নদী এই মিনতি তোমার কাছে

বাণী

নদী এই মিনতি তোমার কাছে।
ভাসিয়ে নিয়ে যাও আমারে যে দেশে মোর বন্ধু আছে।।
নদী, তোমার জলের পথ ধ’রে সে চ’লে গেল একা,
আমি সেই হ’তে তার পথ চেয়ে রই, পেলাম না আর দেখা,
ধূলার এ পথ নয় সে বন্ধু থাকবে চরণ-রেখা।
আমি মীন হয়ে রহিব জলে, ছুট্‌ব ঢেউ-এর পাছে।।
আমি ডুবে যদি মরি, তোমার নয় সে অপরাধ,
কুলে থেকে পাইনে খুঁজে, তাই জেগেছে সাধ।
আমি দেখ্‌ব ডু’বে তোমার জলে আছে কি মোর চাঁদ,
বড় জ্বালা বুকে রে নদী টেনে লহ কাছে
	নদী, অভাগা এই যাচে।।

আজি এ কুসুম-হার সহি কেমনে

বাণী

		আজি এ কুসুম-হার	সহি কেমনে।
		ঝরিল যে ধূলায়		চির-অবহেলায়
		কেন এ অবেলায়		পড়ে তারে মনে।।
		তব তরে মালা		গেঁথেছি নিরালা
		সে ভরেছে ডালা		নিতি নব ফুলে।
(আজি)	তুমি এলে যবে		বিপুল গরবে
		সে শুধু নীরবে		মিশাইল বনে।।
		আঁখিজলে ভাসি’		গাহিত উদাসী
		আমি শুধু হাসি’		আসিয়াছি ফিরে।
(আজি)	সুখ-মধুমাসে		তুমি যবে পাশে
		সে কেন গো আসে	কাঁদাতে স্বপনে।।
		কার সুখ লাগি’		রে কবি বিবাগী,
		সকল তেয়াগি’		সাজিলি ভিখারি।
(তুই)	কার আঁখিজলে		বেঁচে র’বি ব’লে
		ফুলমালা দ’লে		লুকালি গহনে।।

লহ রাজ রাজ আনিয়াছি মালা

বাণী

	লহ রাজ রাজ, আনিয়াছি মালা।
	আনিয়াছি মালা, ভরি’ তনু-ডালা।।
	এনেছি ছলছল নয়ন-পাতে
	প্রেম-সুধা-রস মালার সাথে,
	অধরে অনুরাগ-রাঙা পিয়ালা।।
	এনেছি প্রীতির মালতী-বকুল
	রস টলমল রূপের মুকুল,
(যেন)	বৃথা না যায় শুভলগ্ন নিরালা।।

নাটক : ‘অর্জুন বিজয়’

হায় ভিখারি কাহার কাছে হাত পাতিলে হায়

বাণী

হায় ভিখারি কাহার কাছে হাত পাতিলে হায়।
তোমার চেয়েও আমি যে দীন কাঙাল অসহায়।।
	আমার হয়ত কিছু ছিল কভু
	সব নিয়েছেন কেড়ে প্রভু
আমায় তিনি নেননি তবু তাঁহার রাঙা পায়।।
তোমায় তিনি পথ দেখালেন ভাবনা কিসের ভাই
তোমার আছে ভিক্ষা ঝুলি আমার তাহাও নাই।
	চাইনে তবু আছি পড়ে
	সংসারে জড়িয়ে ধরে
কবে তোমার মতন পথের ধূলি মাখব সারা গায়।।

সবুজ শোভার ঢেউ খেলে যায়

বাণী

সবুজ শোভার ঢেউ খেলে যায়
নবীন আমন ধানের ক্ষেতে।।
হেমন্তের ঐ শিশির-নাওয়া হিমেল হাওয়া
	সেই নাচনে উঠলো মেতে।।
টইটুম্বুর ঝিলের জলে
কাঁচা রোদের মানিক ঝলে
চন্দ্র ঘুমায় গগন-তলে সাদা মেঘের আঁচল পেতে।।
নটকানো রঙ শাড়ি প’রে কে বালিকা
ভোর না হতে যায় কুড়াতে শেফালিকা।
	আনমনা মন উড়ে বেড়ায়
	অলস প্রজাপতির পাখায়
মৌমাছিদের সাথে সে চায় কমল-বনের তীর্থে যেতে।।

তুই জগত-জননী শ্যামা

বাণী

তুই জগত-জননী শ্যামা আমি কি মা জগত ছাড়া,
কোন দোষে মা তুই থাকিতে আমি চির মাতৃহারা।।
পুত্র অপরাধী ব'লে মা কি তারে নেয় না কোলে,
মা শাসন করে মারে-ধরে তবু কাছ ছাড়া করে না তারা।
কোন দোষে মা তুই থঅকিতে আমি চির মাতৃহারা।।
ছেলের চোখে ঠুলি দিয়ে কি মা নিজেরে লুকিয়ে রাখে
ছেলের দুঃখে মা উদাসীন দেখিনি তো এমন মাকে।
মাতৃস্নেহ পেলে শ্যামা এমন মন্দমতি হতেম না মা
তুই যাহারে হানিস হেলা তার কে মোছাবে নয়ন-ধারা
কোন দোষে মা তুই থাকিতে আমি চির মাতৃহারা।।