‘কালী কালী’ মন্ত্র জপি

বাণী

‘কালী কালী’ মন্ত্র জপি ব’সে শোকের ঘোর শ্মশানে।
মা অভয়ার নাম গুণে শান্তি যদি পাই এ প্রাণে।।
	এই শ্মশানে ঘুমিয়ে আছে
	যে ছিল মোর বুকের কাছে,
সে হয়ত আবার উঠবে জেগে মা ভবানীর নাম-গানে।।
সকল সুখ শান্তি আমার নিল হ’রে যে-পাষাণী,
শূন্য বুকে বন্দী ক’রে রাখব আমি তারেই আনি’।
	মোর, যাহা প্রিয় মাকে দিয়ে
	জাগি আশার দীপ জ্বালিয়ে,
মা’র সেই চরণের নিলাম শরণ, যে-চরণে মা আঘাত হানে।।

১. বুকে চিতা, ২. যে চরণে প্রলয় আনে

পথিক বন্ধু এসো এসো পাপড়ি ছাওয়া পথ বেয়ে

বাণী

পথিক বন্ধু এসো এসো পাপড়ি ছাওয়া পথ বেয়ে।
মন হয়েছে উতলা গো তোমার আসার পথ চেয়ে।।
	আকাশ জুড়ে আলোর খেলা
	বসুন্ধরায় ফুলের মেলা
রঙিন মেঘের ভাসলো ভেলা তোমারই আসার আভাস পেয়ে।।
সাধ জাগে ঐ পথে তোমার পেতে রাখি মন প্রাণ
চলতে গিয়ে দলবে তা’রে চরণ ছোঁয়া করিবে দান।
	তোমার ধ্যানে, হে রাজাধিরাজ
	সাজ ভুলেছি ভুলেছি কাজ
আসবে তুমি সেই খুশিতে আছে আমার মন ছেয়ে।।

যে আল্লার কথা শোনে

বাণী

যে আল্লার কথা শোনে তারি কথা শোনে লোকে।
আল্লার নূর যে দেখেছে পথ পায় লোক তার আলোকে।।
	যে আপনার হাত দেয় আল্লায়
	জুল্‌ফিকারের তেজ সে পায়,
যার চোখে আছে খোদার জ্যোতি রাত্রি পোহায় তারি চোখে।।
ভোগের তৃষ্ণা মিটেছে যার খোদার প্রেমের শিরনি পেয়ে,
যায় বাদ্‌শা-নবাব গোলাম হ'য়ে সেই ফকিরের কাছে যেয়ে।
আসে সেই কওমের ইমাম সেজে কওমকে পেয়েছে যে,
তারি কাছে খোদার দেওয়া শান্তি আছে দুখে-শোকে।। 

ভ্রমর-নূপুর পরিহিতা কৃষ্ণ-কুন্তলা

বাণী

ভ্রমর-নূপুর পরিহিতা কৃষ্ণ-কুন্তলা।
বলয়-কাঁকন ঝনকিতা ছন্দ-চঞ্চলা।।
মলয়-সমীর ঝিরি ঝিরি অঙ্গে গুঞ্জরে
কদম-কেশর ঝুরুঝুরু চম্পা মুঞ্জরে,
চটুল নয়ন চমকিত জোছনা-অঞ্চলা।।
বিধুর কোকিল-কুহরিত আম্রকুঞ্জে গো
রূপের পরাগ ঝরে তব পুঞ্জে পুঞ্জে গো,
নিখিল-ভুবন তব রাস-নৃত্য হিন্দোলা।।

১. আমের মুকুল, ২. কদম কুঞ্জে

ফুলের বনে আজ বুঝি সই

বাণী

ফুলের বনে আজ বুঝি সই
	রূপসায়রের ঢেউ লেগেছে।
ঘুমিয়ে পড়া শ্যাম-ভ্রমরা
	গুন্‌গুনিয়ে গান ধ’রেছে।।
	কুড়িয়ে পাওয়া কুসুম দলে
	ডুবিয়ে নিয়ে শিশির-জলে,
পরতে ধরা আপন গলে মালা গেঁথেছে।।
	প্রেম-পিয়াসীর বুকের কাঁদন
	জাগিয়ে দিল মলয় পবন,
পরান-বঁধুর কাজল নয়ন মনে জেগেছে।।

মোর মন ছুটে যায় দ্বাপর যুগে

বাণী

উভয়		:	মোর মন ছুটে যায় দ্বাপর যুগে দূর দ্বারকায় বৃন্দাবনে।
স্ত্রী+উভয়ে	:	মোর মন হ’তে চায় ব্রজের রাখাল খেলতে রাখাল-রাজার সনে॥
স্ত্রী		:	রূপ ধরে না বিশ্বে যাহার
			দেখতে সাধ যায় কিশোর-রূপ তার
পুরুষ		:	কেমন মানায় নরের রূপে অনন্ত সেই নারায়ণে॥
স্ত্রী		:	সাজ্‌ত কেমন শিখী-পাখা বাজ্‌ত কেমন নূপুর পায়ে,
পুরুষ		:	থির কেমনে থাক্‌ত ধরা নাচ্‌ত যখন তমাল-ছায়ে।
উভয়		:	মা যশোদা বাঁধ্‌ত যখন কাঁদ্‌ত ভগবান কেমনে॥
স্ত্রী		:	সাজ্‌ত কেমন বন-মালায় বিশ্ব যাহার অর্ঘ্য সাজায়;
পুরুষ		:	যোগী-ঋষি পায় না ধ্যানে গোপ-বালা কেমনে পায়।
উভয়		:	তেম্‌নি ক’রে কালার প্রেমে সব খোয়াব এই জীবনে॥