী

কাছে আমার নাইবা এলে হে বিরহী দূর ভালো।
নাই কহিলে কথা তুমি ব'লো গানে সুর ভালো।।
	নাই দাঁড়ালে কাছে আসি'
	দূরে থেকেই বাজিয়ো বাঁশি।
চরণ তোমার নাই বা পেলাম চরণের নূপুর ভালো।।
ওগো পথে পাওয়ার চেয়ে আমায় চাওয়ায় যেন পথ-বঁধু
দুই কূলেতে রইব দুজন বইবে মাঝে স্রোত-বঁধূ।
	পরশ তোমার চাই না প্রিয়
	তোমার হাতের আঘাত দিও
মিলন তোমার সইতে নারি বেদনা-বিধুর ভালো।।

আল্লাজী গো আমি বুঝি না রে তোমার খেলা

বাণী

আল্লাজী গো, আমি বুঝি না রে তোমার খেলা।
তাই দুঃখ পেলে ভাবি — বুঝি হানিলে হেলা।। 
কুমার যখন হাঁড়ি গড়ে, কাঁদে মাটি —
ভাবে, কেন পোড়ায় আমায় চড়িয়ে ভাটি;
ফুলদানি হয় পোড় খেয়ে সেই মাটির ঢেলা।। 
মা শিশুরে ধোয়ায় মোছায়, শিশু ভাবে —
ছাড়া পেলে, মা ফেলে সে পালিয়ে যাবে।
মোরা, দোষ করে তাই দুষি তোমায় সারা বেলা।।
আমরা তোমার বান্দা, খোদা তুমি জানো —
কেন হাসাও, কেন কাঁদাও, আঘাত হানো।
যে গড়তে জানে তাঁরই সাজে ভেঙে ফেলা।।

আবার কি এলো রে বাদল

বাণী

আবার কি এলো রে বাদল।
ল’য়ে পিঠভরা এলোচুল, চোখ ভরা জল।।
তৃষিত গগনের তৃষ্ণা কি মিটিল
কৃষ্ণা-প্রিয়ায় পেয়ে হিয়া কি তিতিল,
কাহার বিরহ-দাহন জুড়াল,
মোর মত কা’র নিশি হইল বিফল।।
ফুটিল কি কদম কেয়া,
দোলে, কা’র বুকে ফুল, কা’র নয়নে দেয়া।
কে গেল অভিসারে, কে কাঁদে ভবনে
কা’র দীপ নিভে গেল দুরন্ত পবনে,
কণ্ঠ-লগ্না কা’র কান্তা ঘুমায়
মোর মত কা’র বুকে জ্বলিছে অনল।।

কলঙ্কে মোর সকল দেহ হলো কৃষ্ণময়

বাণী

	কলঙ্কে মোর সকল দেহ হলো কৃষ্ণময়
	শ্যামের নামে হউক এবার আমার পরিচয়।।
		কলঙ্কিনীর তিলক এঁকে
		কলঙ্ক-চন্দন মেখে'
আমি	শোনাব গো ডেকে ডেকে কলঙ্কেরি জয়, কৃষ্ণ-কলঙ্কেরি জয়।।
	ভুবনে মোর ঠাঁই পেয়েছি ভবন হতে নেমে'
হয়ে	বৈরাগিনী আমার কৃষ্ণ-প্রিয়তমের প্রেমে।
	যারে কৃষ্ণ টানে বিপুল টানে
	সে কি কুলের বাধা মানে
এই	বিশ্ববৃজে ভাগ্যবতী সেই শ্রীমতী হয়।।