নাম-হারা ঐ গাঙের পারে বনের-কিনারে

বাণী

নাম-হারা ঐ গাঙের পারে বনের-কিনারে
বেতস-বেণুর বনে কে ঐ বাজায় বীণা রে।।
	লতায় পাতায় সুনীল রাগে
	সে-সুর সোহাগ-পুলক লাগে,
সে সুর ঘুমায় দিগঙ্গনার শয়ন-লীলা রে।
আমি কাঁদি, এ সুর আমার চির-চেনা রে।।
ফাগুন মাঠে শিস দিয়ে যায় উদাসী তার সুর,
শিউরে ওঠে আমের মুকুল ব্যথায় ভারাতুর।
	সে সুর কাঁপে উতল হাওয়ায়,
	কিশলয়ের কচি চাওয়ায়,
সে	চায় ইশারায় অস্তাচলের প্রাসাদ-মিনারে।
	আমি কাঁদি, এই ত আমার চির-চেনা রে।।

কে তোরে কি বলেছে মা

বাণী

কে	তোরে কি বলেছে মা ঘুরে বেড়াস কালি মেখে
ওমা	বরাভয়া ভয়ঙ্করী সাজ পেলি তুই কোথা থেকে।।
	তোর এলাকেশে প্রলয় দোলে
	আমি চিনতে নারি গৌরী বলে।
ওমা	চাঁদ লুকাল মেঘের কোলে তোর মুখে না হাসি দেখে।।
ওমা	শঙ্কর কি গঙ্গা নিয়ে,কাঁদায় তোরে দুঃখ দিয়ে
ওমা	শিবানী তোর চরণ তলে এনেছি তাই শিবকে ডেকে।।

দুলিবি কে আয় মেঘের দোলায়

বাণী

দুলিবি কে আয় মেঘের দোলায়।
কুসুম দোলে পাতার কোলে পুবালি হাওয়ায়।।
অলকা-পরী অলক খু’লে
কাজরি নাচে গগন-কূলে,
বলাকা-মালার ঝুলন ঝুলায়।।
দাদুরি বোলে, ডাহুকী ডাকে
ময়ূরী নাচে তমাল শাখে,
ময়ূর দোলে কদম-তলায়।।
তটিনী দুলে ঢেউয়ের তালে,
নিবিড় আঁধার ঝাউয়ের ডালে,
বেণুর ছায়া ঘনায় মায়া পরান ভোলায়।।

আমার প্রাণের দ্বারে ডাক দিয়ে

বাণী

আমার	প্রাণের দ্বারে ডাক দিয়ে কে যায় বারে বারে।
তাঁর		নূপুর-ধ্বনি রিনি ঝিনি বাজে বন-পারে।।
			নিঝুম রাতে ঘুমাই যবে
			সে ডাকে আমায় বেণুর রবে,
		স্বপন কুমার আসে স্বপন-অভিসারে।।
আমি		জল নিতে যাই নদী তটে এক্‌লা নাম ধ’রে সে ডাকে
		ধরতে গেলে পালিয়ে সে যায় বন-পথের বাঁকে।
			বিশ্ব-বধূর মনোচোরা
			ধরতে সে চায়, দেয় না ধরা,
আমি		তা’রি স্বয়ম্বরা, আমি সঁপেছি প্রাণ তারে।।

বন্ধু তোমার দুয়ার বন্ধ

বাণী

বন্ধু তোমার দুয়ার বন্ধ।
তবু তোমার গৃহের পথে ছুটে কমল-গন্ধ॥
বন্ধু তোমার অলক-উড়া মনে পড়ে মনে পড়ে,
বন্ধু তোমার পুলক ঝরা আজও আছে বক্ষে ঝ’রে।
প্রথম যেদিন দুয়ার খোলা
দেখি তোমায় আপন ভোলা;
রাজপথেতে লোকের মেলা
	তুমি আপন সুরে অন্ধ॥
বন্ধু তুমি ভুলে যাওয়া গানের বুঝি সুর
হারিয়ে পাওয়া আলোকপুরের স্বপ্ন সুমধুর,
বন্ধু তোমার হাতের বীণা
তোমার মতই লজ্জাহীনা
তোমার মতই ছিন্ন ভিনা
	তোমার মতই হত-ছন্দ॥

[অগ্রন্থিত নজরুল, সংকলন ও সম্পাদনাঃ ব্রহ্মমোহন ঠাকুর, ডি. এম. লাইব্রেরি, কলকাতা, ২০০৩]

মাগো তোরি পায়ের নূপুর বাজে

বাণী

মাগো তোরি পায়ের নূপুর বাজে
এই বিশ্বের সকল ধ্বনির মাঝে।।
জীবের ভাষায় পাখির মধুর গানে,
সাগর রোলে নদীর কলতানে
সমীরণের মরমরে শুনি সকাল সাঁঝে।।
আমার প্রতি নিঃশ্বাসে মা রক্তধরার মাঝে
প্রাণের অনুরণনে তোর চরণধ্বনি বাজে।
গভীর প্রণব ওঙ্কারে তোর কালি (মা গো মহাকালী)
সেই নৃত্যলীলার স্তবগাথা গান চরণতলে নটরাজে।।