পরি জাফরানি ঘাগরি চলে শিরাজের পরী

বাণী

পরি’ জাফরানি ঘাগরি চলে শিরাজের পরী
ইরানি কিশোরী হেসে’ হেসে’।।
চপল চটুল রঙ্গে রঙ্গিলা নৃত্য বিভঙ্গে
চলিছে সহেলি এলোকেশে।।
পাপিয়া পিয়া পিয়া ডকে শাখে — পিয়া পিয়া পিয়া পিয়া
কাহারে ভালোবেসে।।
মনে সে শিরাজির নেশা লাগায়
আঁখি-ইঙ্গিতে গোলাপ ফোটায়।
তারি সুরে রহি’ রহি’ বিরহীর রবাব ঝুরে
বুলবুলি পথ ভুলি’ ইহারি লাগি’ এলো এ দেশে।।

আকাশে ভোরের তারা মুখ পানে

বাণী

আকাশে ভোরের তারা মুখ পানে চেয়ে আছে
ঝরা-ফুল অঞ্জলি পড়ে আছে,পা'র কাছে।
	দেবতা গো,জাগো জাগো জাগো।।
আঁধার-ঘোমটা খুলি শতদল আঁখি তুলি'
পৃথিবী প্রসাদ যাচে দেবতা গো,জাগো।।
কপোত-কণ্ঠে শোন তব বন্দনা বাজে
তোমারে হেরিতে ঊষা দাঁড়ায় বধূর সাজে।
দেবতা,তোমার লাগি'আজি আছি নিশি জাগি’'
ভীরু এ মনের কলি হের,দল মেলিয়াছে।
	দেবতা গো,জাগো।।

মেঘ-বিহীন খর-বৈশাখে

বাণী

মেঘ-বিহীন খর-বৈশাখে
তৃষায় কাতর চাতকী ডাকে।।
সমাধি-মগ্না উমা তপতী —
রৌদ্র যেন তার তেজঃ জ্যোতি,
ছায়া মাগে ভীতা ক্লান্তা কপোতী —
কপোত-পাখায় শুষ্ক শাখে।।
শীর্ণা তপিনী বালুচর জড়ায়ে
তীর্থে চলে যেন শ্রান্ত পায়ে।
দগ্ধ-ধরণী যুক্ত-পাণি
চাহে আষাঢ়ের আশিস বাণী
যাপিয়া নির্জলা একদশীর তিথি
পিপাসিত আকাশ যাচে কাহাকে।।

আমি আছি ব'লে দুখ পাও তুমি

বাণী

আমি আছি  ব'লে দুখ পাও তুমি তাই আমি যাব চ'লে
এবার ঘুমাও প্রদীপের কাজ শেষ হয়ে গেছে জ্ব'লে।।
	আর আসিবে না কোন অশান্তি
	আর আসিবে না ভয়ের ভ্রান্তি
আর ভাঙিব না ঘুম নিশীথে গো 'জাগো প্রিয়া জাগো' বলে।।
হয়তো আবার সুদূর শূন্য আকাশে বাজিবে বাশিঁ,
গোপী-চন্দন গন্ধ আসিবে বাতায়ন পথে ভাসি'।
	চম্পার ডালে বিরহী পাপিয়া
	'পিয়া পিয়া' বলে উঠিবে ডাকিয়া
বৃন্দাবন কি ভাসিবে (আসিবে) সেদিন রোদন-যমুনা জলে।।

কা’বার জিয়ারতে তুমি কে যাও

বাণী

কা’বার জিয়ারতে তুমি কে যাও মদিনায়।
আমার সালাম পৌঁছে দিও নবীজীর রওজায়।।
	হাজিদের ঐ যাত্রা-পথে
	দাঁড়িয়ে আছি সকাল হ’তে,
কেঁদে’ বলি, কেউ যদি মোর সালাম নিয়ে যায়।।
পঙ্গু আমি, আরব সাগর লঙ্ঘি কেমন ক’রে,
তাই নিশিদিন কাবা যাওয়ার পথে থাকি প’ড়ে।
	বলি, ওরে দরিয়ার ঢেউ
	মোর সালাম নিয়ে গেল না কেউ,
তুই দিস্ মোর সালামখানি মরুর ‘লু’-হাওয়ায়।।

নীপ-শাখে বাঁধো ঝুলনিয়া

বাণী

	নীপ-শাখে বাঁধো ঝুলনিয়া,
	কাজল-নয়না শ্যামলিয়া॥
	মেঘ-মৃদঙ্গ তালে শিখী নাচে ডালে-ডালে।
	মল্লার গান গাহিছে পবন পূরবিয়া॥
	কেতকী কেশরে কুন্তল করো সুরভি,
পরো	কদম মেখলা কটি-তটে রূপ-গরবী।
	নব-যৌবন জল-তরঙ্গে,
	পায়ে পাঁয়জোর বাজুক রঙ্গে
	কাজরি ছন্দে নেচে চল করতালি দিয়া॥