আমার মা ত্বং হি তারা

বাণী

আমার মা ত্বং হি তারা
তুমি ত্রিগুণধরা পরাৎপরা
মা ত্বং হি তারা।
আমি জানি মা ও দীনদয়াময়ী
তুমি দুর্গমেতে দুঃখহরা,
মা ত্বং হি তারা।
তুমি জলে তুমি স্থলে তুমি আদ্যমূলে গো মা,
আছ সর্বঘটে অর্ঘ্যপুটে সাকার আকার নিরাকারা
মা ত্বং হি তারা।
তুমি সন্ধ্যা তুমি গায়ত্রী তুমি জগদ্ধাত্রী গো মা
অকুলের প্রাণকর্ত্রী সদা শিবের মনোহরা।
মা ত্বং হি তারা।।

তোর বিদায়-বেলার বন্ধুরে

বাণী

তোর বিদায়-বেলার বন্ধুরে দেখে নে নয়ন পুরে’।
সে যায় মিশে’ ঐ কোন্ দূরে দিন শেষের’ — শেষ সুরে।।
	ঘুমের মাঝে বন্ধু তোর
	ছিঁড়বে বাহুর বাঁধন-ডোর,
যাবে নয়ন, রবে নয়ন-লো — যায় রে বিহগ যায় উড়ে।।
	(তুই) বহাবি নদী কেঁদে
	পাষাণে হৃদয় বেঁধে,
তবু যেতে হবে তায় অসহায় অচিন্ পুরে।।

নাটক : ‘সাবিত্রী’

ঘরে যদি এলে প্রিয়

বাণী

ঘরে যদি এলে প্রিয় নাও একটি খোঁপার ফুল।
আমার চোখের দিকে চেয়ে ভেঙে দাও মনের ভুল।।
অধর কোণের ঈষৎ হাসির আলোকে
বাড়িয়ে দাও আমার গহন কালোকে,
যেতে যেতে মুখ ফিরিয়ে দুলিয়ে যেয়ো দুল।।
একটি কথা ক’য়ে যেয়ো একটি নমস্কার
সেই কথাটি গানের সুরে গাইব বার বার,
হাত ধরে মোর বন্ধু ভুলো তোমার মনের সকল ভুল।।

নাটক : ‘মদিনা’

ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে

বাণী

ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে
শ্রাবণ রজনী আঁধার।
বেদনা-বিজুরি-শিখা রহি’ রহি’ চমকে
মন চাহে প্রেম অভিসার॥
কোথা তুমি মাধব কোথা তুমি শ্যামরায়?
ঝরিছে নয়ন-বারি অঝোর ধারায়,
কদম-কেয়া-বনে
ডাহুকী আনমনে —
সাথি বিনা কাঁদে অনিবার॥

সুন্দর অতিথি এসো এসো কুসুম-ঝরা বনপথে

বাণী

সুন্দর অতিথি এসো, এসো, কুসুম-ঝরা বনপথে,
তোমার আশায় মুকুলগুলি চেয়ে আছে প্রভাত হ'তে।।
	তোমার আসার অনুরাগে
	পাতায় পাতায় শিহর লাগে
কণ্ঠে কুহুর কুজন জাগে ভাসলো আকাশ আলোর স্রোতে।।
চলতে যদি বেদনা পায় তব কোমল চরণ-কমল
বন-বীথিকার পথ-ধূলি ঝরা পল্লব পাপড়ি-দল।
	পেয়ে আজি আসার আভাস
	উতল হ'ল মন্দ বাতাস
চেয়ে আছে উদাসী আকাশ আসবে কবে সোনার রথে।।

আজ উদার আকাশে ছুটির

বাণী

আজ উদার আকাশে ছুটির শঙ্খ-ঘণ্টা বাজায় কে।
প্রবাসীর মন উচাটন, শোনে — ‘দীপ জ্বাল্, উলু দে’।।
	আর মন লাগে নাকো কাজে,
	শ্রবণের কাছে চুড়ি-কঙ্কণ বাজে।
এলোমেলো বায়ে এলো, কবরীর সৌরভ এলো যে।।
কোথা আনন্দ-নন্দিনী কার চন্দন বুঝি ঘষে;
মন মেতে ওঠে মৌমাছি-সম, নন্দন-মধু রসে।
	তৃতীয়া চাঁদের রসকলি পরি’
	বৈষ্ণবী সেজে এলো বিভাবরী;
বাউল-হৃদয়! চল্ রে বাহিরে, হাতে একতারা নে।।