শুভ্র সমুজ্জ্বল হে চির–নির্মল

বাণী

শুভ্র সমুজ্জ্বল, হে চির–নির্মল শান্ত অচঞ্চল ধ্রুব–জ্যোতি
অশান্ত এ চিত কর হে সমাহিত সদা আনন্দিত রাখো মতি।।
দুঃখ–শোক সহি অসীম সাহসে
অটল রহি যেন সম্মানে যশে
তোমার ধ্যানের আনন্দ–রসে
	নিমগ্ন রহি হে বিশ্বপতি।।
মন যেন না টলে খল কোলাহলে, হে রাজ–রাজ!
অন্তরে তুমি নাথ সতত বিরাজ, হে রাজ–রাজ!
বহে তব ত্রিলোক ব্যাপিয়া, হে গুণী,
ওঙ্কার–সংগীত–সুর–সুরধুনী,
হে মহামৌনী, যেন সদা শুনি
	সে সুরে তোমার নীরব আরতি।।

উদার প্রাতে কে উদাসী এলে

বাণী

		উদার প্রাতে কে উদাসী এলে।
		প্রশান্ত দীঘল নয়ন মেলে’।।
		স্নিগ্ধ সকরুণ তোমার হাসি
		আঘাত করে যেন আমারে আসি’,
পাষাণ সম তব মৌন মূরতি মোর বুকে বিষাদের ছায়া কেন ফেলে।।
		উন্মন ভিখারি গো বল মোর কাছে
		শূন্য হৃদয় তব কোন মন যাচে,
অশ্রু তুষার ঘন বিগ্রহ তব গলিয়া পড়িবে প্রেমে কার মালা পেলে।।

জনম জনম তব তরে কাঁদিব

বাণী

জনম জনম তব তরে কাঁদিব।
যত হানিবে১ হেলা ততই সাধিব।।
	তোমারি নাম গাহি’ 
	তোমারি প্রেম চাহি’,
ফিরে ফিরে নিতি তব চরণে আসিব।।২
জানি জানি বঁধু, চাহে যে তোমারে,
ভাসে সে চিরদিন নিরাশা-পাথারে।
	তবু জানি হে স্বামী৩
	কোন্ সে-লোকে আমি,
তোমারে পাব বুকে বাহুতে বাঁধিব।।

১. যত করিবে, ২. ফিরে ফিরে আমি তব চরণে আসিব, ৩. জীবন-স্বামী

আজো হেথা তেমনি ধারা বাজে

বাণী

আজো হেথা তেমনি ধারা বাজে শ্যামের বাঁশরি।
আজো হেথা নিশীথরাতে কুঞ্জে আসে কিশোরী।।
বাঁশির তানে শ্রীযমুনা তেমনি উজান বয়
গোঠে গিয়ে বৎস ধেনু উর্ধ্বমুখী রয়।
	কে বলে শ্যাম চ’লে গেছে
	যায়নি ব্রজেই কানু আছে
সে কিরে সই থাকতে পারে বৃন্দাবন পাসরি।।

নাটিকাঃ ‘মীরাবাঈ’

ভেঙো না ভেঙো না বঁধু তরুণ চামেলি

বাণী

ভেঙো না ভেঙো না বঁধু তরুণ চামেলি-শাখা।
ফুলের নজ্‌রানা এর আজিও পাতায় ঢাকা।।
	কুঞ্জ-দ্বারে থাকি’ থাকি’
	বৃথা এত ডাকাডাকি,
আজিও এ বনের পাখি ঘুমায় হের গুটিয়ে পাখা।।
	অসময়ে হে রসময়
	ভাঙিয়ো না লতার হৃদয়,
তনুতে এলে অনুরাগ হেরিবে না ফাঁকা ফাঁকা।।
	আসছে-ফাগুন মাসে
	আসিও ইহার পাশে,
আজ যে-লতা কয় না কথা, সেদিন তা'য় যাবে না রাখা।।

জাগো মালবিকা জাগো মালবিকা

বাণী

জাগো মালবিকা! জাগো মালবিকা!
ডাকে তোমায় গগন-সীমায় মেঘ-বালিকা।।
বরষার মিনতি মানো, মেঘপানে ভুরু হানো,
বন-ডালি ভরি' আনো নীপ-যূথিকা।।
তব অবগুণ্ঠন খোলো, তমাল ঝুলনায় দোলো,
তরঙ্গ-লহরি তোলো সাগরিকা।।