গোধূলির শুভ লগন এনে

বাণী

গোধূলির শুভ লগন এনে সে কেন বিদায়ের বাঁশি বাজায়।
ওর মিলনের মালা ভালো লাগে না বুঝি গো, ও-শুধু বিরহের অশ্রু চায়।।
	কে জানিত ও-বিরহ-বিলাসী
	সকালের ফুল চায়, সন্ধ্যায় উদাসী,
দিনে যে ধরা দেয় দীনের মতন রাতে সে শূন্যে কেন মিশে যায়।।
	ঘরে এনে কেন ভোলাতে চায় ঘর
	আত্মা জড়ায়ে কাঁদে, আত্মীয়ে করে পর,
প্রেম-কৃপা-ঘন সে নাকি সুন্দর — কেন তবে অসহ দুঃখ দিয়ে কাঁদায়।।

মোমের পুতুল মমীর দেশের মেয়ে নেচে যায়

বাণী

মোমের পুতুল মমীর দেশের মেয়ে নেচে যায়।
	বিহবল–চঞ্চল–পায়।।
	খর্জুর–বীথির ধারে
	সাহারা মরুর পারে
বাজায় ঘুমুর ঝুমুর ঝুমুর মধুর ঝঙ্কারে।
	উড়িয়ে ওড়না ‘লু’ হাওয়ায়
	পরী–নটিনী নেচে যায়
	দুলে দুলে দূরে সুদূর।।
সুর্মা–পরা আঁখি হানে আস্‌মানে,
জ্যোৎস্না আসে নীল আকাশে তার টানে।
	ঢেউ তুলে নীল দরিয়ায়
	দিল–দরদী নেচে যায়
	দুলে দুলে দূরে সুদূর।।

মা তোর কালো রূপের মাঝে

বাণী

	মা তোর কালো রূপের মাঝে রসের সাগর লুকিয়ে আছে,
তোর	কৃষ্ণ জ্যোতির আড়াল টেনে মোর প্রেমময় কৃষ্ণ নাচে।।
			(নাচে, নাচে, নাচে গো)
আমি	যাঁহার পরম তৃষ্ণা লয়ে কাঁদি (মা),
ওমা	কৃষ্ণা কেন রাখলি তারে বাঁধি,
ওমা	যোগমায়া সে যে বাজায় বাঁশি তোরই রূপের কদম গাছে।।
	আমার অভয় সুন্দরেরে কেন ভয়ের আবরণে
	রাখলি ঢেকে মাগো, আমি কাঁদব কত এই বিরহের বৃন্দাবনে।
ওমা	তোর শক্তি যমুনারি তীরে
	নাম লয়ে মোর শ্যাম যে কেঁদে ফিরে।
তুই	কোলে করে মেয়েরে তোর নিয়ে যা তাঁর পায়ের কাছে।।

দু’হাতে ফুল ছড়ায়ে

বাণী

দু’হাতে ফুল ছড়ায়ে মন রাঙায়ে ধরায় আসি।
প্রথম যৌবনেরই ঘুম ভাঙাতে বাজাই বাঁশি।।
আমি কই, দেখরে চেয়ে, নেইরে জরা
আজিও চির নূতন — সেই পুরাতন বসুন্ধরা,
মাধবী চাঁদের চোখে আঁকা আজো বাঁকা হাসি।।
ফুটাই আশার কোলে শুকনো ডালে
অবসাদ আসে যবে সাধ ফুরালে,
আমি কই, এই ত’ সুরাপাত্র-পুরা রস-পিয়াসী।।

নাটক : ‘হরপার্বতী’ (কন্দর্পের গান)

হাওয়াতে নেচে’ নেচে' যায় ঐ তটিনী

বাণী

হাওয়াতে নেচে’ নেচে’ যায় ঐ তটিনী।
পাহাড়ের পথ-ভোলা কিশোরী নটিনী।।
		তরঙ্গ আঁচল দুলায়ে
		বনভূমির মন ভুলায়ে,
চলেছে চপল পায়ে একাকিনী উদাসিনী।।
এঁকে বেঁকে থম্‌কে গিয়ে,
হরিণীরে চম্‌কে দিয়ে।
ছুটিয়া যায় সুদূরে
আয় আয় বলি, ডাকে কে কুলের বধূরে,
নেচে চলে পথ বেভুল ঘর-ছাড়া বিবাগিনী।।

আজি গানে গানে ঢাক্‌ব আমার

বাণী

আজি		গানে গানে ঢাক্‌ব আমার গভীর অভিমান।
		কাঁটার ঘায়ে কুসুম ক’রে ফোটাব মোর প্রাণ।।
			ভুলতে তোমার অবহেলা
			গান গেয়ে মোর কাট্‌বে বেলা,
		আঘাত যত হান্‌বে বীণায় উঠ্‌বে তত তান।।
			ছিড়লে যে ফুল মনের ভুলে
			আমি গাঁথব মালা সেই ফুলে,
(ওগো)		আস্‌বে যখন বন্ধু তোমার কর্‌ব তা’রে দান।।
(আজি)		কথায় কথায় মিলায়ে মিল
		কবি রে, তোর ভরল কি দিল্‌,
তোর		শূন্য হিয়া, শূন্য নিখিল মিল পেল না প্রাণ।।