গগনে খেলায় সাপ বরষা-বেদিনী

বাণী

	গগনে খেলায় সাপ বরষা-বেদিনী।
	দূরে দাঁড়ায়ে দেখে ভয়-ভীতা মেদিনী।।
	দেখায় মেঘের ঝাপি তুলিয়া
	ফনা তুলি’ বিদ্যুৎ-ফণি ওঠে দুলিয়া,
	ঝড়ের তুব্‌ড়িতে বাজে তার অশান্ত রাগিণী।।
	মহাসাগরে লুটায় তার সর্পিল অঞ্চল
	দিগন্তে দুলে তার এলোকেশ পিঙ্গল
	ছিটায় মন্ত্রপূত ধারাজল অবিরল তন্বী-মোহিনী।।
	অশনি-ডমরু ওঠে দমকি’
	পাতালে বাসুকি ওঠে চমকি’
তার 	ডাক শুনে ছুটে আসে নদীজল যেন পাহাড়িয়া নাগিনী।।

পাকা ধানের গন্ধ-বিধুর

বাণী

পাকা ধানের গন্ধ-বিধুর হেমন্তের এই দিন-শেষে,
সুরের দুলাল, আসলে ফিরে দিগ্‌বিজয়ীর বর-বেশে।
আজো মালা হয়নি গাঁথা হয়নি আজো গান রচন,
কুহেলিকার পর্দা-ঢাকা আজো ফুলের সিংহাসন।
অলস বেলায় হেলাফেলায় ঝিমায় রূপের রংমহল,
হয়নি ক’ সাজ রূপ-কুমারীর, নিদ্ টুটেছে এই কেবল।
আয়োজনের অনেক বাকি - শুন্‌নু হঠাৎ খোশ্‌খবর,
ওরে অলস, রাখ্ আয়োজন, সুর-শা’জাদা আস্‌ল ঘর।
ওঠ্ রে সাকি থাক্ না বাকি ভরতে রে তোর লাল গেলাস,
শূন্য গেলাস ভরব - দিয়ে চোখের পানি মুখের হাস।
দম্ভ ভরে আস্‌লো না যে ধ্বজায় বেঁধে ঝড়-তুফান,
যাহার আসার খবর শুনে গর্জাল না তোপ-কামান।
কুসুম দলি’ উড়িয়ে ধূলি আস্‌লো না যে রাজপথে,
আয়োজনের আড়াল তারে করব গো আজ কোন্ মতে।
সে এলো গো যে-পথ দিয়ে স্বর্গে বহে সুর্‌ধুনী,
যে পথ দিয়ে ফেরে ধেনু মাঠের বেণুর রব শুনি’।
যেমন সহজ পথ দিয়ে গো ফসল আসে আঙ্গিনায়,
যেমন বিনা সমারোহে সাঁঝের পাখি যায় কুলায়।
সে এলো যে আমন-ধানের নবান্ন উৎসব-দিনে,
হিমেল হাওয়ায় অঘ্রাণের এই সুঘ্রাণেরি পথ চিনে।
আনে নি সে হরণ ক’রে রত্ন-মানিক সাত-রাজার,
সে এনেছে রূপকুমারীর আঁখির প্রসা কণ্ঠহার।
সুরের সেতু বাঁধ্ল সে গো, উর্দ্ধে তাহার শুনি স্তব,
আস্‌ছে ভারত-তীর্থ লাগি’ শ্বেত-দ্বীপের ময়-দানব।
পশ্চিমে আজ ডঙ্কা বাজে পুবের দেশের বন্দীদের,
বীণার গানে আমরা জয়ী, লাজ মুছেছি অদৃষ্টের।
কণ্ঠ তোমার যাদু জানে, বন্ধু ওগো দোসর মোর!
আস্‌লে ভেসে গানের ভেলায় বৃন্দাবনের বংশী-চোর।
তোমার গলার বিজয়-মালা বন্ধু একা নয় তোমার,
ঐ মালাতে রইল গাঁথা মোদের সবার পুরস্কার।
কখন আঁখির আগোচরে বস্‌লে জুড়ে হৃদয়-মন,
সেই হৃদয়ের লহ প্রীতি, সজল আঁখির জল্-লিখন।

‘সুরের দুলাল’

শেষ হ’ল মোর এ জীবনে

বাণী

শেষ হ’ল মোর এ জীবনে ফুল ফোটাবার পালা।
ওগো মরণ, অর্ঘ্য লহ সেই কুসুমের ডালা।।
	কাটলো কীটে ঝরলো যে-ফুল
	শুকালো যে আশার মুকুল,
তাই দিয়ে হে মরণ তোমার গেঁথেছি আজ মালা।।
সুন্দর এই ধরণীতে কতই ছিল সাধ বাঁচিতে,
হঠাৎ তোমার বাজলো বেণু বিদায়-করুণ ভৈরবীতে।
	তোমার আঁধার-শান্ত কোলে
	শ্রান্ত তনু পড়ুক ঢ’লে,
আর সহে না কুসুম-বিহীন কন্টকের জ্বালা।।

চাঁদের নেশা লেগে ঢুলে নিশীথিনী

বাণী

চাঁদের নেশা লেগে ঢুলে নিশীথিনী।
মদির হাওয়ার তালে নাচন লাগে ডালে ডালে —
ঝিল্লি নূপুর পরি’ পায় নাচে কানন বিহারিণী।।
নেশার ঘোর লাগে বনে পাপিয়া জাগে
‘চোখ গেল চোখ গেল’ গেয়ে ওঠে গুল-বাগে,
একেলা বাতায়নে হায় জাগে বিরহিণী।।
মহুয়া বকুল ফুলে মদির সুবাস ঘনায়,
চাঁদের ওই মুখ মদের ছিটে লাগে কনক চাঁপায়।
শান্ত হৃদয় মম দুলিছে সাগর সম,
এমন রাতে সে কোথায় আমি যার অনুরাগিণী।।

বাজিছে দামামা বাঁধ রে আমামা

বাণী

বাজিছে দামামা, বাঁধ রে আমামা শির উঁচু করি মুসলমান।
দাওয়াত এসেছে নয়া জামানার ভাঙা কিল্লায় ওড়ে নিশান।।
	মুখেতে কল্‌মা হাতে তলোয়ার
	বুকে ইসলামী জোশ্ দুর্বার,
	হৃদয়ে লইয়া এশ্‌ক্‌ আল্লার —
	চল্ আগে চল বাজে বিষাণ।
ভয় নাই তোর গলায় তাবিজ বাঁধা যে রে তোর পাক কোরান।।
	নহি মোরা জীব ভোগ বিলাসের
	শাহাদত ছিল কাম্য মোদের,
	ভিখারির সাজে খলিফা যাদের —
				শাসন করিল আধা জাহান।
তা’রা আজ প’ড়ে ঘুমায় বেহোঁশ্ বাহিরে বহিছে ঝড় তুফান।।
	ঘুমাইয়া কাজা করেছি ফজর
	তখনো জাগিনি যখন জোহর,
	হেলা ও খেলায় কেটেছে আসর —
				মাগরিবের আজ শুনি আজান।
জমাত-শামিল হও রে এশাতে এখনো জামাতে আছে স্থান।।
	শুকনো রুটিরে সম্বল ক’রে
	যে ঈমান আর যে প্রাণের জোরে,
	ফিরেছি জগৎ মন্থন ক’রে —
				সে-শক্তি আজ ফিরিয়ে আন।
আল্লাহু আকবর রবে পুন কাঁপুক বিশ্ব দূর বিমান।।

জাগো বিরাট ভৈরব যোগ সমাধি মগ্ন

বাণী

জাগো বিরাট ভৈরব যোগ সমাধি মগ্ন।
ভুবনে আনো নব দিনের শুভ প্রভাত লগ্ন।।
	অনন্ত শয্যা ছাড়ি’ অলখ লোকে
	এসো জ্যোতির পথে,
দেব-লোকের তিমির-কারা-প্রাচীর কর ভগ্ন।।
ভয়হীন, দ্বিধাহীন উদার আনন্দে,
তোমার আবির্ভাব হোক প্রবল ছন্দে।
হোক মানব স্বপ্রাকশ আপন স্বরূপে
বিরাট রূপে, সফল কর আমার সোহং স্বপ্ন।।

সঙ্গীতালেখ্য : ‘ষট ভৈরব’