স্বপন-বিলাসে চাঁদ যবে হাসে

বাণী

স্বপন-বিলাসে চাঁদ যবে হাসে কুমুদ ফোটে দীঘিতে।
সেই আধো রাতে নয়ন-পাতে ঘুম হ’য়ে এসো নিভৃতে।।
	আমার তন্দ্রার মাঝে
	যেন তব বাঁশরি বাজে,
মম দেহ-বীণায় ঝঙ্কার তুলিও গভীর করুণ গীতে।।
যে বিফল-মালা শুকায় নিরালা বাতায়ন লগ্না
পরশ ক’রো এসে রহিব যবে আমি ঘুম-নিমগ্না।
	শিশিরের মানিক দুলে
	যখন হেনার মুকুলে,
হে সুদূর পথিক! এসো ভু’লে নীরব সেই নিশীথে।।

ভোরের তরুণ অরুণে আর পূর্ণিমার চাঁদে

বাণী

		ভোরের তরুণ অরুণে আর পূর্ণিমার চাঁদে।
		পাশাপাশি শুয়ে লো দেখ এক শয্যায় কাঁদে।।
		রাজার কুমার গড়া যেন ভোরের আলো দিয়ে
		রাজকন্যার সৃষ্টি যেন পদ্ম পাঁপড়ি নিয়ে,
(আমি)	দেখি সুন্দর বিধাতারে এ দুই রূপের ফাঁদে।।

নাটক : ‘মধুমালা’

বিদ্রোহী (দ্বিতীয় খন্ড)

বাণী

আমি	বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বী-নয়নে বহ্ণি,
আমি	ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি!
আমি	উন্মন মন উদাসীর,
আমি	বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি	বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত পথিকের,
আমি	অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয়-লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের!
আমি	অভিমানী চির-ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়,
	চিত-চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম পরশ কুমারীর!
আমি	গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল-ক’রে দেখা অনুখন,
আমি	চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা’র কাঁকন-চুড়ির কন-কন!
আমি	চির-শিশু, চির-কিশোর,
আমি	যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচড় কাঁচলি নিচোর!
আমি	উত্তর-বায়ু, মলয়-অনিল, উদাস পূরবী হাওয়া,
আমি	পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গাওয়া।
আমি	আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি,
আমি	মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি!
আমি	তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, এ কি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!
আমি	সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!
আমি	অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
	মহা-সিন্ধু উতলা ঘুমঘুম
	ঘুম্‌ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্‌ঝুম
	মম বাঁশরীর তানে পাশরি’।
আমি	শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি	পরশুরামের কঠোর কুঠার,
	নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
	মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি	সেই দিন হব শান্ত,
যবে	উত্‍পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না —
	অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না —
	বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি	সেই দিন হব শান্ত।
আমি	বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি	স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি	বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি	খেয়ালী-বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি	চির-বিদ্রোহী বীর —
	বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!
	শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল	বীর -
	বল উন্নত মম শির!
বল	বীর, বল বীর।

তুই কে ছিলি তাই বল

বাণী

তুই কে ছিলি তাই বল?
কোন কাননের পুষ্পরানী কোন সরসীর জল।।
তুই কি ছিলি কবিতা আর আমি চরণ তা'রি
তুই কি ছিলি পিয়াসি শুক আমি আতুর সারী
তুই কি দুঃখী দুয়োরানী আমি চোখের জল।।
	কোন বরষার সিক্ত প্রাতে
	কোন শরতের জোছনা রাতে
কোন জগতের অরুণ ঊষার প্রথম দেখা বল।।
নতুন মোদের নতুন ক'রে পরিচয়ের পালা
কন্ঠে মোদের মিলন-বাণী হাতে মিলন-মালা
মোরা এক বিরহীর দু'টি চোখের ঝরা দু'টি মুক্তাফল।।

জ্যোতির্ময়ী মা এসেছে আঁধার আঙিনায়

বাণী

জ্যোতির্ময়ী মা এসেছে আঁধার আঙিনায়।
ভুবনবাসী ছেলেমেয়ে আয় রে ছুটে আয়॥
আনন্দ আজ লুট হতেছে কে কুড়াবি আয়,
আনন্দিনী দশভূজা দশ হাতে ছড়ায়,
মা অভয় দিতে এলো ভয়ের অসুর’ দ’লে পায়॥
বুকের মাঝে টইটম্বুর ভরা নদীর জল,
ওরে দুলছে টলমল, ওরে করছে ঝলমল।
ঝিলের জলে ফুটল কত রঙের শতদল
	ছুঁতে মায়ের পদতল।
দেব সেনারা বাইচ্ খেলে রে আকাশ গাঙের স্রোতে,
সেই আনন্দে যোগ দিবি কে? আয় রে বাহির পথে,
আর দেব না যেতে মাকে রাখব ধ’রে পায়
মাতৃহারা মা পেলে কি ছাড়তে কভু চায়॥

ফুল-কিশোরী জাগো জাগো

বাণী

ফুল-কিশোরী! জাগো জাগো, নিশি হ’ল ভোর।
দুয়ারে দখিন-হাওয়া — খোলো খোলো পল্লব-দোর।।
	জাগাইয়া ধীরে ধীরে
	যৌবন তনু-তীরে,
		চ’লে যাবে উদাসী কিশোর।।
	চিনি গো দেবতা চিনি
	ও নূপুর-রিনিঝিনি,
ভেঙো না ভেঙো না ঘুম-ঘোর,
মধু মাসে আসে সে যে ফুলবাস-চোর।
প্রভাতে ফুটায়ে আঁখি নিশীথে বহাবে আঁখি-লোর।।

নাটক : ‘আলেয়া’

১. চিনি ও-নিঠুরে চিনি পায়ে দ’লে মন জিনি’