ঝুলন ঝুলায়ে ঝাউ ঝক্‌ ঝোরে

বাণী

ঝুলন ঝুলায়ে ঝাউ ঝক্‌ ঝোরে, দেখো সখি চম্পা লচ্‌কে
	বাদরা গরজে দামিনী দমকে
আও বৃজকি কোঙারী ওড়ে নীল সাড়ি,
	নীল কমল-কলিকে পহনে ঝুমকে।।
হায়রে ধান কি লও মে হো বালি
ওড়নী রাঙাও সতরঙ্গী আলি,
ঝুলা ঝুলো ডালি ডালি।
আও প্রেম কোঙারী মন ভাও,
প্যারে প্যারে সুরমে শাওনী সুনাও।
রিমঝিম রিমঝিম পড়তে কোয়ারে
সুন্‌ পিয়া পিয়া কহে মুরলী পুকারে,
	ওহি বোলী সে হিরদয় খটকে।।

দাও আরো আরো দাও সুরা আর সুর

বাণী

দাও আরো আরো দাও সুরা আর সুর।
প্রাণের পাত্র কর সুখে ভরপুর।।
	বাজুক অধীর হ’য়ে
	নূপুর জলদ লয়ে,
সমতালে তাল দিক কাঁকন-কেয়ূর।।
	সুর ও সুরার ঝোঁক
	ধরায় অমর হোক,
এই সে-স্বর্গলোকে আয় তৃষাতুর।।

নাটিকা: ‘নরমেধ’

মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম

বাণী

মোরা		ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম, মোরা ঝর্ণার মত চঞ্চল।
মোরা		বিধাতার মত নির্ভয়, মোরা প্রকৃতির মত সচ্ছল।।
			আকাশের মত বাঁধাহীন,
মোরা			মরু সঞ্চার বেদুঈন,
(মোরা)		বন্ধনহীন জন্ম–স্বাধীন, চিত্ত মুক্ত শতদল।।
মোরা		সিন্ধু–জোয়ার কল–কল
মোরা		পাগলা–ঝোরার ঝরা জল
			কল–কল–কল্ ছল–ছল–ছল্ কল–কল–কল্ ছল–ছল–ছল্
মোরা		দিল–খোলা খোলা প্রান্তর,
মোরা		শক্তি অটল মহীধর
			হাসি গান শ্যাম উচ্ছল
মোরা		বৃষ্টির জল বনফল খাই, শয্যা শ্যামল বন–তল।।

সুরে ও বাণীর মালা দিয়ে

বাণী

সুরে ও বাণীর মালা দিয়ে তুমি আমারে ছুঁইয়াছিলে।
অনুরাগ–কুম্কুম দিলে দেহে মনে, বুকে প্রেম কেন নাহি দিলে।।
বাঁশি বাজাইয়া লুকালে তুমি কোথায় —
যে ফুল ফোটালে সে ফুল শুকায়ে যায়
কী যেন হারায়ে প্রাণ করে হায় হায় —
কী চেয়েছিলে — কেন কেড়ে নাহি নিলে।।
জড়ায়ে ধরিয়া কেন ফিরে গেলে বল কোন্ অভিমানে,
কেন জাগে নাকো আর সে মাধুরী রস–আনন্দ–প্রাণে।
	তোমারে বুঝি গো বুঝেছিনু আমি ভুল
	এসেছিলে তুমি ফোটাতে প্রেম–মুকুল,
কেন আঘাত করিয়া প্রিয়তম, সেই ভুল নাহি ভাঙাইলে।।

তোমার দেওয়া ব্যথা সে যে

বাণী

তোমার দেওয়া ব্যথা, সে যে তোমার হাতের দান।
তাই তো সে দান মাথায় তুলে নিলাম, হে পাষাণ।।
	তুমি কাঁদাও তাই ত বঁধু
	বিরহ মোর হল মধু,
সে যে আমার গলার মালা তোমার অপমান।।
আমি বেদীমূলে কাঁদি, তুমি পাষাণ অবিচল,
জানি হে নাথ, সে যে তোমার পূজা নেওয়ার ছল।
	তোমার দেবালয়ে মোরে
	রাখলে পূজারিণী ক’রে,
সেই আনন্দে ভুলেছি নাথ সকল অভিমান।।

আধখানা চাঁদ হাসিছে আকাশে

বাণী

আধখানা চাঁদ হাসিছে আকাশে
	আধখানা চাঁদ নিচে
	প্রিয়া তব মুখে ঝলকিছে
গগনে জ্বলিছে অগণন তারা
	দু’টি তারা ধরণীতে
	প্রিয়া তব চোখে চমকিছে।।
তড়িৎ-লতার ছিঁড়িয়া আধেকখানি
জড়িত তোমার জরীণ ফিতায় রানী!
অঝোরে ঝরিছে নীল নভে বারি
	দুইটি বিন্দু তারি
	প্রিয়া তব আঁখি বরষিছে।।
মধুর কণ্ঠে বিহগ বিলাপ গাহে,
গান ভুলি’ তা’রা তব অঙ্গনে চাহে,
তাহারও অধিক সুমধুর সুর তব
	চুড়ি কঙ্কনে ঝনকিছে।।