ঝর ঝর ঝরে শাওন ধারা

বাণী

ঝর ঝর ঝরে শাওন ধারা।
ভবনে এলো মোর কে পথহারা।।
বিরহ রজনী একেলা যাপি
সঘনে বহে ঝড় সভয়ে কাঁপি,
উথলি’ উঠে ঢেউ কুটীরে নাহি কেউ —
গগনে নাহি মোর চন্দ্রতারা।।
নিভেছে গৃহদীপ নয়নে বারি,
আঁধারে তব মুখ নাহি নেহারি।
তোমার আকুল কুন্তল বাসে
চেনা দিনের স্মৃতি স্মরণে আসে,
আজি কি এলে মোর প্রলয়-সুন্দর —
	ঝলকে বিদ্যুতে আঁখি-ইশারা।।

আমি কৃষ্ণচূড়া হতাম যদি

বাণী

আমি		কৃষ্ণচূড়া হতাম যদি হতাম ময়ূর-পাখা, (সখা হে)!
তোমার		বাঁকা চূড়ায় শোভা পেতাম ওগো শ্যামল বাঁকা।।
		আমি হলে গোপীচন্দন, শ্যাম, অলকা-তিলকা হতাম;
		শ্যাম, ও-চাঁদমুখে অলকা-তিলকা হতাম।
		শ্রীঅঙ্গের পরশ পেতাম হ’লে কদম-শাখা।।
		আমি বৃন্দাবনে বন-কুসুম হতাম যদি কালা,
		কণ্ঠ ধ’রে ঝ’রে যেতাম হয়ে বনমালা।
			আমি নূপুর যদি হতাম হরি
			কাঁদতাম শ্রীচরণ ধরি’
		ব্রজবুলি হলে রেইত বুকে চরণ-চিহ্ন আঁকা।।

নবীন বসন্ত যে যায় যায় যায়

বাণী

	নবীন বসন্ত যে যায় যায় যায় রে।
	ফুলদল অবিরল, ঝ’রে পড়ে পায়,
		তার ঝ’রে পড়ে পায় রে।।
	আছে এখনো বেলা এখনো আছে ফুলের মেলা
	আয় নেচে গেয়ে খেলিয়া যাই ভুলের খেলা,
	আপন প্রেমে আপনি যে জন করিল হেলা।
	সেই উদাসী পানে ধায় কেন মন —
হায়, 	কেন প্রাণ তারে চায় চ’লে যায় যায় রে।।

নাটক : ‘সর্বহারা’

তোমার নাম নিয়ে খোদা আমি যে কাজ করি

বাণী

		তোমার নাম নিয়ে খোদা আমি যে কাজ করি।
		আমার তা’তে নাই লাজ ভয় মরি কিম্বা তরি।।
		আমার ভালো মন্দ তুমি খোদা জানো,
(তাই)	দুখের শমন দিয়ে এমন বুকের কাছে টানো, (খোদা)
(আমি)	দুঃখ দেখে তোমার থেকে না যেন যাই সরি’।।
		সুখ-দুঃখ যশ নিন্দা মান ও অপমান
		আমার ব’লে নাইতো কিছু সবই তোমার দান,
(যত)		বাইরে আঘাত আসে তত তোমায় যেন ধরি।।
(এই)		ফেরেববাজীর দনিয়া ভরা কেবল মায়া ফাঁকি
(তাই)	তোমার নামের বাতি জ্বেলে বুকের কাছে রাখি,
		ঐ নামের আঁচের আমি যেন মোমের মত ঝরি।
খোদা		তোমার প্রেমে গ’লে যেন মোমের মত ঝরি।।

যাদের তরে এ সংসারে খাটনু জনম ভর

বাণী

যাদের তরে এ সংসারে খাটনু জনম ভর,
তাদের কেউ হবে না হে নাথ মরণ-সাথি মোর।।
	শত পাপ শত অধর্ম ক’রে
বিভব রতন আনলেম ঘরে
সে সকল ভাগ বাটোয়ারা ক’রে খাবে পাঁচ ভুত চোর।।
জীবনে তোমার লই নাই নাম তোমাতে হয় নাই মতি
মরণ-বেলায় তাই কাঁদি প্রভু কি হবে মোর গতি।
	চেয়ে দেখি আজ  যাবার বেলায়
	কর্ম কেবল মোর সাথে যায়
তরিবার আর না দেখি উপায় বিনা পদতরী তোর।।

ফাগুন-রাতের ফুলের নেশায় আগুন জ্বালায়

বাণী

ফাগুন-রাতের ফুলের নেশায় আগুন জ্বালায় জ্বলিতে আসে।
যে-দীপশিখায় পুড়িয়া মরে পতঙ্গ ঘোরে তাহারি পাশে।।
অথই দুখের পাথার-জলে, সুখের রাঙা কমল দোলে
কূলের পথিক হারায় দিশা দিবস নিশা তাহারি বাসে।।
সুখের আশায় মেশায় ওরা বুকের সুধায় চোখের সলিল
মণির মোহে জীবন-দহে বিষের ফণির গরল-শ্বাসে।
বুকের পিয়ায় পেয়ে হিয়ায় কাঁদে পথের পিয়া লাগি’
নিতুই নূতন স্বর্গ মাগি’ নিতুই নয়ন জলে ভাসে।।