জয় পীতাম্বর শ্যাম সুন্দর

বাণী

উভয়ে	:	জয় পীতাম্বর শ্যাম সুন্দর মদন মনোহর কাননচারী।
		গোপী-চন্দন আমোদিত তনু বনমালী হরি বংশীধারী।।
ধ্রু	:	চাঁচর চিকুরে শোভে শিখী-পাখা,
		বাঁকা ত্রিভঙ্গিমা চারু নয়ন-বাঁকা।
সু	:	ও বাঁকা রূপ যেন মর্মে রহে আঁকা
		মনে বিরহ কালা বন-বিহারী।।
সু	:	ভক্তি প্রেম প্রীতি তব রাঙা পায়
ধ্রু	:	নূপুর হ’য়ে হরি, যেন বাজিয়া যায়,
সু	:	জনমে জনমে কৃষ্ণ-কথা গায়
		যেন এ দেহ মন শুক-শারি।।

নাটক : ‘ধ্রুব’ (ধ্রুব ও সুনীতির গীত)

রিনিকি ঝিনিকি ঝিনিরিনি রিনি ঝিনিঝিনি বাজে

বাণী

রিনিকি ঝিনিকি ঝিনিরিনি রিনি ঝিনিঝিনি বাজে পায়েলা বাজে
নওল কিশোরী ধায় অভিসারে ভবন তেয়াগি' বন-মাঝে।।
	বারণ করে তায়
	লতিকা ধরি' পায়
ভাব-বিলাসিনী না মানে গুরুজন-ভয় লাজে।।
আবেশ বিহ্বল এলোমেলো কুন্তল ছায়া-নটিনী চলে
মধুকর গুঞ্জে মাধবী কুঞ্জে কুসুম দীপালি জ্বলে।
	সে রূপ হেরি' হায়
	মুরলী থামিয়া যায়
পথ-ভোলা শশী কাননে এলো যেন রাধা-সাজে।।

দিও ফুলদল বিছায়ে পথে

বাণী

দিও ফুলদল বিছায়ে পথে বঁধুর আমার।
পায়ে পায়ে দলি’ ঝরা সে-ফুলদল আজি তার অভিসার।।
	আমার আকুল অশ্রুবারি দিয়ে
	চরণ দিও তার ধোয়ায়ে,
মম পরান পুড়ায়ে জ্বেলো দীপালি তাহার।।

ওমা ত্রিনয়নী! সেই চোখ দে

বাণী

	ওমা ত্রিনয়নী! সেই চোখ দে যে-চোখ তোরে দেখতে পায়।
	সে নয়ন-তারায় কাজ কি তারা যে-তারা লুকায় মা তারায়।।
আমি 	চাইনে সে-চোখ যে-চোখ দেখে মায়া
	অনিত্য এই সংসারেরই ছায়া,
	যে-দৃষ্টি দেখে নিত্য তোরে সেই দৃষ্টি দে আমায়।।
ওমা 	নিবিয়ে দে এই নয়ন-প্রদীপ দেখায় যাহা দুঃখ শোক,
	এই আলেয়া পথ ভুলিয়ে যায় মা নিয়ে নরক-লোক।
	তোর সৃষ্টি চির-আনন্দময় নাকি
	দেখব সে-লোক, দে মোরে সেই আঁখি,
	দেখে না রোগ-মৃত্যু-জ্বরা তোর সন্তান সেই দৃষ্টি চায়।।

আমার মা ত্বং হি তারা

বাণী

আমার মা ত্বং হি তারা
তুমি ত্রিগুণধরা পরাৎপরা
মা ত্বং হি তারা।
আমি জানি মা ও দীনদয়াময়ী
তুমি দুর্গমেতে দুঃখহরা,
মা ত্বং হি তারা।
তুমি জলে তুমি স্থলে তুমি আদ্যমূলে গো মা,
আছ সর্বঘটে অর্ঘ্যপুটে সাকার আকার নিরাকারা
মা ত্বং হি তারা।
তুমি সন্ধ্যা তুমি গায়ত্রী তুমি জগদ্ধাত্রী গো মা
অকুলের প্রাণকর্ত্রী সদা শিবের মনোহরা।
মা ত্বং হি তারা।।

ওগো তারি তরে মন কাঁদে হায়

বাণী

ওগো	তারি তরে মন কাঁদে হায়, যায় না যারে পাওয়া
	ফুল ফোটে না যে কাননে, কাদেঁ দখিন হাওয়া।।
যে	মায়া-মৃগ পালিয়ে বেড়ায়   
	কেন এ মন তার পিছে ধায়
যে	দ'লে গেল পায়ে আমায় কেন তাহারি পথ চাওয়া।।
যে	আমারে ভুলে হলো সুখি যায় না তারে ভোলা,
যে	ফিরিবে না আর, তারি তরে রাখি দুয়ার খোলা।
	মৌন পাষাণ যে দেবতা
	হেরার ছলে কয় না কথা
	তারি দেউল দ্বারে কেন বন্দনা গান গাওয়া।।