পরাজিত হ’ল অপরাজিতার কাছে

বাণী

পরাজিত হ’ল অপরাজিতার কাছে গোলাপের রূপ হায়।
পথের ধূলিতে ঢেকে দে গোলাপ-বন, আয় ঝোড়ো হাওয়া আয়।।
বসিল না মোর ময়ূর-সিংহাসনে বনের সে প্রজাপতি,
কোহিনূর ফেলে দেখিল পথের ফুলে সে-কোন্ প্রেমের জ্যোতি।
	হে প্রেম-ভিখারি! তোমার ধূলির পথে
	ডাক দিলে যদি চির-ভিখারিনী হ’তে,
মরণের ক্ষণে দুটি ফোঁটা আঁখি-জল সে যেন ভিক্ষা পায়।।

বেদনার পারাবার করে হাহাকার

বাণী

বেদনার পারাবার করে হাহাকার
তোমার আমার মাঝে হে প্রিয়তম।
অনন্ত এই বিরহের নাহি পার,
হবে না মিলন আর এ জনম।।
এই বুঝি হায়, বিধির লিখন
দু’কূলে থাকি’ কাঁদিব দু’জন
রাতের চখা-চখীর সম।।
বাতায়নে জ্বালি’ আশা-দীপ
চাহিব তোমার আসার পথে
বিফল মালার মলিন কুসুম
ভাসাব নদীর ভাটীর স্রোতে।
নিশুতি রাতের তারার চোখে,
দলিত ফুলে ঝরা-কোরকে
খুঁজিও আমায় ফিরিয়া যদি
আসি এ-ঘরে প্রিয় মম।।

১. আস হে কভু হে বন্ধু মম

চোখের বাঁধন খুলে দে মা

বাণী

		চোখের বাঁধন খুলে দে মা খেলব না আর কানামাছি।
আমি		মার খেতে আর পারি না মা এবার বুড়ি ছুঁয়ে বাঁচি।।
			তুই পাবি অনেক মেয়ে ছেলে
			যাদের সাধ মেটেনি খেলে খেলে,
তুই		তাদের নিয়েই খেল না মা গো শ্রান্ত আমি রেহাই যাচি।
		দুঃখ-শোক-ঋণ-অভাব ব্যাধি মায়ার খেলুড়িরা মিলে,
		শত দিকে শত হাতে আঘাত হানে তিলে তিলে।
			চোর হয়ে মা আর কত দিন 
			ঘুরব ভবে শান্তিবিহীন,
তোর		অভয় চরণ পাই না কেন মা তোর এত কাছে আছি।।

মট্‌কু মাইতি বাঁটকুল রায়

বাণী

মট্‌কু মাইতি বাঁটকুল রায়
ক্রুদ্ধ হয়ে যুদ্ধে যায়
বেঁটে খাটো নিটপিটে পায়
তারা ছেৎ’রে চলে, কেৎ’রে চায়।।
পায়ে পরে গাবদা বুট আর পট্টি
আর গড়াইয়া চলে যেন গাঁঠরি ও মোটটি,
ওগো হুনুলুলু সুরে গায় গান উদভট্টি
হাঁটি হাঁটি পা পা ডাইনে বাঁয়।।
রাস্তায় তেড়ে এলো এঁড়ে এক দামড়া
ঢুস খেয়ে বাটকুর ছড়ে গেল চামড়া।
ভয়ে মট্‌কুর চোখ হয়ে গেল আমড়া
সে উলটিয়ে সাতপাক ডিগবাজি খায় হায়, হায়।।

তুমি আমায় যবে জাগাও গুণী

বাণী

তুমি	আমায় যবে জাগাও গুণী তোমার উদার সঙ্গীতে
মোর	হাত দু'টি হয় লীলায়িত নমস্কারের ভঙ্গিতে।।
	সিন্ধু জলের জোয়ার সম, ছন্দ নামে অঙ্গে মম
	রূপ হলো মোর নিরুপম তোমার প্রেমের সুরের অমৃতে।।
	আমার আঁখির পল্লবদল উদাস অশ্রুভারে,
	ভোরের করুণ তারা মতো কাপেঁ বারেবারে।
	আনন্দে ধীর বসুন্ধরা, হলো চপল নৃত্যপরা
	ঝরে রঙের পাগল ঝোরা তোমার চরণ রঞ্জিতে।।

নাহি কেহ আমার ব্যথার সাথী

বাণী

নাহি কেহ আমার ব্যথার সাথী,
জ্বলি পিল্‌সুজে একা মোমের বাতি।
পতঙ্গ সুখি, পুড়ে এক নিমেষে –
পুড়িয়া মরি আমি সারা রাতি।।
আসে যে সুখের দিনে বন্ধু রূপে,
অসময়ে যায় স’রে চুপে চুপে।
	উড়ে গেছে অলি
	ফুল ঝরেছে বলি’ – 
কাঁদি একাকী কণ্টক-শয্যা পাতি’।।
কেহ কারো নয় তবু প্রাণ কাঁদে
চকোর চাহে যেন সুদূর চাঁদে,
শুধু বেদনা পাই প্রেম-মোহে মাতি’।।