জানি আমার সাধনা নাই আছে তবু সাধ

বাণী

জানি আমার সাধনা নাই আছে তবু সাধ।
তুমি আপনি এসে দেবে ধরা দূর-আকাশের চাঁদ।।
	চকোর নহি মেঘও নহি
	আপন ঘরে বন্দী রহি’
আমি শুধু মনকে কহি কাঁদ নিশি দিন কাঁদ।।
কূল-ডুবানো জোয়ার কোথা পাব হে সুন্দর?
হে চাঁদ আমি সাগর নহি পল্লী-সরোবর।
	নিশীথ রাতে আমার নীরে,
	প্রেমের কুমুদ ফোটে ধীরে,
মোর ভীরু প্রেম যেতে নারে ছাপিয়ে লাজের বাঁধ।।

ঘুমে জাগরণে বিজড়িত প্রাতে

বাণী

ঘুমে জাগরণে বিজড়িত প্রাতে।
কে এলে সুন্দর আমারে জাগাতে।।
শাখে শাখে ফুলগুলি হাসিছে নয়ন মেলি’
শিহরিছে উপবন ফুলেল হাওয়াতে।।
দেখিনি তোমায় তবু অন্তর কহে,
ছিলে তুমি লুকায়ে আমার বিরহে।
চম্পার পেয়ালায় রস উছলিয়া যায় —
ঝরিয়া পড়ার আগে ধর তা’রে হাতে।।

দোলে প্রাণের কোলে প্রভূর নামের মালা

বাণী

দোলে প্রাণের কোলে প্রভূর নামের মালা।
সকাল সাঁঝে সকল কাজে জপি সে নাম নিরালা।।
সেই নাম বসন-ভূষণ আমারি
সেই নামে ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিবারি,
সেই নাম লয়ে বেড়াই কেঁদে
	সেই নামে আবার জুড়াই জ্বালা।।
সেই নামরেই নামাবলী গ্রহ তারা রবি শশী দোলে গগন কোলে।
	মধুর সেই নাম প্রাণে সদা বাজে,
	মন লাগে না সংসার কাজে
		সে নামে সদা মন মাতোয়ালা।।
আদর-সোহাগ মান -অভিমান আপন মনে তার সাথে;
	কাঁদায়ে কাঁদি, পায়ে ধ'রে সাধি,
	কভু করি পূজা, কভু বুকে বাঁধি,
	আমার স্বামী সে ভুবন-উজালা।।

ভবানী শিবানী দশপ্রহরণধারিনী

বাণী

ভবানী শিবানী দশপ্রহরণধারিনী
দুখ-পাপ-তাপ হারিণী ভবানী।।
কলুষ-রিপু-দানব-জয়ী
জগৎ-মাতা করুণাময়ী
জয় পরমাশক্তি মাতা ত্রিলোকধারিণী।।

নাটিকাঃ ‘শ্রীমন্ত’

এই দেশ কার তোর নহে আর

বাণী

এই দেশ কার? তোর নহে আর, রে মূঢ় সন্তান! ভারত-মাতার।
দেবতার দেশে আজ দৈত্য করে বিরাজ, মন্দির আজি বন্দীর কারাগার।।
লাজ নাহি তার, যার জননী দাসী
দাসের শিকল প’রে (কেমনে নিলাজ) বেড়াস্ হাসি’?
	অসম্মানের প্রাণ
	ক’রে দে রে অবসান,
মানুষের মত ম’রে বাঁচ রে আবার।।

ঝরা ফুল দ’লে কে অতিথি

বাণী

ঝরা ফুল দ’লে কে অতিথি
সাঝেঁর বেলা এলে কানন-বীথি।।
চোখে কি মায়া ফেলেছে ছায়া
যৌবন মদির দোদুল কায়া
তোমার ছোঁয়ায় নাচন লাগে দখিন হাওয়ায়
লাগে চাদেঁর স্বপন বকুল চাঁপায়,
কোয়েলিয়া কুহরে কু কু গীতি।।