রুমু রুম্‌ঝুম্‌ জল-নূপুর বাজায়ে কে

বাণী

রুমু রুম্‌ঝুম্‌ জল-নূপুর বাজায়ে কে — 
মোরে বর্ষার প্রভাতে গেলে ডেকে।।
কে গো আনন্দিনী, কাহার নন্দিনী
শ্রবণ মন বলে তোমারে চিনি চিনি,
তব আসার আশে, চির-বিরহিণী —
পথ চেয়ে আছি কবে থেকে।।
মনের মধুবনে সহসা পাপিয়া
‘পিয়া পিয়া’ ব’লে উঠিল ডাকিয়া,
তোমার স্মৃতি আজি উদাস-আকাশে —
মেঘের কাজল দিল মেখে।।

ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবি রে

বাণী

ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবি রে জাগায়ো না জাগায়ো না,
সারা জীবন যে আলো দিল ডেকে তার ঘুম ভাঙায়ো না।।
	যে সহস্র করে রূপরস দিয়া
	জননীর কোলে পড়িল ঢলিয়া
তাঁহারে শান্তি-চন্দন দাও ক্রন্দনে রাঙায়ো না।।
যে তেজ শৌর্য-শক্তি দিলেন, আপনারে করি ক্ষয়
			তাই হাত পেতে নাও।
বিদেহ রবি ও ইন্দ্র মোদের নিত্য দেবেন জয়
			কবিরে ঘুমাতে দাও।
	অন্তরে হের হারানো রবির জ্যোতি
	সেইখানে তারে নিত্য কর প্রণতি
	আর কেঁদে তাঁরে কাঁদায়ো না।।

হাসি মুখে বাসিফুল ফেলে দাও ভোরে

বাণী

হাসি মুখে বাসিফুল ফেলে দাও ভোরে।
মোর মন নিয়ে ফেলে দিলে তেমনি ক’রে।।
কেন ডেকেছিলে তব উৎসব সভাতে
অবহেলা ভরে যদি ফেলে দিবে প্রভাতে,
অকারণ অকরুণ বাণ হানিতে কেন —
	বনের পাখিরে এনেছিলে পিঞ্জরে।।
গান গেয়ে চলেছিনু আপনার পথে,
কেন তব হৃদয়ে ঠাঁই দিলে আমারে এনে পথ হতে।
পুতুল খেলার মত মোরে ল’য়ে খেলিলে
বক্ষে রাখিয়া শেষে পায়ে দ’লে ফেলিলে,
দেবতার পূজা শেষে বিগ্রহ ল’য়ে —
	ডুবাইলে নদী-জলে নিষ্ঠুর ক’রে।।

বনে বনে জাগে কি আকুল হরষণ

বাণী

বনে বনে জাগে কি আকুল হরষণ।
ফুল-দেবতা এলো দিতে ফুল-পরশন।।
হরিৎতর আজি পল্লব বন-বাস
মুকুল-জাগানিয়া সমীরণ ফেলে শ্বাস,
বেপথু লতা যাচে মধুপের দরশন।।
কিশোর-হিয়া-মাঝে যৌবন-দেবতা,
গোপনে আনে নব জাগরণ-বারতা
বঁধূর সাথে খোঁজে বঁধু বন-নিরজন।।

কালো জাম রে ভাই

বাণী

কালো জাম রে ভাই! আম কি তোমার ভায়রা ভাই?
লাউ বুঝি তোর দিদি মা, আর কুমড়ো তোর দাদা মশাই।।
তরমুজ তোমার ঠাকুমা বুঝি কাঁঠাল তোমার ঠাকুরদা
গোলাপজাম তোর মাসতুতো ভাই জামরুল কি ভাই তোর বোনাই।।
পেয়ারা কি তোর লাটিম রে ভাই চিচিঙ্গে তোর লাঠি
জাম্বুরা তোর ফুটবল আর লংকা চুষি কাঠি।
টোপা কুল তোর বৌ বুঝি আর বৈচি লেবু তোর বেহাই।
নোনা আতা সোনা ভাই তোর রাঙা দি তোর লাল মাকাল,
ডাব বুঝি তোর পানি-পাঁড়ে ঢিল বুঝি ভাদুরে তাল।
গেছো দাদা আয় না নেমে গালে রেখে চুমু খাই।।

যবে আঁখিতে আঁখিতে ওরা কহে কথা

বাণী

(যবে) আঁখিতে আঁখিতে ওরা কহে কথা দু’টি বনের পাখি।
শুধু শিরাজি ঢালি, আমি চোখের বালি আমি পাষাণ সাকি।।
রিক্ত ওদের হৃদয় পেয়ালায় আমি অমৃত ঢালি
আমারই অন্তর শুধু পাইল না প্রেম-মধু রহিল খালি,
আমি রহি আভরণ-হীনা বাঁধি’ ওদের হাতে প্রেমের রাখি।।
আমি হাসিয়া রচি যার কুঞ্জ-বাসর দুয়ারে দাঁড়ায়ে তারি’ জাগি রাতি,
আমি শিয়রে রহি’ হায় নিজেরে দহি যেন মোমের বাতি।
আমি গাঁথিয়া মালা, দিই সখির হাতে
দেখি কে দেয় কার মালা কার গলাতে,
শিরাজি ঢালিতে হায় পিয়ালা ভাঙিয়া যায় —
নিরালায় বন্ধুর মিলন-ছবি আমি হৃদয়ে আঁকি।।