এ কি অপরূপ রূপের কুমার

বাণী

এ কি অপরূপ রূপের কুমার হেরিলাম সখি যমুনা কূলে,
তার	এ সুনীল লাবনি গলিয়া গলিয়া ঢলিয়া পড়িছে গগন-মূলে।।
যেন	কমল ফুটেছে সখি, সহস্র-দল রূপে-কমল ফুটেছে,
	রূপের সাগর মন্থন করি’ সখি চাঁদ যেন উঠছে। সখি গো —
	কালো সে রূপের মাঝে হয়ে যায় হারা
	কোটি আলো-রাধিকা-রবি, শশী, তারা,
	প্রেম-যমুনার তীরে সই আমি রিবধি দেখি তারে,
		দেখি আর চেয়ে রই।
	আমি এই রূপ চেয়ে থাকি
সখি	জনমে জনমে জীবনে মরণে এই রূপ চেয়ে থাকি।
ঐ	মোহন কালোর গহন কাননে হারাইয়া যাক আঁখি।।

বিরহের অশ্রু সায়রে বেদনার শতদল

বাণী

বিরহের অশ্রু সায়রে বেদনার শতদল
উদাসী অশান্ত বায়ে টলে টলমল টলমল।।
	তব রাঙা পদতলে, প্রিয়
	এই শতদলে রাখিয়ো,
বাজাইও মধুকর বীণা অনুরাগ-চঞ্চল।।
ঝড় এলো, এলো এলায়ে মেঘের কুন্তল
তুমি কোথায়, হায়, নিরাশায় ঝরে কমল-দল।
	কেমনে কাটে তব বেলা
	কোথা কোন লোকে একেলা;
দুই কূলে  দুই জন কাঁদি, মাঝে নদী ছলছল।।

সকাল সাঁঝে প্রভু সকল কাজে

বাণী

সকাল সাঁঝে প্রভু সকল কাজে উঠুক তোমারি নাম —
				বেজে উঠুক তোমারি নাম।
নিশীথ রাতে তারার মত উঠুক তোমারি নাম —
				বেজে উঠুক তোমারি নাম।।
তরুর শাখায় ফুলের সম
বিকশিত হোক (প্রভু) তব নাম নিরুপম,
সাগর মাঝে তরঙ্গ সম বহুক তোমারি নাম।।
পাষাণ শিলায় গিরি নির্ঝর সম বহুক তোমারি নাম
অকুল সমুদ্রে ধ্রুবতারা-সম জাগি’ রহুক তব নাম
				প্রভু জাগি’ রহুক তব নাম।
	শ্রাবণ দিনে বারি ধারার মত
	ঝরুক ও নাম প্রভু অবিরত
মানস কমল বনে মধুকর সম লুটুক তোমারি নাম।।

নাটক: ‌‘রূপকথা’

ঝলমল জরীণ বেণী দুলায়ে

বাণী

ঝলমল জরীণ বেণী দুলায়ে প্রিয়া কি এলে 
সজল শাওন-মেঘে কাজল নয়ন মেলে।।
কেয়া ফুলের পরিমল, ঝুরে মরে তব পথে,
হেরি দীঘল তব তনু তাল পিয়াল তরু পড়ে হেলে’।।
পরিবে বলিয়া খোঁপায় ঝরিছে বকুল চাঁপা
তোমায় খুঁজিছে আকাশ তারার প্রদীপ জ্বেলে।।
তোমারি লাবনি প্রিয়া ঝরিছে শ্যামল মেঘে,
ফুটালে ফুল মরুভূমে চঞ্চল চরণ ফেলে।।

উজান বাওয়ার গান গো এবার

বাণী

উজান বাওয়ার গান গো এবার, গাস্‌নে ভাটিয়ালি
		আর গাস্‌নে ভাটিয়ালি।
নূতন আশার চাঁদ উঠেছে কুম্‌ড়ো জালির ফালি
		যেন কুম্‌ড়ো জালির ফালি।।
বান এসেছে, বাঁধ ভেঙেচে, নায়ে দোলা লাগে
আড়-বাঁশিতে তান ছেড়ে তুই দাঁড়্‌ বেয়ে চল্‌ আগে
দেখ্‌ জোয়ার-জলে ডু’বে গেছে চরের চোরাবালি।।
কালো বউ-এর চোখ যেন, দেখ্‌ মৌরলা মাছ ভাসে
গাঙ্‌চিল আর জল-পায়রা উড়ছে মুখের পাশে,
শোন্‌ বউ কথা কও পাখি, মোদের করছে দূতিয়ালি।।
জল নিয়ে বৌ দাঁড়িয়ে আছে, গাছে কচি ডাব
লোক্‌সানেরই হিসাব দেখিস, লাভের কথা ভাব্‌,
সাজ্‌ রে তামুক, নামুক দেয়া, দুক্ষু ত ইজমালি।।

কারার ঐ লৌহকপাট

বাণী

কারার ঐ লৌহ-কপাট
ভেঙ্গে ফেল্ কর্‌ রে লোপাট রক্ত-জমাট
শিকল-পূজার পাষাণ-বেদী!
ওরে ও তরুণ ঈশান!
বাজা তোর প্রলয়-বিষাণ! ধ্বংস-নিশান
উঠুক প্রাচী-র প্রাচীর ভেদি’॥
গাজনের বাজনা বাজা!
কে মালিক? কে সে রাজা? কে দেয় সাজা
মুক্ত-স্বাধীন সত্য কে রে?
হা হা হা পায় যে হাসি, ভগবান প’রবে ফাঁসি? সর্বনাশী —
শিখায় এ হীন্ তথ্য কে রে?
ওরে ও পাগ্‌লা ভোলা, দেরে দে প্রলয়-দোলা গারদগুলা
জোরসে ধ’রে হ্যাঁচকা টানে।
মার্‌ হাঁক হায়দরী হাঁক্ কাঁধে নে দুন্দুভি ঢাক ডাক ওরে ডাক
মৃত্যুকে ডাক জীবন-পানে॥
নাচে ঐ কাল-বোশেখী, কাটাবি কাল ব’সে কি?
দে রে দেখি ভীম কারার ঐ ভিত্তি নাড়ি’।
লাথি মার, ভাঙ্‌রে তালা! যত সব বন্দী-শালায় —
আগুন জ্বালা, আগুন জ্বালা, ফেল্ উপাড়ি॥

সিনেমাঃ ‘চট্রগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন’