ওরে বাবা এর নাম নাকি পূজা

বাণী

ওরে বাবা! এর নাম নাকি পূজা! (রে ভাই)।
(এই) পূজার ঠ্যালা সইতে সোজা মানুষ হয় যে কুঁজা।
ষষ্ঠীর কৃপায় দশটি মেয়ে রাবণের গুষ্টি সঙ্গে
আঁচিলের মতন এঁটুলির মতন নেপটে আছেন অঙ্গে।
এরা ছাড়ে না, — তবু আঁচিল ছাড়ে খেলে হোমিওপ্যাথিক থুজা।।
বেনারসি, ঢাকাই, রেশমি তসর, এণ্ডি, মট্‌কা
বইতে বইতে গা দিয়ে দাদা ঘাম ছুটে যায় বোঁট্‌কা।
(এই) চাওয়ার ভয়ে শিব ন্যাংটা, কথা কন্‌ না দশভুজা।।
গিন্নি কন্যে হন্যে হয়ে সদাই সওদা করে
(ওরা ভাবে) ব্যাঙ্কের টাকা যেন ট্যাঙ্কের জলের মতন ঝরঝর ক’রে ঝরে
তাদের এক গোঁ থিয়েটার, সিনেমা, এসেন্স, পাউডার খুঁজা।।
এ সব যদি জুটল, তবে যেতে হবে চেঞ্জে
শালা শালী সবাই এক জোটে বলে এবার ‘সস্তায় ট্রেন যে,’ ও বোনাই।
(না গেলে) দেখব সদাই গিন্নীর কুতুরে চক্ষু কেৎরে-বুঁজা।।
সবাই যেন শ্রীদুর্গার গুষ্টি, আমি যেন বাহন সিঙ্গি,
আসছে বছর পূজায় মাগো হব আমি ফিরিঙ্গি। জয় বাবা যীশুখ্রিস্টের জয়
(এই পূজার সময়) পিতা হওয়ার চেয়ে হাড়িকাঠের পাঁঠা হওয়া সোজা।।

‘পূজার ঠ্যালা’

আসিলে কে গো বিদেশি

বাণী

আসিলে কে গো বিদেশি দাঁড়ালে মোর আঙিনাতে।
আঁখিতে ল’য়ে আঁখি-জল লইয়া ফুল-মালা হাতে।।
জানি না চিনি না তোমায় কেমনে ঘরে দিব ঠাঁই
অমনি আসে তো সবাই হাতে ফুল, জল নয়ন-পাতে।।
কত সে প্রেম-পিয়াসি প্রাণ চাহিছে তোমার হাতের দান
কাঁদায়ে কত গুলিস্তান আমারে এলে কাঁদাতে।।
ফুলে আর ভোলে না মোর মন, গলে না নয়ন-জলে,
ভুলিয়া জীবনে একদিন আজিও জ্বলি জ্বালাতে।।

এই দেহেরই রঙমহলায় খেলিছেন

বাণী

এই দেহেরই রঙমহলায় খেলিছেন লীলা-বিহারী।
মিথ্যা মায়া নয় এ কায়া কায়ায় হেরি ছায়া তাঁরি।।
	রূপের রসিক রূপে রূপে
	খেলে বেড়ায় চুপে চুপে,
মনের বনে বাজায় বাঁশি মন-উদাসী বন-চারী।।
	তার খেলা-ঘর তোর এ দেহ
	সে ত নহে অন্য কেহ
সে যে রে তুই, — তবু মোহ ঘুচল না তোর হায় পূজারি।।
	খুঁজিস্ তারে ঠাকুর-পূজায়
	উপাসনায় নামাজ রোজায়,
চাল কলা আর সিন্নি দিয়ে ধর্‌বি তারে হায় শিকারি!
পালিয়ে বেড়ায় মন-আঙিনায় সে যে শিশু প্রেম-ভিখারি।।

সখি সে হরি কেমন বল্‌

বাণী

সখি, সে হরি কেমন বল্‌। 
নাম শুনে যা’র এত প্রেম জাগে চোখে আনে এত জল।।
সখি	সে কি আসে এই পৃথিবীতে
	গাহি’ রাধা নাম বাঁশরিতে?
যা’র অনুরাগে বিরহ-যমুনা হয়ে ওঠে চঞ্চল।।
তা’রে কি নামে ডাকিলে আসে
কোন্‌ রূপ কোন্‌ গুন পাইলে, সে রাধা সম ভালোবাসে?
	সখি শুনেছি সে নাকি কালো
	জ্বালে কেমনে সে এত আলো,
মায়া ভুলাইতে মায়াবী সে নাকি করে গো মায়ার ছল।।

সখি আমি-ই না হয় মান করেছিনু

বাণী

সখি		আমি-ই না হয় মান করেছিনু তোরা তো সকলে ছিলি। 
		ফিরে গেল হরি, তোরা পায়ে ধরি, কেন নাহি ফিরাইলি।। 
		তা'রে ফিরায় যে পায়ে ধরি' (তার) পায়ে পায়ে ফেরেন হরি 
		পরিহরি মান, অভিমান (তা'রে) কেন নাহি ফিরাইলি। 
		তোরা তো হরির স্বভাব জানিস। 
তা'র		স্ব-ভাবের চেয়ে পরভাব বেশি তোরা তো হরির স্বভাব জানিস্। 
		তা'র স্বভাব জেনেও রহিলি স্ব-ভাবে ডাকিলি না পরবোধে। 
তা'রে		প্রবোধ কেন দিলি নে সই, তোরা তো চিনিস্ হরিরে 
		প্রবোধ কেন দিলি নে সই।   
		(কেন) ডাকিলি না পরবোধে। 
		(হরি) প্রহরী হইয়া রহিত রাধার ঈষৎ অনুরোধে 
		(তা'রে) অনুরোধ কেন করলি নে সই 
		তোরা যে আমার অন্তরাধা অনুরোধ কেন করলি নে সই। 
		তোরা যে রাধার অনুবর্তিনী 
		অনুরোধ কেন করলি নে সই (কেন) ডাকিলি না পরবোধে।। 

শ্যামা বড় লাজুক মেয়ে

বাণী

	শ্যামা বড় লাজুক মেয়ে কেবলই সে লুকাতে চায়।
	আলো-আঁধার পর্দা টেনে বালিকা সে পালিয়ে বেড়ায়।।
		নিখিল ভুবন আছে তারে ঘিরে
		আমার মেয়ে তবু বসন খুঁজে ফিরে,
	তারে যে দেখে সে এক নিমেষে তারি মাঝে লয় হয়ে যায়।।
	তাই কেবলি সে লুকাতে চায়।।
	কোটি শিব ব্রহ্মা হরি অনন্তকাল গভীর ধ্যানে,
তার	সে লুকোচুরি খেলায় পায় না দিশা পায় না মনে।
		রবি শশী গ্রহতারার ফাঁকে
		যে দেখেছে পালিয়ে যেতে মাকে,
(সে)	আপনাকে আর পায় না খুঁজে মায়াবিনীর মহামায়ায়।।