আজ বন-উপবন মে চঞ্চল

বাণী

আজ বন-উপবন মে চঞ্চল মেরে মনমে।
মোহন মুরলীধারী কুঞ্জ কুঞ্জ ফিরে শ্যাম।।
সুনো মোহন নূপুর গুঞ্জত হ্যয় —
বাজে মুরলী বোলে রাধা নাম কুঞ্জ কুঞ্জ ফিরে শ্যাম।।
বোলে বাঁশরি আও শ্যাম-পিয়ারি,
ঢুঁড়ত হায় শ্যাম-বিহারী,
বনমালা সব চঞ্চল ওড়াওয়ে অঞ্চল —
কোয়েল সখি গাওয়ে সাথ গুণধাম কুঞ্জ কুঞ্জ শ্যাম।।
ফুলকলি ভোলে ঘুঁঘট খোলে
পিয়াকে মিলনকি প্রেমকি বোলি বোলে,
পবন পিয়া লেকে সুন্দর সৌরভ —
হাঁসত যমুনা সখি দিবস-যাম কুঞ্জ কুঞ্জ ফিরে শ্যাম।।

আজ শরতে আনন্দ ধরে না রে ধরণীতে

বাণী

আজ শরতে আনন্দ ধরে না রে ধরণীতে।
একি অপরূপ সেজেছে বসুন্ধরা নীলে হরিতে।।
আনো ডালা ভরি কুন্দ ও শেফালি,
আজ শারদোৎসব জ্বালো দীপালি।
স্নেহ-মাখা সুনিবিড় আকাশ উদার ধীর,
দুলে নদীতীর কার আগমনীতে।।

রেকর্ড-নাটিকা: ‘সুরথ উদ্ধার’

ঝুমুর নাচে ডুমুর গাছে ঘুঙুর বেঁধে গায়

বাণী

দ্বৈত	:	ঝুমুর নাচে ডুমুর গাছে ঘুঙুর বেঁধে গায় (লো)।
		নাচন দুজন মাদল, বাঁশি, নূপুর নিয়ে আয় (লো)।।
স্ত্রী	:	আর জনমে চোরকাঁটা তুই ছিলি (রে)
		এই জনমে আঁচল ছিঁড়ে হৃদয়ে বিঁধিলি।
পুরুষ	:	চোরকাঁটা নয় ছিলাম পানের খিলি লো
		গয়না ছিলাম গায় (লো)।।
স্ত্রী	:	ঝিলমিলয়ে ঝিলের জল নাচায় শালুক ফুল —
পুরুষ	:	শালুক যেন মুখাখানি তোর লো ঝিলের ঢেউ যেন এলোচুল।
স্ত্রী	:	কুহু কুহু ডেকে কোকিল কাহার কথা কহে
পুরুষ	:	সেই কথা কয় কোয়েলা আর জনমে করেছি যা তোরই বিরহে।
দ্বৈত	:	সে জনমের দু’টি হৃদয় এ জনমে হায়
		এক হতে যে চায় লো এক হতে যে চায়।।

ফিরে আয় ভাই গোঠে কানাই

বাণী

ফিরে আয় ভাই গোঠে কানাই
আর কতকাল রবি মথুরায়
তোর শ্যামলী ধবলী কাঁদে তৃণ ফেলি
বারে বারে পথে ফিরে চায়।।
রাখাল সাথীরে ফেলি কোথা আজ
রাজ্য পেয়েছ, হে রাখাল-রাজ!
তোর ফেলে-যাওয়া বাঁশি
নিয়ে যাবে আসি’
মোরা আঁখি-জলে ভাসি দেখে’ তায়।।
তুই শিখী-পাখা ফেলে মুকুট মাথায়
দিয়েছিস নাকি, শুনে হাসি পায়!
তুই পীত-ধড়া ছেড়ে রাজ-বেশে ভাই
সেজেছিস নাকি, মোদের কানাই।
তুই অসি ফেলে নেচে আয় হেলে দুলে
নূপুর পরিয়া রাঙা পায়।
ফিরে আয় ননী-চোর ব্রজের কিশোর
মা বলে ডাক যশোদায়।।

ওরে যোগ-সাধনা পরে হবে

বাণী

ওরে	যোগ-সাধনা পরে হবে নাম জপ্ তুই আগে।
	সকল কাজে সকাল সাঁঝে গভীর অনুরাগে।।
	ওরে	যে ঠাকুরে পরান যাচে
	সে	নামের মাঝে লুকিয়ে আছে,
যেমন	বীজের মাঝে মহাতরু সঙ্গোপনে জাগে।।
	বীজ না বুনে আগে ভাগেই ফসল খুঁজিস্ তুই,
	তাই চিরকাল পোড়ো জমি রইল মনের ভুঁই।
তোর	কোন্ পথ নাম জপের শেষে
	দেখিয়ে দেবেন তিনিই এসে,
তোর	জীবন হবে প্রেমে রঙীন রঙ যদি রে লাগে।
	তাঁর মধুর নামের রঙ যদি রে লাগে।।

ভোল লাজ ভোল গ্লানি জননী

বাণী

ভোল লাজ ভোল গ্লানি জননী মুক্ত আলোকে জাগো।
কবে সে ঘুমালি মরণ-ঘুমে মা আর তো জাগিলি না গো।।
চরণে কাঁদে মা তেমনি জলধি
বক্ষ আঁকড়ি কাঁদে নদ-নদী,
ত্রিশ কোটি সন্তান নিরবধি — 
			কাঁদে আর ডাকে মা গো।।
যে তিতিক্ষা যে শিক্ষা ল’য়ে
অতীতে ছিলি মা রাজরানী হয়ে,
ল’য়ে সে-মহিমা পুন নির্ভয়ে — 
			বিশ্ব-বুকে-দাঁড়া গো।।
বিশ্বের এই খল কোলহলে
তুই আয় কল্যাণ-দীপ জ্বেলে’,
বিরোধের শেষে তুই শান্তি মা — 
			মৃত্যু শেষে সুধা গো।।