এত কথা কি গো কহিতে জানে

বাণী

এত কথা কি গো কহিতে জানে
		চঞ্চল ঐ আঁখি
নীরব ভাষায় কি যে ক'য়ে যায়
	ও সে মনের বনের পাখি।।
বুঝিতে পারি না ঐ আঁখির ভাষা
জলে ডুবে তবু মেটে না পিপাসা,
আদর সোহাগ প্রেম ভালোবাসা
	অভিমান মাখামাখি।।
মুদিত কমলে ভ্রমরেরি প্রায়
বন্দী হইয়া কাঁদিয়া বেড়ায়
চাহিয়া চাহিয়া মিনতি জানায়
	সুনীল আকাশে ডাকি'।।

চঞ্চল ঝর্না সম হে প্রিয়তম

বাণী

চঞ্চল ঝর্না সম হে প্রিয়তম আসিলে মোর জীবনে।
নীরব মনের উপবন মর্মরি’ উঠিল অধীর হরষণে।।
	যে মুকুল ঘুমায়ে ছিল পত্রপুটে
	অনুরাগে ফুল হয়ে উঠিল ফুটে,
তনুর কূলে কূলে ছন্দ উঠিল দুলে আকুল শিহরণে।।
অলকানন্দা হ’তে রসের ধারা তুমি আনিলে বহি’,
অশান্ত সুরে একি গাহিলে গান, হে দূর বিরহী।
	মায়ামৃগ তুমি হেসে চ’লে যাও
	তব কূলে যে কাঁদে তারে ফিরে নাহি চাও,
কত বন ভূমিরে আঁখি-নীরে ভাসাও —
			হে উদাসীন আনমনে।।

চীন আরব হিন্দুস্থান নিখিল ধরাধাম

বাণী

চীন আরব হিন্দুস্থান নিখিল ধরাধাম।
জানে আমায় চেনে আমায় মুসলিম আমার নাম।।
অন্ধকারে আজান দিয়ে ভাঙনু ঘুমঘোর,
আলোর অভিযান এনেছি রাত করেছি ভোর;
এক সমান করেছি ভেঙে উচ্চ নীচ তামাম।।
চেনে মোরে সাহারা গোবি দুর্গম পর্বত,
মন্থন করেছে সাগর, আমার সিন্ধু রথ;
বয়েছি আফ্রিকা ইউরোপ আমারই তাঞ্জাম।।
পাক মুলুকে বসিয়েছি খোদার মসজিদ,
জগৎ সাক্ষী পাপীদেরকে পিইয়েছি তৌহীদ্‌;
বিরান বনে রচেছি রে হাজার নগর গ্রাম।।

নিশি-ভোরে অশান্ত ধারায় ঝরঝর বারি ঝরে

বাণী

নিশি-ভোরে অশান্ত ধারায় ঝরঝর বারি ঝরে।
আকাশ-পারের বিরহীর বীণা যেন সুর ঝুরে আকুল স্বরে।।
কাহার মদির নিঃশ্বাস আসে
বকুলের বনে ঝরা ফুল বাসে
কর হানি দ্বারে যেন বারে বারে
খোল দুয়ার বলি ডাকে ঘুমঘোরে।।
ডাকে কেয়া বনে ডাহুক কেকা
বিরহের ভার বহি কত আর একা
ম্লান হয়ে এলো চোখে কাজলের লেখা অশ্রু-লোরে।।

সাহারাতে ডেকেছে আজ বান দেখে যা

বাণী

সাহারাতে ডেকেছে আজ বান দেখে যা।
মরুভূমি হ’ল গুলিস্তান, দেখে যা।।
সেই বানেরই ছোঁওয়ায় আবার আবাদ হল দুনিয়া,
শুকনো গাছে মুঞ্জরিল প্রাণ, দেখে যা।।
বিরান মুকুল আবার হ’ল গুলে গুলে গুলজার,
মক্কাতে আজ চাঁদের বাগান, দেখে যা।।
সেই দরিয়ায় পারাপারের তরী ভাসে কোরআন,
ওড়ে তাহে কলেমার নিশান, দেখে যা।।
কাণ্ডারী তার বন্ধু খোদার হজরত মোহাম্মদ,
যাত্রী যারা এনেছে ঈমান, দেখে যা।।
সেই বানে কে ভাসবি রে আয়, যাবি রে কে ফিরদৌস্
খেয়াঘাটে ডাকিছে আজান, দেখে যা।।

শোনালো শ্রবণে শ্যাম শ্যাম নাম

বাণী

শোনালো শ্রবণে শ্যাম শ্যাম নাম
যে নাম শুনি পবনে, যে নাম হৃদি-ভবনে
(সখি) যে নাম ত্রিভুবনে বাজে অবিরাম।।
নাম শোনা লো, শোনা লো
যে নাম শুনে কুলনারী হয় আনমনা লো।
সখি, ধেয়ায় যে নাম প্রতি ঘরে প্রতি জনা লো।
সখি ভোলায় যে গৃহকাজ, ভোলায় যে কুললাজ
যে নাম শুনিতে লো কান পেতে রই
সাধ যায় যে নাম-নামাবলী গায়ে দিয়ে যোগিনী হই।
নহে শুধু রাধিকার, সাধকের সাধিকার, যে নাম জপমালা সই,
তোরা শোনা সেই নাম লো,
তোরা বাহিরে শোনা, তোরা গাহিয়া শোনা
যে নাম অন্তরে জপি অবিরাম লো।।