কেন আমায় আন্‌লি মাগো

বাণী

	কেন আমায় আন্‌লি মাগো মহাবাণীর সিন্ধু কূলে।
মোর	ক্ষুদ্র ঘটে এ সিন্ধু-জল কেমন ক’রে নেবো তুলে।।
	চতুর্বেদে এই সিন্ধুর জল
	ক্ষুদ্র চারিবিন্দু হয়ে করছে টলমল,
	এই বাণীরই বিন্দু যে মা গ্রহ তারা গগন মূলে।
	ইহারই বেগ ধরতে শিরে, শিবের জটা পড়ে খুলে।।
	অনন্তকাল রবি-শশী এই সে-মহাসাগর হ’তে,
	সোনার ঘটে রসের ধারা নিয়ে ছড়ায় ত্রিজগতে।
	বাঁশিতে মোর স্বল্প এ আধারে
	অনন্ত সে-বাণীর ধারা ধরতে কি মা পারে?
	শুনেছি মা হয় সীমাহীন ক্ষুদ্রও তোর চরণ ছুঁলে।।

বনে যায় আনন্দ-দুলাল

বাণী

বনে যায় আনন্দ-দুলাল
বাজে চরণে নূপুরের রুনুঝুনু তাল
বনে যায় গোঠে যায়।
ও কি নন্দ-দুলাল, ও কি ছন্দ-দুলাল
ও কি নন্দন-পথ, ভোলা নৃত্য-গোপাল।।
বেণু-রবে ধেনুগণ আগে যেতে পিছে চায়
ভক্তের প্রাণ গ'লে উজান বহিয়া যায়
লুকিয়ে দেখিতে এলো দেবতারি দল (তায়)
হয়ে কদম তমাল-
ব্রজ-গোপিকার প্রাণ তার চরণে নূপুর
শ্রীমতী রাধিকা তার বাশরির সুর।
সে যে ত্রিলোকের স্বামী তাই ত্রিভঙ্গ-রূপ
করে বিশ্বের রাখালি সে চির-রাখাল।।

ত্রিজগত আলো করে আছে

বাণী

	ত্রিজগত আলো করে আছে কালো মেয়ের পায়ের শোভা।
	মহাভাবে বিভোর শঙ্কর, ঐ পা জড়িয়ে মনোলোভা।।
	দলে দলে গগন বেয়ে গ্রহ তারা এলো ধেয়ে,
ঐ	চরণ শোভা দেখবে বলে, ঐ পায়ের নূপুর হওয়ার ছলে
সেই	শোভা কেমন বলতে গিয়ে ব্রহ্ম হলো চিরমৌনী বোবা।।
ঐ	চরণ শোভা দেখার তরে, যোগী থাকেন ধেয়ান ধ'রে
	ত্রিভুবন ভুলে অনন্তকাল যোগী থাকেন ধেয়ান ধ'রে।
	ও শুধু চরণ শোভা নয়, ঐ যে পরব্রহ্ম জ্যোতি
	শ্রী চণ্ডী বেদ পুরাণে ওরই প্রেম-আরতি
মা	দেখ্‌ত যদি নিজের চরণ নিজেই দিত বিল্বজবা
	আপনার ঐ রাঙা পায়ে নিজেই দিত বিল্বজবা।।

নেহি তোড়ো ইয়ে ফুলোঁ কি

বাণী

নেহি তোড়ো ইয়ে ফুলোঁ কি ডালি রে হা।
মালি ভোমরা বুলবুল তেরি গালি রে হা।।
যাও সওতন কে পাশ শুনো ভিগা ভিগা বাত
ম্যায়তো হোনেকা চাহতি হুঁ প্রীত বিমার —
আভি চাহ ফেকা যায়েগা কালীরে হা।।
হায়রে হায় বান্দা আব দালা যৌবন আভি
আভি ফুলো মে নেহি আয়ি হ্যায় সৌগন্ধ,
আভি গালো পে আয়ি নেহি লালীরে হা।।
নেহি আও আভি নাজানে পাও নেহি বাত
আভি ছোটি হ্যায় ফুল কলি কাচ্চা আনার
যৌবন সে ম্যায় অব তক আনজানে হা।।

কিছু নাহি যার তোমারে দিবার

বাণী

কিছু নাহি যার তোমারে দিবার কি তার ভিক্ষা লবে!
তুমি কেঁদে গেলে আমারে শুধুই নীরবে কাঁদিতে হবে।।
	হেথা একদিন কিশোর বেলায়
	বেঁধেছিনু ঘর পুতুল-খেলায়,
সে সাথি আমার ফিরিবে না আর নব বসন্ত-উৎসবে।।
একদা হেথায় ফুটেছিল হেনা,
সে-ফুল আবার ফুটিবে হেথায় সে তো আর আসিবে না
	ওগো ভিখারি কি দিব তোমায়
	শূন্য দেউলে কুসুম শুকায়,
ক্ষমিও আমার শত অপরাধ, ভিখারিনী আমি ভবে।।

মোরা কুসুম হয়ে কাঁদি কুঞ্জবনে

বাণী

মোরা	কুসুম হয়ে কাঁদি কুঞ্জবনে
		সুন্দর শ্যাম হে
আমি	মরিতে চাহি ঝরি' তব চরণে
		সুন্দর শ্যাম হে।
	ওগো সুন্দর শ্যাম হে।।
মোর	ক্ষণিক এ জীবন নিশি শেষে
প্রিয়	ঝ'রে যাব গো স্রোতে ভেসে
বঁধু	কাছে এসে ছুয়ো ভালবেসে
	জাগায়ো প্রেম-মধু গোপন মনে
		সুন্দর শ্যাম হে।।
তব	সরস পরশ দিয়ে মনোহর
মোর	এ তনু রঙে রসে পূর্ণ করো
আমি	তোমার বুকে রবো পরম সুখে
	ঝরিব প্রিয়, চাহি' তব নয়নে
		সুন্দর শ্যাম হে।।
মোর	বিদায় বেলা ঘনায়ে আসে
মোর	প্রাণ কাদেঁ মিলন-পিয়াসে
এই	বিরহ মম ওগো প্রিয়তম,
	মিটিবে সে কোন শুভ লগনে,
		সুন্দর শ্যাম হে।।