আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই

বাণী

আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই।
ওই পাহাড়ের ঝর্না আমি, ঘরে নাহি রই গো
				উধাও হ’য়ে বই।।
চিতা বাঘ মিতা আমার গোখ্‌রো খেলার সাথি
সাপের ঝাঁপি বুকে ধ’রে সুখে কাটাই রাতি
ঘূর্ণি হাওয়ার উড়্‌নি ধ’রে নাচি তাথৈ থৈ গো ‘আমি’
				নাচি তাথৈ থৈ।।

চলচ্চিত্র: ‌‘সাপুড়ে’

চির-কিশোর মুরলীধর

বাণী

চির-কিশোর মুরলীধর কুঞ্জবন-চারী।
গোপনারী-মনোহারী বামে রাধা প্যারী।।
শোভে শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম করে,
গোষ্ঠ-বিহারী কভু, কভু দানবারি।।
তমাল-তলে কভু কভু নীপ-বনে,
লুকোচুরী খেল হরি ব্রজ-বধূ সনে।
মধুকৈটভারি কংস-বিনাশন,
কভু কণ্ঠে গীতা, শিখী-পাখা-ধারী।।

মহুয়া বনে আধো নিশিীথ রাতে

বাণী

মহুয়া বনে আধো নিশিীথ রাতে বেণুকা বাজায়ে
	ডাকে গো মোরে কোন বিরহী
সে মানা মানে না, সখি সে কি জানে না
	আমি ভবনের বধূ, বন-বালিকা নহি।।
বন-কেতকী ব’লে তারে চাতকী জানে
তাই কাঁদিয়া মরে চেয়ে মেঘের পানে,
বলে যমুনার জল, ওর ডাক সে যে ছল,
	তাই রোদনের স্রোত হয়ে অকূলে বহি।।

নাটক : ‘মদিনা’

ওরে আজ ভারতের নব যাত্রা পথের

বাণী

ওরে	আজ ভারতের নব যাত্রা পথের
	বাঁশি বাজলো, বাজলো বাঁশি
	ফেলে তরুর ছায়া ভুলে ঘরের মায়া
	এলো তরুণ পথিক ছুটে রাশি রাশি॥
	তারা আকাশকে আজ চাহে লুটে নিতে
	তারা মন্থর ধরায় চাহে দুলিয়ে দিতে
	তারা তরুণ তরুণ প্রাণ জাগায় মৃতে
	সাহস জাগায় চিতে তাদের অট্টহাসি॥
	মোরা প্রাচীরের পরে রে প্রাচীর তুলে
	ভাই হয়ে ভাইকে হায় ছিলাম ভুলে।
	আজ ভেঙে প্রাচীর হল ঘরের বাহির
	একই অঙ্গনে দাঁড়ালো উন্নত শির
	এলো মুক্ত গগন তলে প্রাণ পিয়াসি
	এলো তরুণ পথিক ছুটে রাশি রাশি॥

ঘুমাও ঘুমাও দেখিতে এসেছি

বাণী

ঘুমাও,ঘুমাও,দেখিতে এসেছি ভাঙাতে আসিনি ঘুম
কেউ জেগে কাঁদে,কারো চোখে নামে নিদালির মৌসুম॥
	দেখিতে এলাম হ'য়ে কুতুহলী
	চাঁপা-ফুল দিয়ে তৈরী পুতুলী
দেখি,শয্যায় স্তূপ হ'য়ে আছে জোছনার কুমকুম
আমি নই, ঐ কলঙ্কী চাঁদ নয়নে হেনেছে চুম্ ।।
রাগ করিও না, অনুরাগ হ'তে রাগ আরো ভালো লাগে,
তৃষ্ণাতুরের কেউ জল চায় কেউ বা শিরাজি মাগে।
	মনে কর, আমি লোলুপ বাতাস
	চোর-জোছনা, ফুলের সুবাস
ভয় নাই, আমি চলে যাই ডাকি' নিশীথিনী নিঃঝুম।।

আমার বিদায়-রথের চাকার ধ্বনি

বাণী

আমার বিদায়-রথের চাকার ধ্বনি ঐ গো এবার কানে আসে।
পুবের হাওয়া তাই কেঁদে যায় ঝাউ-এর বনে দীঘল শ্বাসে।।
	ব্যথায়-বিবশ গুলঞ্চ ফুল
	মালঞ্চে আজ তাই শোকাকুল,
মাটির মায়ের কোলের মায়া ওগো আমার প্রাণ উদাসে।।
অঙ্গ আসে অলস হ’য়ে নেতিয়ে-পড়া অলস ঘুমে,
স্বপন-পারের বিদেশিনীর হিম-ছোঁওয়া যায় নয়ন চুমে।
	হাতছানি দেয় অনাগতা
	আকাশ ডোবা বিদায়-ব্যথা,
লুটায় আমার ভুবন ভরি’ বাঁধন-ছেঁড়ার কাঁদন-ত্রাসে।।
মোর বেদনার কর্পূর-বাস ভরপুর আজ দিগ্বলয়ে,
বনের আঁধার লুটিয়ে কাঁদে হরিণটি তার হারার ভয়ে।
	হারিয়ে-যাওয়া মানসী হায়
	নয়ন-জলে শয়ন তিতায়,
ওগো, এ কোন্ যাদুর মায়ায় দু’চোখ আমার জলে ভাসে।।
আজ আকাশ-সীমায় শব্দ শুনি অচিন পায়ের আসা-যাওয়ার,
তাই মনে হয় এই যেন শেষ আমার অনেক দাবিদাওয়ার।
	আজ কেহ নাই পথের সাথি
	সামনে শুধু নিবিড় রাতি,
আমায় দূরের বাঁশি ডাক দিয়েছে, রাখ্‌বে কে আর বাঁধন-পাশে।।