ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি

বাণী

ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি’।
ভোল মোর সে অপরাধ, আজি যে লগ্ন গোধূলি।।
এমনি রঙিন বেলায় খেলেছি তোমায় আমায়,
খুঁজিতে এসেছি তাই সেই পুরানো দিনগুলি।।
তুমি যে গেছ ভুলে – ছিল না আমার মনে,
তাই আসিয়াছি তব বেড়া–দেওয়া ফুলবনে।
গেঁথেছি কতই মালা এই বাগানের ফুল তুলি’—
আজও সেথা গাহে গান আমার পোষা বুলবুলি।।

যবে তুলসীতলায় প্রিয় সন্ধ্যাবেলায়

বাণী

যবে		তুলসীতলায় প্রিয় সন্ধ্যাবেলায় তুমি করিবে প্রণাম,
তব		দেবতার নাম নিতে ভুলিয়া বারেক প্রিয় নিও মোর নাম।।
		একদা এমনি এক গোধূলি বেলা
		যেতেছিলে মন্দির-পথে একেলা,
		জানি না কাহার ভুল তোমার পূজার ফুল
				আমি লইলাম —
সেই		দেউলের পথ সেই ফুলেরই শপথ
প্রিয়,		তুমি ভুলিলে হায় আমি ভুলিলাম।।
		পথের দুঁধারে সেই কুসুম ফোটে — হায় এরা ভোলেনি,
		বেঁধেছিলে তরু শাখে লতার যে ডোর হের আজো খোলেনি।
		একদা যে নীল নভে উঠেছিল চাঁদ
ছিল		অসীম আকাশ ভরা অনন্ত সাধ,
আজি		অশ্রু-বাদল সেথা ঝরে অবিরাম।।

রাই বিনোদিনী দোলো ঝুলন দোলায়

বাণী

রাই বিনোদিনী দোলো ঝুলন দোলায়॥
একা লাগে না ভালো
সাথে এসে দোলো শ্যামরায়॥
রাঙা চরণ দেখিতে পাব বলে
ওগো দাঁড়াইয়া এই তরুতলে
শ্যাম বাঁধিয়া বাহু ডোরে
আশ্রয় দাও মোরে একা বড় ভয় পায়॥

চলচ্চিত্রঃ ‘বিদ্যাপতি’

তোমার ডাক শুনেছি নিশীথ রাতের

বাণী

তোমার ডাক শুনেছি নিশীথ রাতের অন্ধকারে।
এবার মোদের চির মিলন ধূলির ধরার পরপারে।।

নাটিকা : ‘লায়লী-মজনু’

যদি শালের বন হ’ত শালার বোন

বাণী

যদি	শালের বন হ’ত শালার বোন,
	ক’নে বউ হ’ত ঐ গৃহেরই কোণ,
ছেড়ে	যেতাম না গো শালার বোন,
আমি	থাকতাম পড়ে সদা, খেতাম না গো, শালার বোনথ —
	বনে হারিয়ে যেতাম,
	শালার বোন ঐ বৃন্দাবনে না হয় চারিয়ে যেতাম —
	দাদা গো, ওগো দাদা —
আর	মাকুন্দ হত যদি কুন্দবালা,
হ’ত	দাড়িম্ব সুন্দরী দাড়িওয়ালা,
আমি	ঝুলে যে পড়তাম দাড়ি ধ’রে তার —
	জয়নাথ তরকনাথ বলে আমি ঝুলে যে পড়তাম দাড়ি ধ’রে,
বাবা	দুগ্‌গা ব’লে আমি ঝুলে যে পড়তাম দাড়ি ধ’রে তার —
	দাদা গো, ওগো দাদা —
আহা	বাচ্চা হইত যদি চৌবাচ্চায়
নিতি	পানকৌড়ি হ’য়ে ডুবে থাকিতাম তায়,
যদি	দামড়ার ল্যাজ হ’ত কুন্তল দাম
	বেণী রূপে ল্যাজ ধ’রে মাঠে দাঁড়াতাম — ঘুরে যে বেড়াতাম, তার
	আমি ল্যাজ ধ’রে ঘুরে যে বেড়াতাম, দাদা গো —
যদি	ভাগ্যগুণে এক মিলিল শালী —
বাবা	বিশাল বপু তার সে যে বিশালী,
ওযে	শালী নয় শালী নয়, শাল্মলী তরু সম
	সে যে বিশালী গো, শাল্মলী তরু সম সে যে বিশালী গো —
আহা	চিম্‌টি শালীর হ’ত বাবলা কাঁটা,
হ’ত	শর-বন তার খ্যাংড়া ঝ্যাঁটা
	খ্যাংড়া মেরে বিষ ঝেড়ে যে দিত গো —

বাজিছে দামামা বাঁধ রে আমামা

বাণী

বাজিছে দামামা, বাঁধ রে আমামা শির উঁচু করি মুসলমান।
দাওয়াত এসেছে নয়া জামানার ভাঙা কিল্লায় ওড়ে নিশান।।
	মুখেতে কল্‌মা হাতে তলোয়ার
	বুকে ইসলামী জোশ্ দুর্বার,
	হৃদয়ে লইয়া এশ্‌ক্‌ আল্লার —
	চল্ আগে চল বাজে বিষাণ।
ভয় নাই তোর গলায় তাবিজ বাঁধা যে রে তোর পাক কোরান।।
	নহি মোরা জীব ভোগ বিলাসের
	শাহাদত ছিল কাম্য মোদের,
	ভিখারির সাজে খলিফা যাদের —
				শাসন করিল আধা জাহান।
তা’রা আজ প’ড়ে ঘুমায় বেহোঁশ্ বাহিরে বহিছে ঝড় তুফান।।
	ঘুমাইয়া কাজা করেছি ফজর
	তখনো জাগিনি যখন জোহর,
	হেলা ও খেলায় কেটেছে আসর —
				মাগরিবের আজ শুনি আজান।
জমাত-শামিল হও রে এশাতে এখনো জামাতে আছে স্থান।।
	শুকনো রুটিরে সম্বল ক’রে
	যে ঈমান আর যে প্রাণের জোরে,
	ফিরেছি জগৎ মন্থন ক’রে —
				সে-শক্তি আজ ফিরিয়ে আন।
আল্লাহু আকবর রবে পুন কাঁপুক বিশ্ব দূর বিমান।।