বুকে তোমায় নাই বা পেলাম

বাণী

বুকে তোমায় নাই বা পেলাম রইবে আমার চোখের জলে।
ওগো বঁধু! তোমার আসন গভীর ব্যথায় হিয়ার তলে।।
	আসবে যখন তিমির রাতি
	রইবে না কেউ জাগার সাথী,
আসবে সে-দিন জ্বালব বাতি — মুছব নয়ণ-জল আঁচলে।।
নাইবা হলাম প্রিয় তোমার, বন্ধু হ’তে দোষ কি বঁধু?
মুখের ‘মধু’র তৃষ্ণা শেষে আমি দিব বুকের মধু।
আমি ভালোবাসিনি ত’, ভালোবাসা পাবার ছলে।।
	বাহুর পাশে প্রিয়ায় বেঁধে’
	আমার তরে উঠ্‌বে কেঁদে,
সেই তো আমার জয় গো, প্রিয়, অন্তরে রই, রই না গলে।।

আমি রচিয়াছি নব ব্রজধাম হে মুরারি

বাণী

আমি	রচিয়াছি নব ব্রজধাম হে মুরারি
সেথা	করিবে লীলা এসো গোলক-বিহারী।।
মোর	কামনার কালীদহ করি মন্থন
	কালীয় নাগে হরি করিও দমন
আছে	গিরি-গোরবর্ধন মোর অপরাধ
যদি	সাধ যায় সেই গিরি ধ'রো গিরিধারী।।
আছে	ষড় রিপু কংসের অনুচর দল
আছে	অবিদ্যা পুতনা শোক দাবানল
আছে	শত জনমের সাধ আশা-ধেনুগণ
আছে	অসহায় রোদনের যমুনা-বারি
আছে	জটিলতা কুটিলতা প্রেমের বাধা
হরি	সব আছে, নাই শুধু আনন্দ-রাধা
তুমি	আসিলে হরি ব্রজে রাসেশ্বরী
	আসিবেন হ্লাদিনী রূপে রাধা প্যারী।।

জয় হোক জয় হোক

বাণী

জয় হোক জয় হোক —
শান্তির জয় হোক, সাম্যের জয় হোক্,
সত্যের জয় হোক জয় হোক॥
সর্ব অকল্যাণ পীড়ন অশান্তি
সর্ব অপৌরুষ মিথ্যা ও ভ্রান্তি,
হোক ক্ষয়, ক্ষয় হোক জয় হোক জয় হোক॥
দূর হোক অভাব ব্যাধি শোক
দুখ দৈন্য গ্লানি বিদ্বেষ অহেতুক,
মৃত্যুবিজয়ী হোক্ অমৃত লভুক —  
ভয়-ভীত দুর্বল নির্ভয় হোক।
রবে না এ শৃঙ্খল উচ্ছৃঙ্খলতার
বন্ধন কারাগার হবে হবে চুরমার,
পার হবে বাধার গিরি মরু পারাবার —  
নির্যাতিত ধরা মধুর, সুন্দর প্রেমময় হোক,
জয় হোক জয় হোক॥

ওগো চৈতী রাতের চাঁদ যেয়ো না

বাণী

ওগো	চৈতী রাতের চাঁদ, যেয়ো না
	সাধ না মিটিতে যেতে চেয়ো না।।
হের	তরুলতায় কত আশার মুকুল,
ওগো	মাধবী-চাঁদ আজো ফোটেনি ফুল,
তুমি	যেয়ো না, প্রিয় যেয়ো না —
ঝরা	মুকুলে বনবীথি ছেয়ো না
তুমি	যেয়ো না, প্রিয় যেয়ো না, ওগো যেয়ো না।।
আজো	ফুলের নেশায় পাগল দখিন হাওয়া
আজো	বোলেনি পাপিয়া 'পিয়া পিয়া' গাওয়া
তুমি	এখনি বিদায়-গীতি গেয়ো না
তুমি	যেয়ো না, প্রিয় যেয়ো না।।

হেলে দুলে নীর ভরণে ও-কে যায়

বাণী

হেলে দুলে নীর ভরণে ও-কে যায়।
(কিশোরী) ছল ক’রে কলসী নাচায়।।
দুলে দোদুল তনু-লতা, বাহু দোলে, দুলে অঞ্চল চঞ্চল বায়।
দুলে বেণী, দুলে চাবি আঁচলায়।।
নাচে জল-তরঙ্গে তটিনী রঙ্গে জলদ্ দাদ্‌রা বাজায়,
(তার পায়) মম পরান নূপুর হতে চায়।।

হরি হে তুমি তাই দূরে থাক স’রে

বাণী

হরি হে তুমি তাই দূরে থাক স’রে
হরি প্রভু বলে মোরা দূরে রাখি
পাষাণ দেউলে রাখিয়াছি হায় তোমারে পাষাণ করে॥
তোমায় চেয়েছিল গোপিনীরা
সেদিনও চেয়েছি মীরা ডেকে প্রিয়তম বলে
তোমায় গোপাল বলিয়া ডাকিয়া পাইল যশোদা মা শচী কোলে
অন্তরতম হতে নিশিদিন থাক তুমি অন্তরে॥
দেবতা ভাবিয়া পূজা দিই মোরা তুমি তাহা নাহি খাও
তুমি লুকায়ে ভিখারি সাজিয়া মোদের পাতের অন্ন চাও।
রাখাল ছেলের আধ খাওয়া ফল
কেড়ে খাও তুমি হে চির সজল
মোরা ভয় করি তাই লুকাইয়া থাক তুমি অভিমান ভরে॥