হার মানি ননদিনী

বাণী

হার মানি ননদিনী
মুখর মুখের বাণী শুনি তোর লজ্জাও লাজ সখি ভোলে
			পুলকে প্রাণ মন দোলে দোলে।।
পলকের চাহনিতে কে জানে কেমনে
প্রাণে এলো এত মধু এত লাজ নয়নে
বাহিরে নীরব কথার কুহু অন্তরে মুহুমুহু বোলে বোলে
			মুহু মুহু কুহু কুহু বোলে।।
তোরি মত ছিনু সই বনের কুরঙ্গী
মানি নাই কোনদিন লাজের ভ্রুভঙ্গি।
মধুরা মুখরা ওলো! মিষ্টি মুখের তোর
সব মধু খেয়েছে কি ঠাকুর জামাই চোর?
তব অভিনব বাণী হিল্লোলে
গুন্ঠন আপনি খোলে পুলকে প্রাণ মন দোলে।।

নাটিকাঃ ‘প্রীতি উপহার’

আমিনা-দুলাল নাচে হালিমার কোলে

বাণী

আমিনা-দুলাল নাচে হালিমার কোলে
তালে তালে সোনার বুকে সোনার তাবিজ দোলে।।
সে কাঁদিলে মুক্তা ঝরে হাসলে ঝরে মানিক
	ঈদের চাঁদে লেগে আছে সেই খুশির খানিক।
তাঁর কচি মুখে খোদার কালাম আধো আধো বলে।।
	দেখেছিল লুকিয়ে সে নাচ কোটি গ্রহতারা
	আসমানে তাই ঘোরে তারা আজো দিশাহারা
সেদিন নেচেছিল বিশ্বভুবন ইয়া মোহাম্মদ ব’লে।।
	কোরানের আয়াতে লেখা সেই নাচেরই ছন্দ
	তকবীরের ধ্বনিতে বাজে তাহারি আনন্দ
আমি থাকলে সেদিন হতাম ধূলি তাঁহার পায়ের তলে।।

প্রিয়ে! বলি ও প্রিয়ে! তুমি দেখ!

বাণী

		প্রিয়ে ... বলি ও-প্রিয়ে ... তুমি দেখ ...।
		[কাঁপা-কন্ঠে আবৃত্তির ঢঙে বলা হয়েছে]

পুরুষ	:	প্রিয়ে! বলি, ও প্রিয়ে! তুমি দেখ!
		দেখ বিরহের দাবানল জ্বলে গোঁফ-দাড়িতে।
স্ত্রী	:	ও-স’রে যা, সে আগুন লেগে যাবে শাড়িতে॥
পুরুষ	:	একে ভীষণ ফাগুন মাস
স্ত্রী	:	ওগো তাই বুছি হাঁসফাঁস ?
পুরুষ	:	কাপাস ফলের মত ফেটে পড়ে হিয়া গো,
স্ত্রী	:	প্রেম-তুলো বের হয়ে পড়ে ছড়াইয়া গো,
উভয়ে:	রব্ ওঠে ভোঁস্-ভাঁস্ হৃদি-রেলগাড়িতে॥
পুরুষ	:	আজি এ বিরহের কাঠ-ঠোক্রা, ঠোক্রায় প্রেমের টাকে,
স্ত্রী	:	ওগো এ হেন বেয়াধি হলে টাকে, মধ্যম-নারায়ণ তেল মাখে।
পুরুষ	:	হায়-হায়-হায়-হায়-হায়
		আমাদের মাঝে কে রচিবে মিলনের সাঁকো।
স্ত্রী	:	থাক্ থাক্, পুরুতঠাকুর ইঞ্জিনিয়ার
		তারে তাড়াতাড়ি ডাকো, ডাকো, একবার ডাকো না ?
উভয়ে:	আগুন লাগিল ওরে দাড়ি আর শাড়িতে
		যুগল মিলন হ’ল ধেড়ে আর ধাড়িতে॥

কে দুয়ারে এলে মোর তরুণ ভিখারি

বাণী

কে দুয়ারে এলে মোর তরুণ ভিখারি
কি যাচে ও আঁখি বুঝিতে যে নারি॥
হৃদি প্রাণ মন বিভব রতন
ডারিনু চরণে লহ পথচারী॥
দুয়ারে মোর নিতি গেয়ে যায় যে গীতি
নিশিদিন বুকে বেঁধে তারি স্মুতি।
কি দিয়ে এ ব্যথা নিবারিতে পারি॥
মিলন বিরহ যা চাও প্রিয় লহ
দাও ভিখারিনী বেশ দাও ব্যথা অসহ
মোর নয়নে দাও তব নয়ন বারি॥

নাটকঃ ‘আলেয়া’

প্রভু তোমাতে যে করে প্রাণ নিবেদন

বাণী

প্রভু	তোমাতে যে করে প্রাণ নিবেদন ভয় নাহি আর তার
	শত সে বিপদে আপদে তাহার হাত ধরে কর পার॥
		তার দুঃখে শোকে ভাবনায় ভয়ে
		তব নাম রাজে সান্ত্বনা হয়ে
	পার হয়ে যায় তব নাম লয়ে দুস্তর পারাবার॥
	ঝড় ঝঞ্ঝায় প্রাণ শিখা তার শান্ত অচঞ্চল
	টলমল করে রূপে রসে তার জীবনের শতদল।
		যেমন পরম র্ভিরতায়
		শিশু তার মার বক্ষে ঘুমায়
	তোমারে যে পায় সে জন তেমনি ডরে নাহি সংসার॥

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল

বাণী

কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন, কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন, প্রেমের লহর তোল
	রে মন মায়ার বন্ধন খোল।।
নিরালা হৃদয়-যমুনাতে কে বাজায় বাঁশি আধেক রাতে
তুই কুল ভুলে চল তাহারি সাথে প্রেম-আনন্দে দোল।
	ও তুই প্রেম-আনন্দে দোল।।
সে গোলক হাতে ভালবাসে গোকুল বৃন্দাবন
মধুর প্রেমের-ভিখারি সে মদন মোহন।
প্রেম দিয়ে যে বাঁধতে পারে, সাধ কবে তার কাছে হারে
মুনি-ঋষি পায় না তারে গোপীরা পায় কোল।
	ও তার গোপীরা পায় কোল।।