নয়নে ঘনাও মেঘ মালবিকা

বাণী

নয়নে ঘনাও মেঘ, মালবিকা!
গগনে জাগাও তব নীরদ-লিখা।।
বিদ্যুৎ হানে যদি গরজায় বাজ
সুন্দর মৃত্যুরে নাহি ভয় আজ,
আমার এ বনে এসো মনোবালিকা।।
ঝরুক এ শিরে মোর ঘন বরষা
ফুটিবে কাননে ফুল আছে ভরসা,
এসো জল-ছল-ছল পথে অভিসারিকা।।

ভোলো প্রিয় ভোলো ভোলো আমার স্মৃতি

বাণী

	ভোলো প্রিয় ভোলো ভোলো আমার স্মৃতি।
	তোরণ-দ্বারে বাজে করুণ বিদায়-গীতি।।
তুমি	ভুল ক’রে এসেছিলে ভুলে ভালবেসেছিলে,
	ভুলের খেলা ভুলের মেলা তাই প্রিয় ভেঙে দিলে।
	ঝরা ফুলে হের ঝুরে কানন-বীথি।।
	তব সুখ-দিনে তব হাসির মাঝে অশ্রু মম
	রবির দাহে শিশির সম শুকাইবে প্রিয়তম,
	হাসিবে তব নিশীথে নব চাঁদের তিথি।।
	ফোটে ফুল যায় ঝ’রে গহন বনে অনাদরে
	গোপনে মোর প্রেম-কুসুম তেমনি গেল গো মরে,
	আমার তরে কাঁটার ব্যথা কাঁদুক নিতি।।

ওকি ঈদের চাঁদ গো

বাণী

	ওকি ঈদের চাঁদ গো! চলে মদিনারই পথে গো!
যেন	হাসিন্ য়ুসোফ্ ফিরে এলো ফিরদৌস হতে গো।।
	যাহারা তার রূপ দেখে তারা ঝুরিছে আস্‌মানে
	গুল্ ভুলে তাই বুল্‌বুলি চেয়ে আছে গুলিস্তানে।
	বুঝি বেহেশ্‌তেরই বাদশাজাদা এলো সোনার রথে গো।।
	সাদা কবুতরের মত চরণ দুটি ছুঁয়ে,
	গোলাপ চাঁপা উঠছে ফুটে ধূলিমাখা ভুঁয়ে গো।
সেই	চাঁদের মুখে জোছনা সম খোদার কালাম ঝরে
তা’র	রূপ দেখে, তা’র গুণ শুনে মোর মন রহে না ঘরে লো,
আমি	উন্মাদিনী সেই মাদানী নবীর মোহব্বতে গো।।

কা’বার জিয়ারতে তুমি কে যাও

বাণী

কা’বার জিয়ারতে তুমি কে যাও মদিনায়।
আমার সালাম পৌঁছে দিও নবীজীর রওজায়।।
	হাজিদের ঐ যাত্রা-পথে
	দাঁড়িয়ে আছি সকাল হ’তে,
কেঁদে’ বলি, কেউ যদি মোর সালাম নিয়ে যায়।।
পঙ্গু আমি, আরব সাগর লঙ্ঘি কেমন ক’রে,
তাই নিশিদিন কাবা যাওয়ার পথে থাকি প’ড়ে।
	বলি, ওরে দরিয়ার ঢেউ
	মোর সালাম নিয়ে গেল না কেউ,
তুই দিস্ মোর সালামখানি মরুর ‘লু’-হাওয়ায়।।

কেন প্রাণ ওঠে কাঁদিয়া

বাণী

কেন		প্রাণ ওঠে কাঁদিয়া
		কাঁদিয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া গো।
আমি		যত ভুলি ভুলি করি, তত আঁকড়িয়া ধরি
		শ্যামের সে রূপ ভোলা কি যায়, নিখিল শ্যামল যার শোভায়
		আকাশে সাগরে বনে কান্তারে লতায় পাতায় সে রূপ ভায়।
আমার		বঁধুর রূপের ছায়া বুকে ধরি’ আকাশ-আরশি নীল গো
বহে		ভুবন প্লাবিয়া কালারে ভাবিয়া কালো সাগর-সলিল গো। সখি গো —
		যদি ফুল হয়ে ফুটি তরু-শাখে, সে যে পল্লব হয়ে ঘিরে থাকে। সখি গো —
আমি		যেদিকে তাকাই হেরি ও-রূপ কেবল
সে যে		আমারি মাঝারে রহে করি’ নানা ছল
সে যে		বেণী হয়ে দোলে পিঠে চপল চতুর।
সে যে		আঁখির তারায় হাসে কপট নিঠুর।
		তারে কেমনে ভুলিব, সখি কেমনে ভুলিব।
থাকে		কবরী-বন্ধে কালো ডোর হয়ে কাল্‌ফণী কালো কেশে গো
থাকে		কপালের টিপে, চোখের কাজলে কপোলের তিলে মিশে’ গো!
আমার 	এ-কূল ও-কূল দু’কূল গেল।
		কূলে সই পড়িল কালি সেও কালো রূপে এলো।
রাখি		কি দিয়া মন বাঁধিয়া, বাঁধিয়া বাঁধিয়া বাঁধিয়া গো।।

ও ভাই হাজি! কোন্ কাবা ঘর

বাণী

ও ভাই হাজি! কোন্ কাবা ঘর হজ করিয়া এলে।
গিয়ে কি ভাই খোদায় পাওয়ার পথের দিশা পেলে।।
খোদার ঘরের দিদার পেয়ে বল কেমন ক’রে
ফিরে এলে দুনিয়াদারীর এই না-পাক ঘরে,
কেউ বলেছে কি কোন্ কাবাতে গেলে খোদায় মেলে।।
খেলেছিলেন নবীজী যে-মক্কা মদিনায়
বেহোঁশ হয়ে পড়নি কি পৌঁছিয়া সেথায়,
কেমন ক’রে ফিরে এলে সেই মদিনা ফেলে
এই দুনিয়ার কারবালাতে অধিক তৃষা আরো
এনেছ কি আব্হায়াতের পানি? দিতে পারো?
মোর আঁধার ঘরে দিতে পারো নূরের চেরাগ জ্বেলে?