ও সে বাঁশরি বাজায়

বাণী

ও সে		বাঁশরি বাজায় হেলে দুলে যায়
		গোঠে শ্যামরায় নওল কিশোর।
		জোছনা পিয়াসে চাঁদ মুখ পাশে।
		ঘোরে গোপিনীর নয়ন-চকোর।।
		নীল উৎপল ভ্রমে মধুকর
		উড়ে চলে সাথে, ছাড়ি’ সরোবর,
		অঙ্গে গোপী-চন্দন বাস
		লুটিয়া পলায় সমীর-চোর।।
		চরণ-কমলে ভ্রমরের প্রায় —
		সোনার নূপুর গুঞ্জরিয়া যায়।
		শ্যামেরে নবীন নীরদ ভাবিয়া
		নাচিছে ময়ূর কলাপ মেলিয়া,
		ঢেউ তুলে যেন চলে রূপের সায়র।।

ওরে কে বলে আরবে নদী নাই

বাণী

ওরে	কে বলে আরবে নদী নাই
যথা	রহমতের ঢল বহে অবিরল
দেখি	প্রেমে-দরিয়ার পানি
		যেদিকে চাই।।
যাঁর	ক্বাবা ঘরের পাশে আব-এ-জমজম
যথা	আল্লা-নামের বাদল ঝরে হরদম,
		যথা ঝরে হরদম-
যার	জোয়ার এসে দুনিয়ার দেশে দেশে
(ওরে)	পুণ্যের গুলিস্তান রচিল দেখিতে পাই।।
যার	ফোরাতের পানি আজো ধরার ‘পরে
	নিখিল নর-নারীর চোখে ঝরে
(ওরে)	শুকায় না যে নদী দুনিয়ায়,
যার	শক্তি বন্যার তরঙ্গ-বেগে
যত	বিষণ্ন-প্রাণ ওরে আনন্দে উঠল জেগে
যাঁর	প্রেম-নদীতে,যাঁর পুণ্য-তরীতে
		মোরা ত'রে যাই।।

চরণ ফেলি গো মরণ-ছন্দে

বাণী

চরণ ফেলি গো মরণ-ছন্দে মথিয়া চলি গো প্রাণ।
মর্তের মাটি মহিমান করি স্বর্গেরে করি ম্লান।।
	চিতার বিভূতি মাখিয়া গায়
	লজ্জা হানি গো অন্নদায়,
বাঁধিয়াছি বিদ্যুল্লাতায় — দেবরাজ হতমান।
পাতাল ফুঁড়িয়া করি গো মাতাল রসাতল-অভিযান।।

নাটিকা : ‘সেতু-বন্ধ’

যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি

বাণী

যে পাষাণ হানি বারে বারে তুমি আঘাত করেছ, স্বামী,
সে পাষাণ দিয়ে তোমার পূজায় এ মিনতি রাখি আমি।।
	যে আগুন দিলে দহিতে আমারে
	হে নাথ, নিভিতে দিইনি তাহারে;
আরতি প্রদীপ হয়ে তারি বিভা বুকে জ্বলে দিবা-যামী।।
তুমি যাহা দাও প্রিয়তম মোর তাহা কি ফেলিতে পারি,
তাই নিয়ে তব অভিষেক করি নয়নে দিলে যে বারি।
	ভুলিয়াও মনে কর না যাহারে,
	হে নাথ, বেদনা দাও না তাহারে,
ভুলিতে পারো না মোরে, ব্যথা দেওয়া ছলে, তাই নিচে আসো নামি'।।

আশা-নিরাশায় দিন কেটে যায় হে প্রিয় কবে আসিবে

বাণী

আশা-নিরাশায় দিন কেটে যায় হে প্রিয় কবে আসিবে?
প্রতি নিঃশ্বাসে নয়ন প্রদীপ মোর আসিছে নিভে।।
		ফুল ঝরে যায় হায়, পুন ফুল ফোটে
		কৃষ্ণা তিথির শেষে চাঁদ হেসে ওঠে
আমারি নিশীথের অসীম আঁধার ওগো চাঁদ কবে নাসিবে।।
শীত যায় মনোবনে ফাল্গুন আসে গো আসিল না আমারই ফাল্গুন
চাঁদের কিরণে পৃথিবী শীতল হায় মোর বুকে জ্বালে সে আগুন।
		নিশীথে বকুল শাখে
		পিয়া পিয়া পাপিয়া ডাকে
আমারই প্রিয়তম ‘জাগো পিয়া’ বলে কবে ডাকিবে।।

মম তনুর ময়ূর-সিংহাসনে

বাণী

মম তনুর ময়ূর-সিংহাসনে এসো রূপকুমার ফর্‌হাদ্‌।
(মোর)ঘুম যবে ভাঙিল, প্রিয়, গগনে ঢলিয়া পড়িল চাঁদ।।
আমি শিঁরি – হেরেমের নন্দিনী গো
ছিনু অহঙ্কারের কারা-বন্দিনী গো,
ভেবেছিনু তুমি শুধু রূপের পাগল —
বুঝি নাই কা’রে বলে প্রেম-উন্মাদ।।
গিরি-পাষাণে আঁকিলে তুমি যে ছবি মম, দিলে যে মধু,
সেই মধু চেয়ে, সেই শিলা বুকে ল’য়ে কাঁদি,
ফিরে এসো, ফিরে এসো বঁধু।
ল’য়ে যাও সেই প্রেম-লোকে, বিরহী
কাঁদিছে যথায় ‘শিঁরি শিঁরি’ কহি’—
আজ ভরিয়াছে বিষাদের বিলাপে গোলাপের সাধ।।

১. বাদশাহ