নৃত্যকালী শঙ্কর সঙ্গে নাচে

বাণী

নৃত্যকালী শঙ্কর সঙ্গে নাচে অতি রুদ্র-বিহঙ্গে।
ছন্দ ঝরে ঝর্ঝর ধারায় মন্দাকিনী গঙ্গা তরঙ্গে।।
মুক্তবেণী ধূর্জটি-জটা বিধূনিত অম্বরে দোলে
সসাগরা ভীতা পৃথ্বী কাঁপে মহাবিষ্ণুর কোলে,
বাজে ঘোর ডম্বরু শিঙ্গা উল্কা ছোটে ভ্রুকুটি ভঙ্গে।।
মৃত্যু-ক্ষুধা জাগিল একি রে, সৃষ্টি-স্থিতি সংহার মানসে।
পঞ্চভূত চিত্ত অহঙ্কার ব্রহ্মা-হরি লয় হ’ল ব্রহ্মে
উগ্র তারা রুদ্রেরে আবরি’ নাচে একা উন্মাদ দম্ভে,
একি হেরি মূর্ছিতা শক্তি সোহম্ শিব আমারি অঙ্গে।।

কালো জল ঢালিতে সই

বাণী

		কালো জল ঢালিতে সই চিকন কালারে পড়ে মনে।
		কালো মেঘ দেখে শাওনে সই পড়্ল মনে কালো বরণে॥
			কালো জলে দীঘির বুকে
			কালায় দেখি নীল-শালুকে
(আমি)	চম্‌কে উঠি, ডাকে যখন কালো কোকিল বনে॥
		কল্‌মিলতার চিকন পাতায় দেখি আমার শ্যামে লো
		পিয়া ভেবে দাঁড়াই গিয়ে পিয়াল গাছের বামে লো।
			উড়ে গেলে দোয়েল পাখি
			ভাবি কালার কালো আঁখি
		আমি নীল শাড়ি পরিতে নারি কালারি কারণে লো কালারি কারণে॥

থির হয়ে তুই ব’স দেখি মা

বাণী

থির হয়ে তুই ব’স দেখি মা খানিক আমার আঁখির আগে
দেখব নিত্য লীলাময়ী থির হলে তুই কেমন লাগে।।
	শান্ত হ’লে ডাকাত মেয়ে
	কেমন দেখায় দেখব চেয়ে (মা গো)
চিন্ময় শিব শম্ভু কেন চরণ-তলে শরণ মাগে।।
দেখব চেয়ে জননী তুই সাকারা না নিরাকারা
কেমন করে কালি হয়ে নামে ব্রক্ষ্মজ্যোতিধারা।
	কোলে নিতে কোলের ছেলে
	শ্মশান জাগিস বাহু মেলে
কেমন ক’রে মহামায়া তোর বুকে মায়া জাগে।।

যত নাহি পাই দেবতা তোমায়

বাণী

যত নাহি পাই দেবতা তোমায় , তত কাঁদি আর পূঁজি।
ত্ই লুকাও ধরা নাহি দাও, ততই তোমারে খুঁজি
কত সে রূপের রঙের মায়ায়, আড়াল করিয়া রাখ আপনায়
তবু তব পানে অশান্ত মন কেন ধায় নাহি বুঝি।।
কাঁদালে যদি গো এমন করিয়া কেন প্রেম দিলে তবে
অন্তবিহীন এ লুকোচুরির শেষ হবে নাথ কবে?
সহে না হে নাথ বৃথা আসা যাওয়া-
জনমে জনমে এই পথ চাওয়া
কাঁদিয়া কাঁদিয়া ফুরায়ে গেল চোখের জলের পুঁজি।।

এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো

বাণী

এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি বিছানো পথে।
এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ-রথে।।
দলি, শাপলা শালুক শতদল এসো রাঙায়ে তোমার পদতল
নীল লাবনি ঝরায়ে চলচল এসো অরণ্য পর্বতে।।
এসো ভাদরের ভরা নদীতে ভাসায়েকেতকী পাতার তরণী
এসো বলাকার রঙ পালক কুড়ায়ে বাহি’ ছায়াপথ-সরণি।
শ্যাম শস্যে কুসুমে হাসিয়া এসো হিমেল হাওয়ায় ভাসিয়া
এসো ধরনীরে ভালোবাসিয়া দুর নন্দন-তীর হতে।।

আমরা পানের নেশার পাগল

বাণী

আমরা পানের নেশার পাগল, লাল শারাবে ভর গেলাস
পান-বেহুশে আয় রেখে ঐ সাকির বিলোল্ আঁখির পাশ।।
চাঁদ পিয়ালায় রবির কিরণ ঢালার মতো শারাব ঢাল,
ছায় না যেন দিনের আনন কস্তূরী-কেশ খোঁপার ফাঁস।।
শারাবখানার সদর-ঘরে বসো খানিক ধর্মাধিপ,
এই আনন্দ-ধারায় নেয়ে নাও ধুয়ে সব পাপের রাশ।।
মোমের বাতির মতো, সুফী কেঁদে গলাও আপনাকে!
এই বিষাদ এই ব্যথার পারে দাও আনন্দ ভর্‌-আকাশ।।
নূতন দিনের বধূ যদি আসে তোমার, খোশ-নসিব!
যৌতুক তায় দিও লিখে হাফিজের এই প্রেম-বিলাস।।