আজি নন্দদুলালের সাথে

বাণী

আজি নন্দদুলালের সাথে
	ঐ খেলে ব্রজনারী হোরি।
কুঙ্কুম-আবির হাতে
	দেখ, খেলে শ্যামল খেলে গোরী।।
থালে রাঙা ফাগ,
নয়নে রাঙা রাগ,
ঝরিছে রাঙা সোহাগ
	রাঙা পিচ্‌কারি ভরি।।
পলাশ শিমুলে ডালিম ফুলে
	রঙনে অশোকে মরি মরি।
ফাগ-আবির ঝরে তরুলতা চরাচরে,
	খেলে কিশোর কিশোরী।।

আঁধার মনের মিনারে মোর

বাণী

আঁধার মনের মিনারে মোর হে মুয়াজ্জিন, দাও আজান
গাফেলতির ঘুম ভেঙে দাও হউক নিশি অবসান।।
	আল্লাহ নামের যে তক্‌বীরে
	ঝর্না বহে পাষাণ চিরে
শুনি’ সে তক্‌বিরের আওয়াজ জাগুক আমার পাষাণ প্রাণ।।
জামাত ভারি জমবে এবার এই দুনিয়ার ঈদগাহে,
মেহেদী হবেন ইমাম সেথায় রাহ্ দেখাবেন গুমরাহে।
	আমি যেন সেই জামাতে
	সামিল হতে পারি প্রাতে
ডাকে আমায় শহীদ হতে সেথায় যতো নওজোয়ান।।

এই দেশ কার তোর নহে আর

বাণী

এই দেশ কার? তোর নহে আর, রে মূঢ় সন্তান! ভারত-মাতার।
দেবতার দেশে আজ দৈত্য করে বিরাজ, মন্দির আজি বন্দীর কারাগার।।
লাজ নাহি তার, যার জননী দাসী
দাসের শিকল প’রে (কেমনে নিলাজ) বেড়াস্ হাসি’?
	অসম্মানের প্রাণ
	ক’রে দে রে অবসান,
মানুষের মত ম’রে বাঁচ রে আবার।।

তোমার মনে ফুট্‌বে যবে প্রথম মুকুল

বাণী

তোমার মনে ফুট্‌বে যবে প্রথম মুকুল
প্রিয় হে প্রিয় আমারে দিও সে প্রেমের ফুল।।
	দীরঘ বরষ মাস তাহারই আশে
	জাগিয়া রব তব দুয়ার পাশে
বহিবে কবে ফুল-ফোটানো দখিনা বাতাস অনুকূল।।
আর কারে দাও যদি আমার সে ধ্যানের কুসুম
ক্ষতি নাই, ওগো প্রিয়, ভাঙুক, এ অকরুণ ঘুম।
	গুঞ্জরি’ গুঞ্জরি’ ভ্রমর সম
	কাঁদিব তোমারে ঘিরি’, প্রিয়তম।
হুতাস বাতাস সম কুসুম ফুটায়ে চলে যাব দূরে বেভুল।।

মোরা ভেসে যাব কৃষ্ণ নামের স্রোতে

বাণী

মোরা ভেসে যাব কৃষ্ণ নামের স্রোতে গো
ঐ নাম ধরে গো, উঠব মোরা ব্রজধামের পথে।।
ঐ নামেরই মন্ত্র গুণে
পথের মানুষ গোঠের বেণু শোনে গো
ভুলের কূলে কূলে খেলে যে সে ওঠে ফুলের রথে।।
ঐ নাম পেল যে, সুমুখে তার শ্যাম গো
দেখা দেবার তরে নিতুই ঘোরে অবিরাম গো।
ঐ কৃষ্ণ নামের টানে
ধীরে ধীরে প্রেম যমুনা আনে।
ঐ নামের গুণে গঙ্গাধারা নামে হিমগিরি হতে।।

তুমি আরেকটি দিন থাকো

বাণী

তুমি		আরেকটি দিন থাকো।
		হে চঞ্চল, যাবার আগে মোর মিনতি রাখো।।
আমি		ভালো ছিলাম ভুলে’ একা
		কেন নিঠুর দিলে দেখা,
তুমি		ঝরা-ফুলে গাঁথ্‌লে মালা গলায় দিলে না কো।।
তোমার	কাজের মাঝে আমায় ভোলা সহজ হবে, স্বামী!
		কেমন ক’রে এক্‌লা ঘরে থাক্‌বো ভুলে আমি।
		নিবু নিবু প্রদীপ আশার
তুমি		জ্বালিয়ে দিলে যদি আবার —
প্রিয়		নিভ্‌তে তারে দিও না আর আদর দিয়ে রাখো।।