পাষাণের ভাঙালে ঘুম

বাণী

	পাষাণের ভাঙালে ঘুম			কে তুমি সোনার ছোঁয়ায়,
	গলিয়া সুরের তুষার			গীতি –নির্ঝর ব’য়ে যায়।।
	উদাসী বিবাগী মন			যাচে আজ বাহুর বাঁধন,
	কত জনমের কাঁদন			ও –পায়ে লুটাতে চায়।।
ওগো	তোমার চরণ ছন্দে মোর		মুঞ্জরিল গানের মুকুল
	তোমার বেণীর বন্ধে গো		মরিতে চায় সুরের বকুল
	চম্‌কে ওঠে মোর গগন		ঐ হরিণ–চোখের চাওয়ায়।।

কেন আমায় আন্‌লি মাগো

বাণী

	কেন আমায় আন্‌লি মাগো মহাবাণীর সিন্ধু কূলে।
মোর	ক্ষুদ্র ঘটে এ সিন্ধু-জল কেমন ক’রে নেবো তুলে।।
	চতুর্বেদে এই সিন্ধুর জল
	ক্ষুদ্র চারিবিন্দু হয়ে করছে টলমল,
	এই বাণীরই বিন্দু যে মা গ্রহ তারা গগন মূলে।
	ইহারই বেগ ধরতে শিরে, শিবের জটা পড়ে খুলে।।
	অনন্তকাল রবি-শশী এই সে-মহাসাগর হ’তে,
	সোনার ঘটে রসের ধারা নিয়ে ছড়ায় ত্রিজগতে।
	বাঁশিতে মোর স্বল্প এ আধারে
	অনন্ত সে-বাণীর ধারা ধরতে কি মা পারে?
	শুনেছি মা হয় সীমাহীন ক্ষুদ্রও তোর চরণ ছুঁলে।।

কদম কেশর পড়ল ঝরি

বাণী

কদম কেশর পড়ল ঝরি তখন তুমি এলে।
বাদল মেঘে গগন ঘেরি ঝড়ের কেতন মেলে।।
	ঝরিয়ে বন-কেয়ার রেণু
	বজ্ররবে বাজিয়ে বেণু,
বৃষ্টি ভেজা দুর্বা দ’লে অরুণ-চরণ ফেলে।।
নদীর দু’কূল ভাঙল যবে অধীর স্রোতের জলে,
তখন দেখি হে অশান্ত তোমার তরী চলে।
	যূথীর নীরব অশ্রু ঝরে
	শ্যামল তোমার চরণ ’পরে,
আকাশ চাহে তোমার পথে তড়িৎ প্রদীপ জ্বেলে।।

এলো ঐ শারদ রাতি

বাণী

এলো ঐ শারদ রাতি!
শেফালি-সুগন্ধে ভরিয়া পবনে, জ্বালায়ে চাঁদের বাতি।।
বরষার জলধারা ত্যাজিল সে-খরবেগ
ঝরঝর ঝরণে রিক্ত হইল মেঘ,
শ্বেত-হংস খেলে, সারঙ্ সুরে মাতি’।।
আবরণ-হীনা মেঘ ভেসে যায় বাতাসে
কাহার আগমনী প্রকাশে আভাসে,
কদম্ব রেণু মাখি’, এসো প্রিয় সাথি।।

মহুয়া বনে বন-পাপিয়া

বাণী

মহুয়া বনে বন-পাপিয়া
একলা ঝুরে নিশি জাগিয়া।।
ফিরিয়া কবে প্রিয় আসিবে
ধরিয়া বুকে কহিবে প্রিয়া।।
শুনি নীরবে, গগনে বসি’
কহ যে কথা বিরহী শশী,
তব রোদনে বঁধূ, এ মনে
যমুনা বহে কূল-প্লাবিয়া।।

সুরের ধারার পাগল-ঝোরা

বাণী

সুরের ধারার পাগল-ঝোরা নামিল সখি মোর পরানে।
	ভরি’ মোর নিশীথ নিঝুম,
	বাজে নূপুর কার রুমুঝুম,
	মোর চোখে নাহি ঘুম —
পাষাণ টুটে লো যায় ছুটে মন-তটিনী মোর সাগর পানে।।
পান্‌সে চাঁদের জোছনাতে ঐ বেলের কুঁড়ি মুঞ্জরে,
মন যেতে চায় ফুল-বিছানো বকুল-বীথির পথ ধ’রে।
	আজ চাইবে যে, দিব তাকে
	সেই ফুল ছুঁয়ে এই আপনাকে,
অরুণ-রাগে হৃদয় জাগে, ভাসিয়া যাব নৃত্যে গানে।।