বেসুর বীণায় ব্যথার সুরে

বাণী

বেসুর বীণায়	ব্যথার সুরে বাঁধ্‌ব গো
পাষাণ-বুকে	নিঝর হয়ে কাঁদব গো।।
কুলের কাঁটায়	স্বর্ণলতার দুল্‌ব হার,
ফণীর ডেরায়	কেয়ার কানন ফাঁদ্‌ব গো।।
ব্যাধের হাতে	শুনব সাধের বঙশী-সুর,
আস্‌লে মরণ	চরণ ধ’রে সাধব গো।।

কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে আস্‌লে প্রাতে

বাণী

কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে আস্‌লে প্রাতে পুষ্প-চোর।
ডাকছে পাখি, ‘বৌ গো জাগো’ আর ঘুমায়ো না, রাত্রি ভোর।।
যুঁই-কুঁড়িরা চোখ মেলে চায় চুম্‌কুড়ি দেয় মৌমাছি
শাপলা-বনে চাঁদ ডুবে যায় ম্লান চোখে হায় চায় চকোর।।
ঘোম্‌টা ঠেলি’ কয় চামেলি গোল ক’রো না গুল্‌-ডাকাত,
ঢুলছে নয়ন, দুলছে গলায় বেল-টগরের ছিন্ন ডোর।।
গুন্‌গুনিয়ে মোর আঙিনায় কোন্‌ সতীনের গাইছ গুন্‌
কার মালঞ্চে ফুল ফোটায়ে হুল ফোটালে বক্ষে মোর।।

আজি প্রথম মাধবী ফুটিল কুঞ্জে

বাণী

আজি প্রথম মাধবী ফুটিল কুঞ্জে মাধব এলো না সই।
এই যৌবন-বরমালা কারে দিব মোর বনমালী বই।।
	সারা নিশি জেগে বৃথাই নিরালা
	গাঁথিলাম নব মালতীর মালা,
অনাদরে হায় সে মালা শুকায় দেখিয়া কেমনে রই।।
	মম অনুরাগ-চন্দন ঘ’ষে,
	লাজ ভু’লে সাঁঝ হ’তে আছি ব’সে,
শুকাইয়া যায় চন্দন হায় রাধিকারমণ কই।।
	চলিলাম আমি যথা মন চায়,
	প্রভাতে আসিলে মোর শ্যামরায়
বলিস্ আঁধারে হারাইয়া হায় গেছে রাধা রসময়ী।।

কাহার তরে হায় নিশিদিন কাঁদে মন-প্রাণ

বাণী

কাহার তরে হায় নিশিদিন কাঁদে মন-প্রাণ।
জানে শুধু সেই, জানে মোর হৃদি ব্যথা-ম্লান।।
কমল-পাতে যেন জল, — প্রণয় তার সই
বুলবুলি চপল দ'লে যায় লতিকা বিতান।।
জানে শুধু সে নিতে মন, দিতে জানে না
ছলিয়া চলে সে-মুকুল, বারণ মানে না।
জীবন ল'য়ে সে খেলে মরণ-খেলা,
সকালে যারে চাহে তাহে বিকালে হেলা।
কুসুম-সমাধি রচে সে নিঠুর পাষাণ।।
চাহি শুধু এই, — যেন সে বাসিয়া ভালো
এমনি ব্যথা পায় সে ওগো ভগবান।।

তোমারি আশায় সব সুখ ছাড়িনু

বাণী

তোমারি আশায় সব সুখ ছাড়িনু
আর কেন রাখ প্রভু দূরে।
তুমি ছেড়ো না মোরে মোর গিরিধারী
বাঁধো মোরে চরণ-নূপুরে।।
বিরহ বেদনা মোর জ্বলে হৃদিকন্দরে
মুছাইয়া দাও আঁখিলোর।
তব চিত্তে মিলায় আজি চিত্ত হে মম
অঙ্গে মিলাও তব অঙ্গ পীতম।
জনমে জনমে মীরা তোমারি দাসী
হৃদি-বৃন্দাবনে নিতি ঝুরে।।

শারদ নিশির হিমেলা বাতাস

বাণী

শারদ নিশির হিমেলা বাতাস, তারা-ভরা এই অসীম আকাশ।
স্বপ্ন-বিলাসিনী চাঁদের আবাস, কাশ ফুলে দোলে কার নিশাস্।।
	শিউলি-মালা গলে শরত-রানী
	লাবনি-মাখা যে গো তাহারি বাণী,
তোমার বেণু বিনা, আমার এ বীণা সুর তোলে যেন দীরঘ-শ্বাস।।
এমনই চাঁদের তিথি, এমনই শারদ-রাতি
মৌন-মুখর ধরা, তব সুর ছিল সাথি,
রাখিখানি যবে হায় নিয়েছিলে কর পাতি’ —
এসো গো ধেয়ানে মম তাজিয়া সে-পরবাস।।