তুমি কি আসিবে না

বাণী

তুমি কি আসিবে না
বলেছিলে তুমি আসিবে আবার ফুটিবে যবে হেনা।।
	সেদিন ঘুমায়ে ছিল যে মূকুল
	আজি সে পূর্ণ বিকশিত ফুল
সেদিনের ভীরু অচেনা হৃদয় আজি হতে চায় চেনা।।
ঘন পল্লব গুণ্ঠন ঢাকা ছিল সেদিন যে লতা
আজিকে পুষ্প নিবেদন ল’য়ে কহিতে চায় যে কথা।
	প্রদীপ জ্বালায়ে আজি সন্ধ্যায়
	পথ চেয়ে আছি তোমারি আশায়
পূর্ণিমা-তিথি আসিল, হে চাঁদ-অতিথি আসিলে না।।

আমি যার নূপুরের ছন্দ

বাণী

আমি যার নূপুরের ছন্দ বেণুকার সুর - 
কে সেই সুন্দর কে! 
আমি যার বিলাস-যমুনা বিরহ-বিধুর 
কে সেই সুন্দর কে।। 
যাহার গানের আমি বনমালা 
আমি যার কথার কুসুম-ডালা, 
না-দেখা সুদূর - 
কে সেই সুন্দর কে।। 
যার শিখী-পাখা লেখনী হয়ে 
গোপনে মোরে কবিতা লেখায় 
সে রহে কোথায় হায়! 
আমি যার বরষার আনন্দ-কেকা 
নৃত্যের সঙ্গিনী দামিনী-রেখা, 
যে মম অঙ্গে কাঁকন-কেয়ূর 
কে সেই সুন্দর কে।। 

পরদেশী মেঘ যাও রে ফিরে

বাণী

	পরদেশী মেঘ যাও রে ফিরে।
	বলিও আমার পরদেশী রে।।
	সে দেশে যবে বাদল ঝরে
	কাঁদে নাকি প্রাণ একেলা ঘরে,
বিরহ-ব্যথা নাহি কি সেথা বাজে না বাঁশি নদীর তীরে।।
বাদল-রাতে ডাকিলে ‘পিয়া পিয়া পাপিয়া’,
বেদনায় ভ’রে ওঠে নাকি রে কাহারো হিয়া।
	ফোটে যবে ফুল, ওঠে যবে চাঁদ
	জাগে না সেথা কি প্রাণে কোন সাধ,
দেয় না কেহ গুরু গঞ্জনা সে দেশে বুঝি কুলবতী রে।।

চল জয়যাত্রায় চল

বাণী

চল জয়যাত্রায় চল বাসন্তী-বাহিনী
চল রচিতে বুকে বুকে নব প্রেম-কাহিনী।।
যথা উদাসীন পুরুষ তপস্যা-মগ্ন
জাগো সেথা সুরত রতি অতি লগ্ন —
যার বাসনা ফুরায় মনে — চলো তার তপোবনে
		চল কামনার কামিনী।।

নাটক : ‘হরপার্বতী’

রুম ঝুম রুম ঝুম কে বাজায়

বাণী

রুম্ ঝুম্ রুম ঝুম্ কে বাজায় জল-ঝুম্‌ঝুমি।
চমকিয়া জাগে ঘুমন্ত বনভূমি ॥
		দুরন্ত অরণ্যা গিরি- নির্ঝরিণী
		রঙ্গে সঙ্গে ল’য়ে বনের হরিণী,
শাখায় শাখায় ঘুম ভাঙায় ভীরু মুকুলের কপোল চুমি’ ॥
কুহু-কুহু কুহরে পাহাড়ি কুহু পিয়াল-ডালে,
পল্লব-বীণা বাজায় ঝিরিঝিরি সমীরণ তা’রি তালে তালে।
		সেই জল-ছলছল সুরে জাগিয়া
		সাড়া দেয় বন-পারে বাঁশি রাখালিয়া’,
পল্লীর প্রান্তর ওঠে শিহরি’ বলে —  ‘চঞ্চলা কে গো তুমি’ ॥

১. ‘বউ কথা কও কোকিল পাপিয়া’ পঙক্তিটি অতিরিক্ত আছে।

পরম পুরুষ সিদ্ধ যোগী মাতৃভক্ত যুগাবতার

বাণী

পরম পুরুষ সিদ্ধ যোগী মাতৃভক্ত যুগাবতার,
পরমহংস শ্রীরামকৃষ্ণ লহ প্রণাম নমস্কার।
	জাগালে ভারত শ্মশান তীরে
	অশিব-নাশিনী মহাকালীরে
মাতৃনামের অমৃত-নীরে বাঁচালে মৃত ভারত আবার।।
সত্যযুগের পুণ্য স্মৃতি আনিলে কলিতে তুমি তাপস,
পাঠালে ধরার দেশে দেশে ঋষি পূর্ণতীর্থ-বারি-কলস।
	মন্দিরে মসজিদে গির্জায়
	পূজিলে ব্রহ্মে সমশ্রদ্ধায়,
তব নাম মাখা প্রেম-নিতেকনে ভরিয়াছে তাই ত্রিসংসার।।