মমতাজ মমতাজ তোমার তাজমহল

বাণী

	মমতাজ মমতাজ তোমার তাজমহল —
যেন 	ফিরদৌসের একমুঠো প্রেম,
	বৃন্দাবনের একমুঠো প্রেম, আজো করে ঝলমল।।
	কত সম্রাট হ’ল ধূলি স্মৃতির গোরস্তানে —
	পৃথিবী ভুলিতে নারে প্রেমিক শাহ্‌জাহানে,
	শ্বেত মর্মরে সেই বিরহীর ক্রন্দন –মর্মর গুঞ্জরে অবিরল।।
	কেমনে জানিল শাজাহান – প্রেম পৃথিবীতে ম’রে যায়,
তাই	পাষাণ প্রেমের স্মৃতি রেখে গেল পাষাণে লিখিয়া হায়!
যেন	তাজের পাষাণ অঞ্জলি ল’য়ে নিঠুর বিধাতা পানে
	অতৃপ্ত প্রেম বিরহী আত্মা আজো অভিযোগ হানে!
বুঝি	সেই লাজে বালুকায় মুখ লুকাইতে চায় শীর্ণা যমুনা জল।।

হে মদিনার বুলবুলি গো

বাণী

হে মদিনার বুলবুলি গো গাইলে তুমি কোন গজল।
মরুর বুকে উঠল ফুটে প্রেমের রঙিন গোলাপ দল।।
দুনিয়ার দেশ-বিদেশ থেকে, গানের পাখি উঠল ডেকে
মুয়াজ্জিনের আজান ধ্বনি উঠল ভেদি গগনতল।।
সাহারার দগ্ধ বুকে রচ তুমি গুলিস্তান
সেথা আস্‌হাব সব ভ্রমর হয়ে শাহাদতের গাইল গান।
দোয়েল কোকিল দলে দলে আল্লা রসূল উঠল ব'লে
আল্‌ কোরানের পাতার কোলে খোদার নামের বইল ঢল।।

নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে

বাণী

নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে।
মন-গোকুলে রুনুঝুনু বোলে।।
	কূলের বাঁধন টুটে,
	যমুনা উথলি' ওঠে,
পুলকে কদম ফোটে পেখম খোলে
	শিখী পেখম খোলে।।
ব্রজনারী কুল ভুলে'
	লুটায় সে পদমুলে
চোখে জল, বুকে প্রেম- তরঙ্গ দোলে।।
	শ্রীমতি রাধারই সাথে
	বিশ্ব ছুটেছে পথে,
হরি হরি ব'লে মাতে ত্রিভুবন ভোলে।
	নামে ত্রিভুবন ভোলে।।

পঞ্চ প্রাণের প্রদীপ-শিখায়

বাণী

পঞ্চ প্রাণের প্রদীপ-শিখায় লহ আমার শেষ আরতি।
ওগো আমার পরম-পতি, ওগো আমার পরম-পতি।।
		বহু সে-কাল বাহির-দ্বারে
		দাঁড়িয়ে আছি অন্ধকারে,
এবার দেহের দেউল ভেঙে দেখ্‌ব নিঠুর, তোমার জ্যোতি।।
আমি তোমায় চেয়েছিলাম, শুধু এই সে অপরাধে,
ধ্যান ভেঙেছ আমার, ফেলে নিত্য নূতন মায়ার ফাঁদে।
	আজ	মায়ার ঘরে আগুন জ্বেলে
		পালিয়ে গেলাম পাখা মেলে,
জীবন যাহার মিথ্যা স্বপন মরণে তার নাই ক ক্ষতি।।
কেটে দিলাম নিঠুর হাতে যে বাঁধনে বেঁধেছিলে,
রইল না আর আমার ব’লে কোনো স্মৃতি এ-নিখিলে।
		আবার যদি তোমার মায়ায়
		রূপ নিতে হয় নূতন কায়ায়,
তোমার প্রকাশ রুদ্ধ যেথায় সেথায় যেন না হয় গতি।।

এসো প্রিয়তম এসো প্রাণে

বাণী

এসো প্রিয়তম এসো প্রাণে।
এসো সুদূর মোর অভিমানে।।
এসো কম্পিত হৃদয়ের ছন্দে
এসো বিরহের বিধুর আনন্দে,
এসো বেদনার চন্দন-গন্ধে —
		মম পূজার বন্দনা-গানে।।
সুখ-স্বপন হয়ে এসো ঘুমে
এসো হৃদয়েশ, মালার কুসুমে,
এসো তপনের রূপে আঁখি চু’মে —
		ঘুম ভাঙায়ো নিশি-অবসানে।।
এসো মাধবী-কাঁকন হয়ে হাতে
এসো কাজল হয়ে আঁখি-পাতে,
এসো পূর্ণিমা চাঁদ হয়ে রাতে —
		এসো ফুল-চোর মালতী-বিতানে।।

নাটক : ‘অর্জুন বিজয়’ (নাট্যকার : দেবেন্দ্রনাথ রাহা)

জাগো জাগো পোহাল রাতি

বাণী

জাগো জাগো, পোহাল রাতি।
গগন-আঙনে ম্লান চাঁদের বাতি।।
	মধুমাছি মধু বোলে
	ফুলমুখী ঘুম ভোলে,
শরমে নয়ন খোলে — শয়ন-সাথী।।
	সলিল লুটায় ঘটে
	বধূর বুকে তটে,
বাজে বাঁশি ছায়া-বটে — আবেশ মাতি’।।