চাঁদের পিয়ালাতে আজি

বাণী

চাঁদের পিয়ালাতে আজি জোছনা-শিরাজি ঝরে।
ঝিমায় নেশায় নিশীথিনী সে-শরাব পান ক’রে।।
	সবুজ বনের জল্‌সাতে
	তৃণের গালিচা পাতে,
উতল হাওয়া বিলায় আতর চাঁপার আতরদানি ভ’রে।।
সাদা মেঘের গোলাব-পাশে ঝরিছে গোলাব-পানি,
রজনীগন্ধার গেলাসে রজনী দেয় সুরা আনি’।
	কোয়েলিয়া কুহু কুহু
	গাহে গজল মুহু মুহু,
সুরের নেশা সুরার নেশা লাগে আজি চরাচরে।।

বিজন গোঠে কে রাখাল বাজায় বেণু

বাণী

	বিজন গোঠে কে রাখাল বাজায় বেণু
আমি	সুর শুনে তা'র বাউল হয়ে এনু (গো)।।
	ঐ সুরে পড়ে মনে কোন সুদুর বৃন্দাবনে
যেত	নন্দ-দুলাল ব্রজ-গোপাল বাজিয়ে বেণু বনে
পথে	লুটতো কেঁদে গোপাবালা, ভূরতো তৃণ-ধেণু গো
		কেঁদে ভুলতো তৃণ-ধেণু।।
কবে	নদীয়াতে গোরা
ও ভাই	ডেকেছিল এমনি সুরে এমনি পাগল-করা।
কেঁদে	ডাকতো বৃথাই শচীমাতা, সাধতো বসুন্ধরা,
প্রেমে	গ'লে যত নর-নারী যাচতো পদ-বেণু গো
		তারা যাচতো পদ-রেণু।।

কেন আন ফুল-ডোর আজি বিদায় বেলা

বাণী

কেন	আন ফুল-ডোর আজি বিদয়-বেলা,
মোছ	মোছ আঁখি-লোর যদি ভাঙিল মেলা॥
কেন	মেঘের স্বপন আন মরুর চোখে,
ভু’লে	দিয়ো না কুসুম যারে দিয়েছ হেলা॥
যবে	শুকাল কানন এলে বিধুর পাখি,
ল’য়ে	কাঁটা-ভরা প্রাণ এ কি নিঠুর খেলা।
যদি	আকাশ-কুসুম পেলি চকিতে কবি,
চল	চল মুসাফির, ডাকে পারের ভেলা॥

কে সাজালো মাকে আমার

বাণী

	কে সাজালো মাকে আমার বিসর্জনের বিদায় সাজে
	আজ সারাদিন কেন এমন করুণ সুরে বাঁশি বাজে॥
	আনন্দেরি প্রতিমাকে হায়, বিদায় দিতে পরান নাহি চায়
	মা-কে ভাসিয়ে জলে কেমন করে রইব আঁধার ভবন মাঝে॥
মা’র	আগমনে বেজেছিল প্রাণে নূতন আশার বাঁশি
	দুঃখ শোক ভয় ভুলেছিলাম দেখে মা অভয়ার মুখের হাসি।
	মা দশ হাতে আনন্দ এনেছিল, বিশ হাতে আজ দুঃখ ব্যথা দিল
মা	মৃন্ময়ীকে ভাসিয়ে জলে, পাব চিন্ময়ীকে বুকের মাঝে॥

আল্লা নামের বীজ বুনেছি

বাণী

আল্লা নামের বীজ বুনেছি এবার মনের মাঠে।
ফলবে ফসল বেচব তারে কেয়ামতের হাটে।।
	পত্তনীদার যে এ জমির
	খাজনা দিয়ে সেই নবীজীর
বেহেশতেরই তালুক কিনে বসব সোনার খাটে।।
মসজিদে মোর মরাই বাঁধা হবে নাকো চুরি,
মনকির নকির দুই ফেরেশতা হিসাব রাখে জুড়ি' রে;
	রাখবো হেফাজতের তরে
	ঈমানকে মোর সাথী করে,
রদ হবে না কিস্তি (মোর), জমি উঠবে না আর লাটে।।

পথ চলিতে যদি চকিতে

বাণী

পথ চলিতে যদি চকিতে কভু দেখা হয়, পরান-প্রিয়!
চাহিতে যেমন আগের দিনে তেমনি মদির চোখে চাহিও।।
		যদি গো সেদিন চোখে আসে জল,
		লুকাতে সে জল করিও না ছল,
যে-প্রিয় নামে ডাকিতে মোরে সে-নাম ধরে বারেক ডাকিও।।
		তোমার বঁধু পাশে (হায়) যদি রয়,
		মোরও প্রিয় সে, করিও না ভয়,
কহিব তা’রে, ‘আমার প্রিয়ারে আমারো অধিক ভালোবাসিও’।।‌
		বিরহ-বিধুর মোরে হেরিয়া,
		ব্যথা যদি পাও যাব সরিয়া,
রব না হ’য়ে পথের কাঁটা, মাগিব এ বর মোরে ভুলিও।।